“রামরাজ্য!” পুলিশের নির্দেশে অপহরণকারীদের ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরেও খুন যুবক

"রামরাজ্য!" পুলিশের নির্দেশে অপহরণকারীদের ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরেও খুন যুবক

পুলিশের সামনে অপহরণকারীদের টাকা দিয়েছিল পরিবার। কিন্তু তারপরেও ছাড়া হলো না ২৮ বছরের যুবক সঞ্জিত যাদবকে। টাকা পাওয়ার পর তাকে খুন করে অপহরণকারীরা। পুরো ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যাদব পরিবার পুলিশের সামনে, পুলিশের নির্দেশে অপহরণকারীদের ৩০ লক্ষ টাকা দিয়েছিল বলে দাবি করছে। তা সত্ত্বেও কেন ছাড়া পেল না ছেলে? প্রশ্ন তুলছে যাদব পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তরপ্রদেশে। প্রসঙ্গত যোগী রাজ্যে ক্রমশ বেড়েই চলেছে অপরাধ। কিছুদিন আগেই সেখানে খুন হয়েছেন এক সাংবাদিক। তার মধ্যেই নতুন করে এই ঘটনা সামনে আসে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।

ঘটনাটি সূত্রপাত ২২ জুন। সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশের কানপুরের বাসিন্দা সঞ্জীব যাদব ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২২ জুন তাঁকে অপহরণ করা হয় এবং পরিবারের থেকে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ হিসাবে দাবি করে অপহরণকারীরা।

যাদব পরিবারের কথায় পুলিশের অভিযোগ জানানোর পর অপহরণকারীদের টাকা দেওয়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ। সেই পরামর্শমতো ১৩ জুলাই ৩০ লক্ষ টাকা রেললাইনের ওপর রেখে আসে তার পরিবার। ঘটনাস্থলে ছিল পুলিশও। কিন্তু তারপরেও ছাড়া হয়নি ওই যুবককে।

স্বাভাবিকভাবেই পরের দিন সঞ্জীব না ফিরলে পুলিশের কাছে যায় পরিবারের লোকজন। সেই সময় আশার আলো দেখাতে পারেনি পুলিশ । যদিও এসপি অর্পণ গুপ্তার দাবি, যাদব পরিবারের যাবতীয় অভিযোগ অসত্য।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সুর চড়াচ্ছে শুরু করেছিলেন বিরোধীরা। ১৫ জুলাই কিডন্যাপ হয়ে যাওয়া ওই যুবকের পরিবার দাবি করে, তারা ৩০ লক্ষ টাকার কোন ব্যাগ দেয়নি। ব্যাগে কোন রকম টাকা ছিল না বলেও দাবি করা হয় পরিবারের তরফে। যাতে অপহরণকারীরা ছেলেকে ছেড়ে দেয় সেজন্যই টাকার কথা বলেছিল বলে দাবি করে ওই পরিবার।

কিন্তু তার কিছুদিন পরেই যাদব পরিবারের দাবি করে, তারা পুলিশের চাপে পড়ে টাকা না দেওয়ার কথা বলেছিল। ২৪ জুলাই ওই যুবকের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। টাকা দেয়া সত্ত্বেও তাদের পরিবারের ছেলেকে খুন হতে হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

বৃহস্পতিবার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করে পুলিশ। যদিও তার পরিবারের লোকজনের দাবি, পুলিশের গাফিলতির জন্য মৃত্যু হয়েছে তাদের পরিবারের ছেলে। এই ঘটনার জেরে সাসপেন্ড করা হয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ অর্পণ গুপ্ত সহ সার্কেল অফিসার মনোজ কুমার গুপ্তাকে।

যোগী আদিত্যনাথ এর রাজ্যে ক্রমশই বেড়ে চলেছে অপরাধের সংখ্যা, এই ঘটনা কি সামনে রেখে এমনটাই দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব সহ অন্যান্য বিরোধীরা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.