এ বছর কি হবে দুর্গা পুজোর কার্নিভাল? পুজো নিয়ে ১১ দফা নির্দেশিকা জারি নবান্নের

এ বছর কি হবে দুর্গা পুজোর কার্নিভাল? পুজো নিয়ে ১১ দফা নির্দেশিকা জারি নবান্নের
এ বছর কি হবে দুর্গা পুজোর কার্নিভাল? পুজো নিয়ে ১১ দফা নির্দেশিকা জারি নবান্নের

করোনার কারণে গতবছরও বিশেষ জাঁকজমক হয়নি পুজোয়। এবছরও একই পথ অবলম্বন করল রাজ্য সরকার। নবান্নের তরফে আজই পুজো সংক্রান্ত ১১ দফা নির্দেশিকা জারি করা হল। সেখানে বলা হয়েছে, গতবছরের মতো এবারও হবে না সরকারি কার্নিভাল। নিষেধাজ্ঞা থাকছে মণ্ডপ চত্বরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপরও। এছাড়াও ভিড় এড়াতে পুজো মণ্ডপ খোলামেলা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যে যদিও করোনার সংক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রণে। তবুও পুজোর সময় ভিড় বাড়লে সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাই কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ রাজ্য সরকার। সেই কারণেই জমায়েত এড়ানোর জন্য বন্ধ থাকছে এবছরের ‘‌দুর্গাপুজো কার্নিভাল’‌। এছাড়াও এবার রাজ্যজুড়ে ঠিক কীভাবে দুর্গা পুজো পালন করা হবে, সেই সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশিকা জারি করে দিল নবান্ন।

নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে? একনজরে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক-

১. মণ্ডপ হবে চারদিক খোলা। প্রবেশ এবং বেরনোর পথ হবে আলাদা। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মণ্ডপে যথেষ্ট জায়গা রাখতে হবে।

২. মণ্ডপে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্কের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। যত বেশি সম্ভব স্বেচ্ছাসেবক মণ্ডপে রাখতে হবে। তাঁদের মুখেও মাস্ক থাকা আবশ্যক। দর্শনার্থীদের পাশাপাশি তাঁদেরও মানতে হবে শারীরিক দূরত্ব।

৩.পুজোর সময় অঞ্জলি, সিঁদুরখেলা বা দেবীবরণের মতো রীতিনীতি পালন করা যাবে। তবে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তা করা যাবে। পুজোতে মন্ত্রোচ্চারণের সময় পুরোহিতদের মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে হবে। যাতে দূর থেকে সেই মন্ত্র শুনতে পান দর্শনার্থীরা। অঞ্জলির ফুল বাড়ি থেকে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৪. পুজো মণ্ডপে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা চলবে না।

৫. পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকরা ভিড় করে মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারবেন না। সর্বোচ্চ দু’টি গাড়ি নিয়ে মণ্ডপে ঢুকতে পারবেন তাঁরা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩ পর্যন্ত মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারবেন বিচারকরা।

৬. ভিড় কমাতে পুজো কমিটিগুলিকে বৈদ্যুতিন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার প্রচারের পরামর্শ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

৭. পুজো উদ্বোধন কিংবা বিসর্জন জাঁকজমকপূর্ণ করা চলবে না। সম্ভব হলে ভার্চুয়ালি সারতে হবে পুজো উদ্বোধন। নদী বা পুকুরে বিসর্জনের ক্ষেত্রে সময় বেঁধে দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট টাইম স্লট মেনেই প্রতিমা নিরঞ্জন করতে হবে। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা সরাসরি ঘাটেই আনতে হবে। মাঝে অন্য কোথাও দাঁড়ানো চলবে না।

৮. পুজো সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি অনলাইনে নিতে হবে।

৯. এবছর রাজ্যের তরফে কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে না।

১০. ভিড় কমাতে তৃতীয়া থেকে দর্শনার্থীদের জন্য পুজোমণ্ডপ খুলে দেওয়া হবে।

১১. রাজ্যের তরফে পুজো কমিটিগুলিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।