”এভাবেই বাংলাকে ‘সোনার বাংলায়’ পরিণত করবেন?” শীতলকুচিকাণ্ডে অমিত শাহকে প্রশ্নবাণ অভিষেকের

''এভাবেই বাংলাকে 'সোনার বাংলায়' পরিণত করবেন?'' শীতলকুচিকাণ্ডে অমিত শাহকে প্রশ্নবাণ অভিষেকের
''এভাবেই বাংলাকে 'সোনার বাংলায়' পরিণত করবেন?'' শীতলকুচিকাণ্ডে অমিত শাহকে প্রশ্নবাণ অভিষেকের / ছবি সৌজন্যে- Screengrab from Facebook Video Post By @AbhishekBanerjeeOfficial & @amitshahofficial

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ বাংলার ৫ জেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে চতুর্থ দফার ভোট। আজ মোট ৪৪ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। চতুর্থ দফার ভোটে সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে অশান্তি এবং রক্তপাতের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

তবে, আজকের ভোটে সবথেকে মর্মান্তিক ঘটনা হল কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪ জন যুবকের মৃত্যু। বিনা প্ররোচনায় গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনায় মৃত সকলেই তাঁদের দলের সক্রিয় কর্মী। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার কথা স্বীকার করে বলা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতেই ওই যুবকদের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কয়েকজন। আজ কোচবিহারে চতুর্থ দফার ভোটে মোট ৫ জন মারা গিয়েছেন।

আজকের শীতলকুচির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাংলার রাজ্য- রাজনীতি। বিজেপি শুরু থেকেই বলে আসছে, এবার বাংলায় আসল পরিবর্তন হবে। ‘সোনার বাংলা’ গড়ার সংকল্প নিয়েছে তাঁরা। ভোটে জিতলেই বাংলার মানুষকে এই ‘সোনার বাংলা’ উপহার দেবে বিজেপি, এমনটাই দাবি করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। এদিকে আজকের এই ঘটনাকে সামনে এনে অমিত শাহকে কটাক্ষ করেছেন যুব তৃণমূলের সভাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ট্যুইট করে, প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেন যে, ”এভাবেই বাংলাকে ‘সোনার বাংলায়’ পরিণত করবেন?” এটাই কি সোনার সোনার বাংলা?

শনিবার দুপুরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ট্যুইটারে লেখেন, ‘ভোটের সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে কোচবিহারের ৫ জনের। অমিত শাহ আপনি বাংলাকে যে সোনার বাংলা করার কথা বলেন, এটাই কি আপনাদের বাংলাকে সোনার বাংলায় পরিণত করার রূপকল্প?’

অন্যান্য তৃণমূলের নেতারাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েনও ট্যুুইটে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন। মোদী-শাহকে ‘খুনি’ বলে কটাক্ষ করে বললেন, ‘বিজেপি জানে সুস্থভাবে ভোট হলে ওরা জিততে পারবে না, তাই খুন করছে।’

কোচবিহারের এই নৃশংসতার নিন্দা করছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, দোলা সেন-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা-নেত্রী। এই ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তৃণমূলের তরফে দোলা সেন বলেন যে, ‘মানুষ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে শো-কজ করছে। নিন্দনীয় ঘটনা। এর জবাব বিজেপিকে দেবে মানুষ।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জোড়পাটকির বুথে এই ঘটনা ঘটে। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, এদিন সকাল থেকে মোটামুটি শান্ত ছিল এলাকা। ভোট দিতে গিয়েছিলেন মৃত ওই যুবকরা। তাঁরা ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী এলোপাথারি গুলি চালায়। রক্তাক্ত হন বহু তৃণমূল কর্মী। আহতদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকরা ওই চার যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিকল্পনা করেই গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এরপরই ওই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন ওই এলাকার তৃণমূল কর্মী ও মৃতের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, শুক্রবার রাত থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা মদ্যপ অবস্থায় এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির হয়ে কাজ করছে বাহিনী। তৃণমূল কর্মীদের উপর অকারণে হামলা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভোটের কয়েকদিন আগে থেকেই শীতলকুচির পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের গাড়িতে হামলার পর থেকেই এখান্র পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারপর আজ এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে বাংলায়। এমনিতেই শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এসেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে, ভোটদানে বাধা দিচ্ছে, বিজেপির হয়ে কাজ করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এর জেরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রিপোর্টও পাঠানো হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার এই ঘটনায় ফের একবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাহিকে ঘিরে।

অন্যদিকে সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা গুলি চালানোর অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে কমিশন। বলা হয়েছে, প্রায় ৩০০ জনের একটি দল কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলা করেছিল। সেই কারণেই আত্মরক্ষা করতে, গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে সিআরপিএফ। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.