মানবিকতার নজির! দুষ্প্রাপ্য রক্তদান করে যমজ সন্তানের জননীর জীবনদান যুবকের

মানবিকতার নজির! দুষ্প্রাপ্য রক্তদান করে যমজ সন্তানের জননীর জীবনদান যুবকের
মানবিকতার নজির! দুষ্প্রাপ্য রক্তদান করে যমজ সন্তানের জননীর জীবনদান যুবকের / নিজস্ব ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহঃ কে বলে, আমাদের চারপাশ হিংসায় ভোরে গেছে! শুধু রক্তপাত আর হানাহানি! ভালো কিছুই নেই? না এটা সম্পূর্ণ সত্যি নয়। ভালো-খারাপ মিলিয়েই তো জগত। তাই রক্তপাত, খুনোখুনি, হিংসা দেখে আমরা যেমন হতাশ হই, ঠিক সেইভাবেই মানবিকতার জয়গান হয়, এমন কোনও ঘটনাতেও তো অনুপ্রাণিত হই।

এই যেমন মালদহের এই যুবক। যিনি প্রমাণ করলেন যে, মানবিকতা হারিয়ে যায়নি। সব খারাপের ভিড়ে হারিয়ে যায়নি ভালোটুকু। জীবনদানের থেকে মহৎ কাজ আর কিছু হয় না। এই যুবক সেটাই করে দেখালেন। মানবিকতার এক নজির সৃষ্টি করলেন তিনি। ভাবছেন তো কি এমন করেছেন এই যুবক! তাহলে সেই বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।

প্রয়োজন ‘এ’ নেগেটিভ রক্তের, যা সহজে পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রেও হন্যে হয়ে এই গ্রুপের রক্তের সন্ধান করছিলেন উর্মিলা রায়ের পরিবার। উর্মিলাদেবী মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মার্তৃমা বিভাগে যমজ সন্তানের জন্ম দেন। তাঁর রক্তের প্রয়োজন হয়, কিন্তু কিছুতেই মিলছিল না ‘এ’ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত। চিন্তায় পড়েন উর্মিলাদেবীর পরিজন।

এমন এক কঠিন সময়ে দেবদূতের মতো হাজির হন সনাতন মন্ডল নামে এক যুবক। এমন এক সমস্যা জর্জরিত পরিবারের অবস্থার খবর পেয়েই, মালদহের ইংলিশবাজারের অমৃতির বাসিন্দা সনাতন মন্ডল সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন বিনা দ্বিধায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মালদহ মেডিক্যালের ব্লাডব্যাঙ্কে এসে তিনি রক্ত দেন। তাঁর সাহায্যে উর্মিলাদেবীর পরিবার চিন্তামুক্ত হন। সনাতন মন্ডল আখেরে প্রাণ বাঁচান দুই যমজ সন্তানের জননীর। মানবিকতার নজির সৃষ্টি করেন সনাতন মণ্ডল। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে আবারও তিনি এসে রক্ত দিয়ে যাবেন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.