একাধিক সাংসদ করোনা আক্রান্ত! সংসদের বাদল অধিবেশন কাটছাঁট করার ভাবনা কেন্দ্রের

একাধিক সাংসদ করোনা আক্রান্ত! সংসদের বাদল অধিবেশন কাটছাঁট করার ভাবনা কেন্দ্রের
একাধিক সাংসদ করোনা আক্রান্ত! সংসদের বাদল অধিবেশন কাটছাঁট করার ভাবনা কেন্দ্রের

বংনিউজ২৪x৭ ডেস্কঃ একের পর এক সাংসদ করোনা আক্রান্ত হয়ে চলেছেন। সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হতেই একের পর এক সাংসদের কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট আসছে। কোভিডের বিস্তার নিয়ে সংসদে উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ৩০ জনেরও বেশি সাংসদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদের বাদল অধিবেশন কাটছাঁট করার ভাবনা-চিন্তা করছে কেন্দ্র।

এদিকে, অধিবেশন শুরুর প্রথম দিন থেকে যে ভাবে একের পর এক সাংসদ মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন, তাতে সাংসদদের মধ্যে দলমত নির্বিশেষে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষত, রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ বিনয় সহস্রবুদ্ধে করোনা পজিটিভ হওয়ার খবরে সেই আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বুধবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখেন সহস্রবুদ্ধে। সেদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন অন্তত দশ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা, এমনকী অশীতিপর এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারও। বৃহস্পতিবার জানা যায়, সহস্রবুদ্ধে কোভিড পজিটিভ।

এই ঘটনার পর, আর ঝুঁকি নিয়ে সংসদ না-চালিয়ে প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলি পাশ করিয়ে নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষেই অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, এনসিপি এবং ডিএমকে-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই দাবি নিয়ে সম্প্রতি সংসদবিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর সঙ্গে দেখা করেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন এনসিপি নেতা প্রফুল প্যাটেল ও ডিএমকে নেতা তিরুচি শিবা। কংগ্রেসের তরফেও একই দাবি জানানো হয়েছে।

সংসদের বাদল অধিবেশন সামনের মাসের ১ তারিখ অর্থাৎ ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা। কিন্তু সূত্রের খবর, সেই সময়সীমা কমিয়ে নির্ধারিত দিনের আগেই অধিবেশন শেষ করা হতে পারে। সূত্র মতে, লকডাউন চলাকালীন যে ১১ টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, সেগুলি যদি উভয় সভায় পাস হয়, তবে অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হতে পারে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস এবং লকডাউনের জেরে ৬ মাস পরে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়, ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে। এ অধিবেশন ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা। কিন্তু একাধিক সাংসদ করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে ১ অক্টোবরের আগেই অধিবেশন শেষ করে দেওয়া হবে। সংসদ ভবনের দুই আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, যেহেতু সংসদে করোনা পজিটিভের সংখ্যা বাড়ছে। এর জেরেই কেন্দ্র সরকার বাদল অধিবেশনের নির্ধারিত সময়সীমা কমিয়ে আনতে চাইছে। করোনা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়মবিধি মেনে চললেও, করোনা সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না কিছুতেই।

লোকসভায় প্রায় ২০০ জন সদস্য উপস্থিত থাকছেন। তাঁর মধ্যে ৩০ জন বসেন গ্যালারিতে। রাজ্যসভা চেম্বারেও কয়েকজন লোকসভার সদস্যকে বসতে দেওয়া হয়েছে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে। উল্লেখ্য, অন্য সময়ে সংসদে একটি বেঞ্চে ৬ জন বসেন। কিন্তু করোনা আবহে, তা কমিয়ে ৩ জন করা হয়েছে।

পাশাপাশি সংসদে ঢোকার জন্য করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট অত্যাবশ্যক বলা হয়েছে। নতুন কোভিড প্রোটোকলগুলিতে এমপি, মিডিয়া পারসন এবং সংসদীয় কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, এতে বাধ্যতামূলক দৈনিক অ্যান্টিজেন পরীক্ষা এবং মাস্ক পরা। সদস্যদের অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তাঁরা অন্য সদস্যের আসনে না যান এবং কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে কথা বলা, কাছাকাছি গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলা এসব এড়িয়ে চলার কথাও বলা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, সাংসদদের কিছু বলার থাকলে যেন, চিরকুটে লিখে তাঁরা তা জানান। অন্যদিকে প্রাক্তন সাংসদ, এমএলসি, বিধায়ক এবং পরিবারের সদস্য বা ব্যক্তিগত অতিথির প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

হাউসগুলির অভ্যন্তরে, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বারবার সদস্যদের শারীরিক দূরত্ব এবং অন্যান্য কোভিড প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.