লখিমপুর কাণ্ডে অভিযুক্ত মন্ত্রী-পুত্র আশিস আদালতে গরহাজির! নেপালে গা ঢাকা দিয়েছেন, সন্দেহ পুলিশের

লখিমপুর কাণ্ডে অভিযুক্ত মন্ত্রী-পুত্র আশিস আদালতে গরহাজির! নেপালে গা ঢাকা দিয়েছেন, সন্দেহ পুলিশের
লখিমপুর কাণ্ডে অভিযুক্ত মন্ত্রী-পুত্র আশিস আদালতে গরহাজির! নেপালে গা ঢাকা দিয়েছেন, সন্দেহ পুলিশের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর-খেরিতে গত রবিবার কৃষক বিক্ষোভ চলাকালীন গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ জন কৃষকের মৃত্যু হয়। এরপরেই এই ঘটনাকে ঘিরে রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে লখিমপুর খেরি। অশান্তির মাঝে পড়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। এই ঘটনায় নাম জড়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্রের। এই ঘটনায় সারা দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠলে, হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে সুপ্রিম কোর্ট।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্ট আশিস মিশ্রকে সমন পাঠালেও শুক্রবার আদালতে নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে উপস্থিত হননি তিনি। তাঁর খোঁজে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তল্লাশি শুরু করলেও, পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমান করা হচ্ছে নেপালে গা ঢাকা দিয়েছেন মন্ত্রীপুত্র। তাঁর মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন দেখেই এমন ধারণা করছে পুলিশ। অন্যদিকে, এদিন লখিমপুর খেরিতে গিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। তিনি নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

রবিবার উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর-খেরিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর ছেলের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ জন কৃষকের মৃত্যু হয় রবিবার। এরপরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা লখিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু প্রায় সকলকেই আটকে দেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এর মধ্যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে প্রায় ৩০ ঘন্টার বেশি সময় সীতাপুরে আটক করে রাখার পর ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে, তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। কংগ্রেস নেতা বাঘেলকে বিমানবন্দরেই আটকে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় সপা নেতা অখিলেশ যাদবকেও। প্রথমে লখিমপুরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল না রাহুল গান্ধীকেও। যদিও পরে সেই অনুমতি মেলে। কিন্তু অনেক টালবাহানার পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে লখিমপুর যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় যোগী প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

শুধু কংগ্রেসই নয়, চাপে পড়ে যে কোনও রাজনৈতিক দলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল যেতে পারবেন লখিমপুরে। এমনটাই জানানো হয় সরকারি তরফে। তবে, কোনও প্রতিনিধি দলেই পাঁচজনের বেশি সদস্য থাকতে পারবেন না বলেই জানানো হয়। বাঘেল ও চান্নির তরফে ঘোষণা করা হয় তাঁদের রাজ্যের তরফে মৃতদের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। বিমানবন্দরে রাহুল ও তাঁর দুই সঙ্গীর সঙ্গে সীতাপুরে যান। সেখান থেকে প্রিয়াঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে অবশেষে লখিমপুর পৌঁছান কংগ্রেসের চার প্রতিনিধি। নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা।

গোটা ঘটনায় নাম জড়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস মিশ্রের। তাঁর গাড়িতেই ওই কৃষকদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয় যে, ধাক্কাধাক্কির ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই চার কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আর তারপর আশিসকে গ্রেপ্তারির পর দ্রুত শাস্তি দেওয়ার দাবি ওঠে সর্বস্তরে। চাপে পড়ে যোগী সরকার বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে। তদন্ত কমিটি গড়ে শুরু হয় তদন্ত। ৯ সদস্যের একটি টিম গড়া হয় পুলিশের তরফে। আদালতের পক্ষ থেকে সমন পাঠানো হয় আশিসকে। তবে, সমন পেয়েও শুক্রবার হাজির হয়নি আশিস। তারপর তাঁর বাড়িতে গিয়ে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়ে নোটিস দেওয়া হয়।

এরপরই আশিসের খোঁজে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, আশিসের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন নেপালের কাছাকাছি কোনও এক জায়গায়। তাতেই তাঁদের ধারণা হয়, নেপালে গা ঢাকা দিয়েছে আশিস। যদিও অনেকের দাবি, অন্য কোথাও নয়, আশিস লখিমপুর এলাকাতেই রয়েছে।