তাঁর বোলিংয়ের চ্যালেঞ্জ সামলাতে মুখিয়ে থাকতেন সৌরভ! পেটের দায়ে এখন চা-বিক্রেতা এই প্রাক্তন বোলার!

তাঁর বোলিংয়ের চ্যালেঞ্জ সামলাতে মুখিয়ে থাকতেন সৌরভ! পেটের দায়ে এখন চা-বিক্রেতা এই প্রাক্তন বোলার!
তাঁর বোলিংয়ের চ্যালেঞ্জ সামলাতে মুখিয়ে থাকতেন সৌরভ! পেটের দায়ে এখন চা-বিক্রেতা এই প্রাক্তন বোলার!

সালটা ২০০৩। জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে নিউজিল্যান্ডের সফরের প্রস্তুতি সারছিল ভারতীয় দল। ঠিক সেসময় দলের অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির কথায় ডাক পড়ল তাঁর। সৌরভ এমন একজন বাঁ হাতি স্পিনার খুঁজছিলেন, যাঁর বোলিং সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ভেট্টোরির মিল রয়েছে। তাই অধিনায়কের কথাতে ফোনে এনসিএ-তে আসার জন্য ডাক পান তিনি। নেটে বল করেন সৌরভকে। সেই তারকা বোলার পেটের টানে বর্তমানে বিক্রি করছেন চা।

প্রকাশ ভগত। আসামের এই স্পিনারের বোলিংয়ের সঙ্গে বেশ মিল ছিল নিউজিল্যান্ডের স্পিনার ড্যানিয়েল ভেট্টোরির। তাই আন্তর্জাতিক স্তরে বাঁ হাতি স্পিনারদের বল সামলানোর আগে এনসিএ-তে সৌরভ নেটে খুঁজতেন প্রকাশকেই। তাঁর বোলিং চ্যালেঞ্জ সামলাতে মুখিয়ে থাকতেন ভারতীয় অধিনায়ক। শুধু তাই নয়, সেসময় সৌরভ বহু টিপসও দিয়েছিলেন প্রকাশকে।

প্রকাশ প্রথম নজর কাড়েন অনুর্দ্ধ-১৭ ক্রিকেটে বিজয় মার্চেন্ট ট্রফিতে। আসামের জার্সিতে বিহারের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক সহ সাত উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। তারপরই এনসিএ-তে ডাক। এছাড়াও ২০০৯-২০১০ এবং ২০১১-১২ মরশুমে আসামের হয়ে রঞ্জি খেলারও সুযোগ পান। তবে ২০১১ সালে রাজ্যের তরফে খেলার সময়েই প্রকাশের বাবা মারা যান। ফলে পুরো সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। তাই পেটের দায়ে খেলা ছেড়ে এরপর শিলচরে দাদার চায়ের দোকানেই বিক্রিবাটায় বসে পড়েন প্রকাশ।

সেই থেকে চলছে চা বিক্রি। সংসার চালাতে বছর ৩৪-এর প্রকাশের ভরসা এখন চায়ের দোকানই। তবে করোনা আবহে গতবছর থেকেই ব্যবসায় এসেছে মন্দা। রাস্তায় লোক সংখ্যা কম থাকায় চা বিক্রিতে পড়েছে প্রভাব। ফলে আর্থিকভাবে বেশ ক্ষতিও হয়েছে প্রকাশের। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। চেষ্টা করে চলেছেন নিজের সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সামলানোর। তবে মনে কোণে চাপা দুঃখও রয়ে গিয়েছে৷ প্রকাশের সঙ্গে যাঁরা রাজ্যস্তরে খেলতেন, তাঁরা সবাই এখন সরকারি চাকরি পেয়ে গিয়েছেন। প্রত্যেকেই জীবনে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু প্রকাশের ভাগ্যে তা জোটেনি। তাই এখনও প্রতিদিন বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।