দ্বিতীয় স্ত্রীর আশালীন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড! গ্রেফতার অভিযুক্ত স্বামী

দ্বিতীয় স্ত্রীর আশালীন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড! গ্রেফতার অভিযুক্ত স্বামী
দ্বিতীয় স্ত্রীর আশালীন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড! গ্রেফতার অভিযুক্ত স্বামী / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনত বিচ্ছেদ না হওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ ছিলই আগে থেকে। এর সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এবং বধূ নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে। অবশেষে শ্রীঘরে অভিযুক্ত স্বামী। এই ব্যক্তি আবার বাঁকুড়ার বিজেপির মণ্ডল সভাপতির দাদা। অভিযুক্তের নাম জয়ন্ত সরকার।

এদিকে, ওই বিজেপি নেতার দাদাকে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশ কর্মীদের উপর চড়াও হয়ে তাঁদের মারধরের অভিযোগও উঠেছে। যদিও পাল্টা পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছে অভিযুক্ত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সোনামুখী থানার কুরুমপুর গ্রামে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে যে, বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার কুরুমপুর গ্রামের বাসিন্দা তথা সোনামুখী মণ্ডল-২ বিজেপির সভাপতি চঞ্চল সরকারের দাদা জয়ন্ত সরকারকে স্ত্রীর উপর নির্যাতন করা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল ছবি ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার জন্য সরকার পরিবারের আরও তিনজন-সহ প্রতিবেশী মিলিয়ে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে সোনামুখী থানার পুলিশ।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনামুখী মণ্ডল-২ বিজেপির সভাপতি চঞ্চল সরকারের দাদা জয়ন্ত সরকার ব্যবসা সূত্রে বিদেশে থাকেন। এবারে দুর্গাপুজোতে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে থাকা সত্ত্বেও নদিয়ার কল্যাণীর বাসিন্দা এক মহিলাকে জয়ন্ত সরকার বিয়ে করেন। সম্প্রতি তিনি ওই মহিলার আপত্তিকর কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন এবং তাঁকে মারধরও করেন বলে অভিযোগ। এরপরই ওই মহিলা তথা জয়ন্ত সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রী কল্যাণী থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন। জয়ন্ত সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় কল্যাণী থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সোনামুখী থানার পুলিশ কুরুমপুরে জয়ন্ত সরকারকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তবে, বিজেপি নেতার দাদাকে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশকে বাধার মুখে পড়তে হয়। পুলিশ কর্মীদের হেনস্থা করা হয়। তাঁদের মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জয়ন্ত সরকারের বোন ববিতা মল্লিক। তাঁর পাল্টা দাবি, পুলিশ বাড়ির দরজা ভেঙে তাঁদের মারধর করে তাঁর দাদাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। পুলিশের আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি বাড়ির মহিলারাও। তবে, জয়ন্ত সরকারকে গ্রেফতারির কারণ তাঁরা জানেন না বলেও দাবি করেছেন। ওই ঘটনার পর তাঁর আরেক দাদা চঞ্চল সরকার ‘নিখোঁজ’ বলেও দাবি করেছেন ববিতা।

অন্যদিকে, পুলিশকে মারধরের তীব্র নিন্দা করে এলাকার তৃণমূল নেতা সোমনাথ মুখার্জী জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্ত যে রাজনৈতিক দলের সদস্য হোন না কেন, শাস্তি পাবেন। কর্তব্যরত পুলিশকে মারধর করা চরম অন্যায়।’ পুলিশকে মারধরের পিছনে স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের মদত আছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে, জয়ন্ত সরকারকে বিশিষ্ট সমাজসেবী তকমা দিয়ে পুলিশকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামি। জয়ন্ত সরকার-সহ পুলিশকে মারধরের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করে, ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করেছে সোনামুখী থানার পুলিশ।