প্রশংসনীয়! সবাই যেন বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পায়, তাই নিজের জমানো টাকা দান করলেন কেরালার বিড়ি শ্রমিক

প্রশংসনীয়! সবাই যেন বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পায়, তাই নিজের জমানো টাকা দান করলেন কেরালার বিড়ি শ্রমিক
প্রশংসনীয়! সবাই যেন বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পায়, তাই নিজের জমানো টাকা দান করলেন কেরালার বিড়ি শ্রমিক

করোনা আতঙ্কে কার্যত জেরবার গোটা দেশ। দিনের পর দিন চড়ছে করোনার গ্রাফ। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের হারও। এরই মধ্যে সারা দেশে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন ক্রাইসিস। অক্সিজেন নিয়ে দেশ জুড়ে এখন শুধুই হাহাকার। এক-একটি সিলিন্ডার বিকোচ্ছে হাজার হাজার টাকায়। মহামারীর মধ্যেও অক্সিজেন নিয়ে কালোবাজারী কিন্তু বন্ধ হয়নি। বরং নিত্যদিন তা বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় দেশের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসছেন সাধারণ মানুষ থেকে নামী দামী সব সেলিব্রিটিই। তবে এবার সবাইকে ছাপিয়ে গেলেন কন্নুড়ের ছোট্ট গ্রামের এক বিড়ি শ্রমিক। যিনি মানুষকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য দান করে দিলেন জীবনের শেষ সঞ্চয়টুকুই!

কন্নুড়, চালদান হাউজের ৬৩ বছরের জনার্দনন পেশায় এক বিড়ি শ্রমিক। প্রতি দিন বিড়ি বানিয়েই জীবন যাপন করেন তিনি। এর আগে তিনি কাজ করতেন কেরল দীনেশ বিড়ি সোসাইটিতে। সেখান থেকে অবসরের সময় ২ লক্ষ টাকা ভাতা দেওয়া হয় তাঁকে। সম্প্রতি সেই টাকার পুরোটাই তিনি তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর Ds Distress Relief Fund-এ। বলাই বাহুল্য, সেই ২ লক্ষ টাকাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ সম্বল। কিন্তু নিজের আগামীর চিন্তা, ভবিষ্যতের কথা ভুলেই বর্তমানে দেশের মানুষের স্বার্থে দান করে দিলেন নিজের সবটুকু সঞ্চয়। তাঁর এই দান দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছেন ব্যাঙ্ক কর্মীরাও।

সূত্রের খবর, ব্যাঙ্কের কর্মীরা তাঁকে সঞ্চয়ের কিছু টাকা দান করবার জন্য পরামর্শ দিলেও শোনেননি জনার্দনন। বরং জীবনের পুরো সঞ্চয়টুকুই দান করেছেন। এখন তাঁর অ্যাকাউন্টে পড়ে রয়েছে মাত্র ৮০০ টাকা। প্রসঙ্গত, এই বিড়ি শ্রমিক কেরালার সিপিএম-এর সমর্থক। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, “কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারই বিজয়ন রাজ্যের সব নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিন চ্যালেঞ্জের কথা ঘোষণা করেছেন। তা শুনে আমি অনুপ্রাণিত হই। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে এরপর CMDRF এর কাছে টাকা দানের সম্মতি জানাই। কারণ এই মুহূর্তে দেশ এবং রাজ্যের পরিস্থিতি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে।” সত্যিই তো! সমাজে এমন মানুষগুলি রয়েছেন বলেই বেঁচে রয়েছে মনুষ্যত্ব বোধ৷ বৃদ্ধ ওই বিড়ি শ্রমিকের এরূপ মানবিকতাকে কুর্নিশ না জানিয়ে উপায় কী!

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.