তরুণদের কাঁধে গুরুদায়িত্ব, ব্যাপক রদবদল তৃণমূলে

তরুণদের কাঁধে গুরুদায়িত্ব, ব্যাপক রদবদল তৃণমূলে
তরুণদের কাঁধে গুরুদায়িত্ব, ব্যাপক রদবদল তৃণমূলে

প্রবীণ নয়, নবীনদের হাতে দলের আগামীর দায়িত্ব ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সমস্ত জেলার সভাপতি এবং পর্যবেক্ষকদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক স্তরে ব্যাপক রদবদল হয়।

এদিনের বৈঠকের পর তৃণমূলের যুব সংগঠনের একাধিক রদবদল হয়। সাত জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়েছে যুব তৃনমূলের কোর কমিটি। এই কমিটিতে রয়েছেন সুব্রত বক্সি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর কলকাতার যুব তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনিন্দ্য রাউতকে এবং দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাপ্পাদিত্য দাসগুপ্তকে।

হাওড়া জেলার (শহর) সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে মন্ত্রী অরূপ রায়কে। সম্প্রতি আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের পর ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে হাওড়া জেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। প্রাথমিকভাবে এই অসন্তোষের জেরে অরূপ রায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে।

লোকসভা নির্বাচনের পর কৃষ্ণনগরের সাংগঠনিক জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সাংসদ মহুয়া মিত্রকে। এবার তাঁকে সমগ্র নদীয়া জেলার সভাপতি করা হয়েছে। কোচবিহার জেলার প্রবীণ নেতা বিনয় কৃষ্ণ বর্মন কে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে পার্থপ্রতিম রায়কে।

জঙ্গলমহলে ধীরে ধীরে বাড়ছিল গেরুয়া প্রভাব। ক্ষমতায় আসার পর থেকে জঙ্গলমহলের উন্নতির জন্য তৃণমূল সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিলেও লোকসভা নির্বাচনে সেভাবে ভাল ফলাফল হয়নি জঙ্গলমহলে। তাই জঙ্গলমহলের তিন জেলা বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ার সভাপতি বদল করা হয়েছে। বাঁকুড়ার নতুন সভাপতি করা হয়েছে মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরাকে। পুরুলিয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন গুরুপদ টুডু। ঝাড়গ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুলাল মুর্মুকে।

উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে অর্পিতা ঘোষকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গৌতম দাসকে।

দলের অন্দরে “চেয়ারম্যান” নামক নতুন একটি সাংগঠনিক পদ তৈরি করা হয়েছে। উত্তর কলকাতার চেয়ারম্যান করা হয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে, উত্তর ২৪ পরগনা চেয়ারম্যান করা হয়েছে নির্মল ঘোষকে।

মোটের উপরে সাংগঠনিক বৈঠকে নতুন যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা প্রত্যেকেই প্রায় তরুণ প্রজন্মের মুখ। বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এই নতুন প্রজন্মের ওপরে আস্থা রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.