বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

বীরভূমে বিজেপিতে বড় ভাঙন! জেলা সভাপতি অনুব্রতর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন শীর্ষ নেতারা

০৯:২৪ পিএম, জানুয়ারি ১৬, ২০২২

বীরভূমে বিজেপিতে বড় ভাঙন! জেলা সভাপতি অনুব্রতর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন শীর্ষ নেতারা

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্য বিজেপিতে বড় ভাঙন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে আগে তৃণমূল বা অন্য দল থেকে অনেকে বিজেপি গেলেও, নির্বাচনের পরে, চিত্রটা ফের পাল্টে যায়, বিজেপি বিধায়ক থেকে শুরু করে অনেক তাবড় নেতা, সাধারণ কর্মী ফের তৃণমূলে ফিরতে শুরু করেন। সেই থেকেই বিজেপিতে ভাঙন লেগেই রয়েছে।

অতি সম্প্রতি বীরভূমে বিজেপিতে দল ছাড়লেন একাধিক নেতা। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বীরভূমে একের পর এক বিজেপি নেতা দল ছাড়ছেন। যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে, অতিসম্প্রতি বীরভূমের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বদলের পর ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে বলেই দাবি তৃণমূলের। বিজেপির বীরভূম জেলার সাধারণ সম্পাদক অতনু ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। রবিবার অনুব্রতর হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিলেন বিজেপির বীরভূমের জেলা সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি শেখ সামাদ।

এদিন বোলপুরে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে শেখ সামাদের হাতে ঘাসফুল পতাকা তুলে দেন বীরভূমের তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। শুধু সামাদই নন, তাঁর সঙ্গে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার জেলা কমিটির ৪৮ জন সদস্য, বিজেপির চার মণ্ডল সভাপতিও তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে এদিন অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন চারদিক উজ্বল হয়ে আছে। বিজেপিতে কাজ করার কোনও সুযোগ নেই। নেতারা সব ঠুঁটো জগন্নাথের মত বসে আছে। তাই সবাই তৃণমূলে চলে আসছেন। ওঁরা এলে উন্নয়ন আরও গতি পাবে।’

অন্যদিকে, এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়ে শেখ সামাদ বলেন, ‘বিজেপিতে সংখ্যালঘুদের কাজ করার কোনও সুযোগ নেই। আর রাজ্যের সাধারণ মানুষ তৃণমূল সরকারকে তিনবার ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। তখন মানুষের রায় আমাদেরও মানতে হবে। তাই বিরোধিতা না করে তৃণমূলে যোগ দিলাম।’ উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে পাড়ুই থানার মাখড়া-চৌমন্ডলপুরে এলাকা দখল নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষ হয় বলে অভিযোগ। সেই সময়ই বিজেপিতে যোগ দেন শেখ সামাদ। প্রথম সারিতে থেকে বিজেপিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। পরে, তিনি বীরভূম জেলা বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি হন। এদিকে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। বেশ কয়েক মাস জেলেও ছিলেন। এরপর বিধানসভা ভোটে বিজেপির খারাপ ফলের পর, সামাদ নিস্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি পদ্ম শিবিরের। বিজেপির অভিযোগ, সামাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাই ভয় দেখিয়ে তাঁকে দলে টেনেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

https://www.facebook.com/anubratamondal.tmc/posts/2756385831323423

এদিন বোলপুরে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে দলবদলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী, সদ্য বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসা অতনু ভট্টাচার্য-সহ অনান্য নেতারা। বীরভূমে দু'টি লোকসভা এলাকায় এবার দু'জন সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ঘোষণা করেছে বিজেপি। এরপর জেলায় একাধিক বিজেপি নেতা দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে, সাধারণ সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায় দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন। আবার গত বিধানসভা নির্বাচনে নানুরে বিজেপির পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন বিনয় ঘোষ। তিনিও দল ছেড়েছেন। কয়েকদিন আগে  দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়েছেন বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি উত্তমকুমার রজক এবং জেলা সম্পাদক অরিন্দম মুখোপাধ্যায় এর মধ্যেই বিজেপির জেলা সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি শেখ সামাদ তৃণমূলে যোগ দিলেন।