রাজ্যের তুলনায় বেশি কর নিচ্ছে কেন্দ্র! পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মোদী সরকারকে দোষারোপ বিরোধীদের

রাজ্যের তুলনায় বেশি কর নিচ্ছে কেন্দ্র! পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মোদী সরকারকে দোষারোপ বিরোধীদের / ছবি সৌজন্যেঃ ফাইল ছবি
রাজ্যের তুলনায় বেশি কর নিচ্ছে কেন্দ্র! পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মোদী সরকারকে দোষারোপ বিরোধীদের / ছবি সৌজন্যেঃ ফাইল ছবি

বর্তমানে পেট্রোলের দাম প্রায় আকাশছোঁয়া। দেশের একাধিক শহরে পেট্রলের দাম ছাড়িয়েছে শ’য়ের কোটাও পেরিয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে ডিজেলের দামও। যা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বেশ চিন্তিত সাধারণ মানুষ। দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে উদ্বেগ। এবার সেসব নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধতে ছাড়ছেন না বিরোধীদের দল। এবার পেট্রোলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে অভিযোগ প্রকাশ করে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।

চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় নিজের অভিযোগ তুলে কংগ্রেস সভানেত্রী জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের দুর্দশার কথা না চিন্তা করেই লাভের হিসেব করছে সরকার। তাঁর সুরে সুর মিলিয়েছেন পুত্র রাহুল গান্ধীও। বিরোধীরা দাবী করেছেন, রাজ্য সরকারগুলির তুলনায় কেন্দ্র অনেক বেশি কর নিচ্ছে পেট্রোপণ্যে। আর পেট্রোপণ্যের উপর করের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণেই বাড়ছে দাম। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রও গতকাল জানান, “এই মুহূর্তে প্রতি লিটার পেট্রলে ৩২.৯০ টাকা ও ডিজেলপিছু ৩১.৮০ টাকা কর এবং সেস নিচ্ছে কেন্দ্র। সেখানে রাজ্য সরকার প্রতি লিটার পেট্রলে মাত্র ১৮.৪৬ টাকা ও ডিজেলে লিটারপিছু মাত্র ১২.৫৭ টাকা কর নিচ্ছে।”

সোনিয়া গান্ধী এও প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রোপণ্যের দাম আয়ত্তের মধ্যেই রয়েছে। কংগ্রেস জমানার তুলনায় অপরিশোধিত তেলের দাম এখন অর্ধেক। তাও কেন বাজারে তেলের দাম বেড়েই চলেছে? পেট্রোল বা জ্বালানির দাম বাড়ায় সমস্যায় পড়ছেন দেশের দিনমজুর থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা। যেহেতু পেট্রোপণ্য থেকে কেন্দ্রের আয় রাজ্য সরকারের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে তার মূল্য নিয়ন্ত্রণের দায়ও কেন্দ্রেরই। এমন কথাও বলেন তিনি।

অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবার পেট্রোলের মূল্য বৃদ্ধির জন্য পূর্বতন সরকারকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, আগের সরকার যদি পেট্রোল আমদানির তুলনায় উৎপাদনের চেষ্টা করতেন, তাহলে তেলের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকত। কিন্তু এরপরও করের দায় থেকে মুক্ত হতে পারে না কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি রাজ্য উদ্যোগী হয়েছে। ১৮টি রাজ্য পেট্রোপণ্যে ভ্যাটও কমিয়েছে। দেশের একাধিক রাজ্য যখন জ্বালানির দাম কমাতে উদ্যোগী, তখনও কেন্দ্রের তরফ থেকে কোনও সদিচ্ছাই প্রকাশ পাচ্ছে না। ফলে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে মোদী সরকারকে।

আরো পড়ুনঃ   সব জল্পনার অবসার ঘটিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন মিঠুন চক্রবর্তী