‘কিছু লোকজন আছেন, তাঁরা তাড়াতাড়ি গেলে, গুছিয়ে কাজ করতে পারব’, সব্যসাচী প্রসঙ্গে কটাক্ষ দিলীপের

‘কিছু লোকজন আছেন, তাঁরা তাড়াতাড়ি গেলে, গুছিয়ে কাজ করতে পারব’, সব্যসাচী প্রসঙ্গে কটাক্ষ দিলীপের
‘কিছু লোকজন আছেন, তাঁরা তাড়াতাড়ি গেলে, গুছিয়ে কাজ করতে পারব’, সব্যসাচী প্রসঙ্গে কটাক্ষ দিলীপের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত-সহ অনেকেই তৃণমূল ট্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই দলত্যাগের ঘটনা আরও বেশি করে লক্ষ করা গিয়েছিল। কিন্তু একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই চিত্রটাই পালটাতে শুরু করে। একুশের নির্বাচনে তৃতীয়বারের জন্য বাংলার ক্ষমতায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরার পালা। এই কাজটা শুরু হয় মুকুল রায়কে দিয়ে। এরপর অনেকেই ফের তৃণমূলে ফিরেছেন। এবার এই তালিকায় নবতম সংযোজন সব্যসাচী দত্ত।

গতকালই তিনি তৃণমূলে ফিরেছেন। ২০১৯ সালে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে ছেদ পড়েছিল। এবার ফের একবার সেই সম্পর্ক জোড়া লাগল। মুকুল রায়ের হাত ধরেই তাঁর বিজেপি যোগ। এদিকে, ইতিমধ্যেই দলে ফিরেছেন সেই মুকুল রায়ও। উল্লেখ্য, লোকসভা বা বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন যাঁরা, একে একে তাঁদের ‘ঘর ওয়াপসি’ হচ্ছে। তাহলে কি বিজেপি দুর্বল হতে শুরু করেছে? বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে। তবে, এসব যুক্তি, প্রশ্ন মানতে নারাজ বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ‘যাঁরা দলটাকে তৈরি করেছেন, তাঁরা ঠিক জায়গায় আছেন। একের পর এক এসেছিলেন, একের পর এক যাচ্ছে। এতে কিছুই আসে যায় না।’

শুক্রবার ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে সব্যসাচী দত্তের প্রসঙ্গ উঠতেই দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি চলে যান, ততই ভাল হয়। এমন কিছু লোকজন আছেন, তাঁরা কোন দিকে আছেন বোঝা যাচ্ছে না। তাঁরা যত তাড়াতাড়ি যাবেন, আমরা গুছিয়ে কাজ করতে পারব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সাফ হয়ে যাবে।’

এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন যে, ‘দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্মান দেওয়া হয়েছে, দলের পক্ষ থেকে কোনও খামতি রাখা হয়নি। কাজের সুযোগ, টিকিট দেওয়া হয়েছে। ওনারা ঠিক করতে পারছেন না কোন দিকে যাবেন। তবে, যাঁরা খেটে পার্টিটাকে দাঁড় করিয়েছিলেন, তাঁরা ঠিক জায়গাতেই আছেন। একের পর এক এসেছিলেন, একের পর এক যাচ্ছেন। তাঁদের জন্য রাজনীতিতে প্রভাব পড়ে না।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রথম বিতর্কের সূত্রপাত সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে। মুকুল রায় তখন বিজেপি নেতা। হঠাৎই একদিন হাজির হয়েছিলেন সব্যসাচী দত্তের সল্টলেকের বাড়িতে। লুচি-আলুরদম সহযোগে অতিথি সেবা করেছিলেন সব্যসাচী। এই নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়। প্রথমে অবশ্য বিজেপি যোগের কথা অস্বীকার করেছিলেন সব্যসাচী। কিন্তু সঠিক সময়েই প্রমাণিত হয় তাঁর বিজেপির সঙ্গে যোগ। তৃণমূল ছেড়ে তিনি বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন।

অন্যদিকে, একুশের নির্বাচনের পর বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধায়ক পদে শপথগ্রহণের দিনই পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিমের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন সব্যসাচী দত্ত। যদিও সূত্রের খবর, তাঁর এই ঘরে ফেরা মোটেই ভাল নজরে দেখছেন না দলের আরও দুই বিধায়ক সুজিত বসু ও তাপস চট্টোপাধ্যায়।