সরকারের উদাসীনতার কারণে বন্যা! শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সরকারের উদাসীনতার কারণে বন্যা! শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সরকারের উদাসীনতার কারণে বন্যা! শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এদিকে রাজ্যব্যাপী দুর্যোগ চলছে একটানা। একের পর এক নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টি থামার নামই নিচ্ছে না। রাজ্যের একাধিক জেলা জলমগ্ন। পুজোর মুখে রাজ্যে ফের বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের একাধিক জেলা এই মুহূর্তে জলমগ্ন। রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও বারবার DVC-র বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী সরব হয়েছেন। আবারও একবার রাজ্যের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গে DVC-র ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে DVC-র ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকেই আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, ভোটব্যাঙ্ক নিয়েই ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনও নজর নেই। সরকারের উদাসীনতার কারণেই রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে হুগলির খানাকুল, ঘাটাল সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক অঞ্চল বারবার প্লাবিত হওয়ায় সেই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘লোকসভায় বিপর্যয়ের পর এই সরকার উন্নয়নের জন্য স্থায়ী পরিকাঠামোতে বিশ্বাস করে না। খরচ করে না। উন্নয়নের খাতে বাজেট বরাদ্দ ছেটে দিয়েছে। ভোট ব্যাঙ্ক তৈরির লক্ষ্যে ভাতা নিয়ে রাজনীতি করতে ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী এবং শাসকদল। এই নীতির অনিবার্য পরিণাম হিসাবে দক্ষিণবঙ্গ বারবার বন্যার কবলে পড়েছে। সংকটে গরিব মানুষ।’

উল্লেখ্য, বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসিকেই দায়ী করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু ওদের প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। আসানসোলেও এত বৃষ্টি আগে হয়নি কখনও। পরশু রাত ৩ টের সময়ে ঝাড়খণ্ড রাজ্য থেকে আমাদের না জানিয়ে আসানসোলে জল ছেড়়ে দেয়। ফলে আসানসোল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া পুরো ডুবে গিয়েছে। কালকে আবার ডিভিসি ১ লক্ষ কিউসেকের উপর জল ছেড়েছে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন যে, ‘ওরা যদি ওদের বাঁধ ও ক্যানালগুলি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে, তাহলে অনেক জল ধরতে পারে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে না। ড্রেজিং করে না। মাঞ্চেত, মাইথন, তেনুঘাটে ২ লক্ষ কিউসেক মেট্রিক টন আরও ধরতে পারে। ওদের খেসারত আমাদের দিতে হচ্ছে। এটা অন্যায়’। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেন, ‘যদি বৃষ্টির জন্য বন্যা হত, তাহলে বুঝতাম। নিঃসন্দেহে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে, আমার সামলাচ্ছি। বন্যাটা কিন্তু হচ্ছে জল ছাড়ার জন্য। মেনম্যাড বন্যা। মাঝরাতে যদি জল ছাড়ে, তাহলে ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষ মরে যাবে। এটা পাপ, অন্যায়।’

এদিকে, এই প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, ‘ডিভিসির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মমতা। কিন্তু তা ঠিক নয়। ডিভিসি জল ছাড়ার বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট কমিটি আছে। যার সদস্য রাজ্য সেচ দফতরের সচিব এবং পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার। তাদের পরামর্শ ছাড়া জল ছাড়ে না ডিভিসি। এখানেই শেষ নয়, বিরোধী দলনেতা কটাক্ষের সুরে বলেন যে, ‘ঠিক আছে তর্কের খাতিরে নয়, ধরে নিলাম ডিভিসির জলে ভাসছে আরামবাগ। তাহলে কলকাতা ভাসছে কীসের জলে। গত দুমাসে কলকাতার মানুষ ১০ বার ভেসেছেন, সেটা হল কেন?’ এমনকি সেচ দফতর থেকে জলপথ, পূর্ত–সহ বেশ কয়েকটি দফতরে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং কত টাকা কাজের জন্য ছাড়পত্র পেয়েছে তা প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জবাবও চেয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, রাজ্যে অতীতে সেচ মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই কথা মনে করিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘সেচ দফতরের আমি ১১ মাস দায়িত্বের ছিলাম। যার মধ্যে ৮ মাস লকডাউন ছিল। তাই কোনও প্রকল্পে টাকা খরচ করতে পারিনি। আমি ছাড়ার পর ভোট পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেচমন্ত্রী দায়িত্বে ছিলেন।’ তিনি অভিযোগ করেছেন যে, দায়িত্বে থাকাকালীন কোনও কাজই করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খানাকুল, ঘাটালের প্রথম বর্ষায় ভেঙে যাওয়া বাঁধও এখনও মেরামতি হয়নি।