ভবানীপুর কেন্দ্রে উত্তেজনা! প্রচারে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়ালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার

ভবানীপুর কেন্দ্রে উত্তেজনা! প্রচারে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়ালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার
ভবানীপুর কেন্দ্রে উত্তেজনা! প্রচারে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়ালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ সদ্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি নিযুক্ত হয়েছেন তিনি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। তাঁকে পাঠানো হয়েছে দলের জাতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্বে। আর তাঁর জায়গায় বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি হয়েছেন বালুরঘাটের সাংসদ ড. সুকান্ত মজুমদার।

বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পেয়েই, এদিন ভবানীপুর উপনির্বাচনের প্রচারে নামেন সুকান্ত মজুমদার। আর এদিন প্রচারে বেরিয়েই পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়ালেন তিনি। পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, তাঁকে প্রচারে বাঁধা দিচ্ছে পুলিশ। অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে বিজেপি। বেশি সংখ্যক লোক নিয়ে এদিন প্রচার চালানো হচ্ছিল।

আজ বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়াতে ভোটের প্রচারে যান সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু গলিতে ঢোকার মুখেই পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে আটকে দেয় বলে অভিযোগ। পুলিশের অভিযোগ, পুলিশের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অধিক সংখ্যক লোক নিয়ে ঘুরছে বিজেপি। সেই জন্যই বাঁধা। এর পাশাপাশি পুলিশ আধিকারিকদের প্রশ্ন, বিজেপি নেতাদের সকলের দুটি করে ভ্যাকসিন নেওয়া আছে কিনা? এই নিয়েই প্রকাশ্যে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত। দুপক্ষের মধ্যেই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়।

ডিসি সাউথ আকাশ মাঘারিয়া জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রার্থী ছাড়া সর্বোচ্চ চারজন প্রচার করতে পারেন। কিন্তু, এদিন বিজেপি-র প্রচার কর্মসূচিতে অনেক লোকজন উপস্থিত ছিল। তাঁদের ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট রয়েছে কিনা আদৌ, তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি প্রচারের জন্য যে রুটের কথা বলা হয়েছিল, তা ভেঙে এগিয়ে যেতে চাইছিলেন সুকান্ত মজুমদার। তাই তাঁদের আটকে দেওয়া হয়।

এদিকে এদিন সংবাদ মাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তিনি বারবার বলেন, ‘আমি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আমাকে এভাবে কেন আটকে দেওয়া হচ্ছে।’ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র সুরক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত রুটের বাইরে গিয়ে প্রচার চালাতে চেষ্টা করছিলেন বিজেপির নেতারা। এই নিয়েই পুলিশের সঙ্গে সুকান্তর বচসা তুঙ্গে ওঠে।

ভবানীপুরে প্রচারে বিজেপির নয়া রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার

অন্যদিকে, ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল এদিন বলেন যে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রচারে আসা হয়েছে। তারপরেও বিজেপিকে ঢুকতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের দাবিকে নস্যাৎ করে তিনি জানিয়েছেন, ‘মঙ্গলবার মাত্র তিনজনে এসেছিলাম প্রচার করতে। কিন্তু তাও হরিশচন্দ্র স্ট্রিটে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’ প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘ডাক দিয়েছে জনতা, ভয় পেয়েছেন…’। তাঁর পালটা দাবি, বিজেপির সকলের কাছেই ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেট ছিল। কটাক্ষের সুরে তিনি আরও বলেন, ‘ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট কি এবার গলায় ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে!’ পাশাপাশি রাজ্যের উপর টিকা চুরি করে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন প্রিয়াঙ্কা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভবানীপুর উপনির্বাচনকে সামনে রেখে, প্রচার শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধায়ও। আজ বুধবার থেকে বিভিন্ন জায়গাতে প্রচার করবেন তিনি।