ভোট পরবর্তী হিংসায় বঙ্গজুড়ে আক্রান্ত কর্মীরা, প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে ধর্নার ডাক বিজেপির

ভোট পরবর্তী হিংসায় বঙ্গজুড়ে আক্রান্ত কর্মীরা, প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে ধর্নার ডাক বিজেপির
ভোট পরবর্তী হিংসায় বঙ্গজুড়ে আক্রান্ত কর্মীরা, প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে ধর্নার ডাক বিজেপির

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যে ভোট মিটে গেছে। ফলও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যজুড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন কর্মীরা। এর প্রতিবাদে আগামী ৫ মে, বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথের দিন দেশজুড়ে ধর্নার ডাক দিয়েছে বিজেপি। এই হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই বিজেপির ৬ জন খুন হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তাই ৫ তারিখ কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে রাজ্যে আসছেন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।

বিজেপির পক্ষ থেকে এক সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থাকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, সবরকম করোনাবিধি মেনেই ধর্নায় বসবেন তাঁরা। উল্লেখ্য, ওই দিনই, অর্থাৎ বুধবার ৫ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে বঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় ভোট পরবর্তী হিংসার খবর পেয়ে, বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ভোট পরবর্তী বাংলায় দু’দিনের জন্য রাজ্য সফরে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। সূত্রের খবর, আগামীকালই তিনি রাজ্যে আসবেন। ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে দেখা করবেন। তাঁদের বাড়িতেও যাওয়ার কথা আছে বলে জানা গিয়েছে।

সোমবার মুরলিধর সেন লেনে সাংবাদিক বৈঠক করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘রবিবার নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে থেকেই রাজ্যে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, তাঁদের উৎসাহে এবং পার্টি কর্মীদের উদ্যোগে বিজেপি পার্টির কার্যালয়, কর্মী, নেতা ও তাঁদের বাড়ি সব জায়গায় হামলা শুরু হয়েছে। পুলিশে অভিযোগ করলে, তাঁদের বক্তব্য আমরা কী করব?’ এই ঘটনার পিছনে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন দিলীপ ঘোষ।

বিজেপির রাজ্য সভাপতির আরও দাবি, ‘রাজ্যে হিংসা নতুন কোনও ঘটনা নয়। হার-জিতের পর সামান্য উত্তেজনা থাকেই। তবে, ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাজার হাজার বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। মানুষ ঘরছাড়া, দোকানপাট লুঠ হয়ে যাচ্ছে। সেইসব ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে হিংসার খবর আসছে। জিতে অনেকেই তাঁদের আনন্দ ধরে রাখতে পারছেন না। উত্তর-দক্ষিণ সব জায়গায় এরকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই অরাজকতা যদি এত বড় সমর্থন পাওয়ার পর চলতে থাকে, তাহলে দায়িত্ব কে নেবে?’

তাঁর অভিযোগ ছিল এই হামলায় বিজেপির ৬ জন কর্মী-সমর্থক আক্রান্ত হয়েছেন। প্রশাসনকে এ বিষয়ে বলেও কোনও লাভ হয়নি। পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে গেছে এইসব ঘটনায়। এছাড়াও রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বলেন যে, ‘এখন করোনা সংক্রমণ নিয়ে মানুষ ভীত। এই আবহে এই রাজনৈতিক সন্ত্রাস অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’ অবিলম্বে এই রাজনৈতিক হিংসা বন্ধের আবেদন জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের সঙ্গে দেখা করে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ করেছিল বিজেপি। এরপরই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারে জানতে, রাজ্যের পুলিশ কর্তাদের রাজভবনে ডেকে পাঠান। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় টুইট করে রাজ্যপাল উল্লেখ্য করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার আলোচনায় দ্রুত রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসা যাতে বন্ধ করা যায়, তার জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন। জগদীপ ধনখড় লেখেন, ভোট পরবর্তী হিংসা, ভাঙচুর, লুট ও মৃত্যু রুখতে সরকার যাতে দ্রুত ভূমিকা নেয় সেটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছি। রাজ্যজুরে যেভাবে ভোট পরবর্তী হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে, তা খুবই দুর্ভাগ্যের এবং হতাশাজনক। একাধিক মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন, তাঁদের বাড়ি, দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই ঘরছাড়া।