পছন্দ নয় প্রার্থী! আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী বদলের দাবিতে কর্মী-বিক্ষোভ নদীয়ার তিন কেন্দ্রে

পছন্দ নয় প্রার্থী! আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী বদলের দাবিতে কর্মী-বিক্ষোভ নদীয়ার তিন কেন্দ্রে
পছন্দ নয় প্রার্থী! আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী বদলের দাবিতে কর্মী-বিক্ষোভ নদীয়ার তিন কেন্দ্রে

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়াঃ বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে মাত্র বাকি মাত্র আর কয়েকটা দিন। এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৮ দফায়। তৃণমূল অনেক আগেই একবারে ২৯৪ টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিজেপি এই রাস্তায় যায়নি। দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা, একের পর এক বৈঠক শেষে, দফায় দফায় ঘোষণা করছে তাঁদের প্রার্থী তালিকা। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা নিয়ে বিজেপি শুরু থেকেই ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছিল।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই একটা বড় ইস্যু। প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। যার শুরুটা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। এরপর বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয় রাজ্য বিজেপির অন্দরেও। যা এখনও অব্যাহত, সর্বশেষ প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেও। বৃহস্পতিবার বিজেপির বাকি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরে, নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয় জেলায় জেলায়। সর্বশেষ দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরে অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি। এদিকে দলের প্রার্থী বদলের দাবিতে নদিয়া জেলার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির কর্মী সমর্থকদের একাংশ।

প্রার্থীর নাম প্রকাশের পর থেকেই রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, কল্যাণী এবং চাকদহ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা প্রার্থী বদলের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের প্রার্থী পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়কে তারা মানছেন না বলে, জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে রানাঘাটের পার্টি অফিসের সামনে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। রাজ্যের অন্যতম নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সহাদাব শামসের সামনেও তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। পরে বিষয়টি দলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অন্যদিকে কল্যাণী বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী অম্বিকা রায়কে কিছুতেই মানবেন না বলে জানিয়ে, সেন্ট্রাল পার্ক সংলগ্ন নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক বিক্ষোভ দেখান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখায়েতের সামনেও তাঁরা নিজেদের ক্ষোভের কথা জানান। বৃহস্পতিবার রাতেও চাকদহ চৌমাথা মোড়ের কাছে দলীয় প্রার্থী বঙ্কিম চন্দ্র ঘোষকে বহিরাগত আখ্যা দিয়ে ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার দাবিতে দলের ব্যানার পুড়িয়ে নিজেদের ক্ষোভ জানালেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা।

বৃহস্পতিবার বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর নতুন করে বিড়ম্বনায় পরে গেরুয়া শিবির। চৌরঙ্গী কেন্দ্রে যাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, সেই শিখা মিত্র, প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রের স্ত্রী বৃহস্পতিবার জানিয়ে দেন যে, তিনি বিজেপি-তে যোগই দেননি৷ ফলে এই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না৷ শিখা মিত্র ছাড়াও আরও এক প্রার্থীকে নিয়ে অস্বস্তিতে বিজেপি। তিনি কাশীপুর-বেলগাছিয়া আসনে বিজেপির ঘোষিত প্রার্থী তরুণ সাহা। তিনি আজ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর বলেন, কোথাও ভুল হয়েছে। বিজেপির লোকজন এসেছিল প্রস্তাব নিয়ে। কিন্তু তিনি এই মুহূর্তে দলবদল করছেন না এবং বিজেপিতে যোগও দেননি।

এই প্রার্থী তালিকাকে কেন্দ্র করে যখন তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে অশান্তি তীব্র হয়ে উঠেছিল, দলে দলে বিক্ষুব্ধ নেতা-নেত্রীরা দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এ বিষয়ে কথায় কথায় কটাক্ষ করছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে। পরে সেটাই বুমেরাং হয়ে যায় তাঁদের জন্য।

আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির তৃতীয় এবং চতুর্থ দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই চূড়ান্ত অশান্তি শুরু হয় জেলায় জেলায়। কলকাতা থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় বিজেপির হেস্টিংস পার্টি অফিসের সামনে। তৃতীয় এবং চতুর্থ দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দিকে দিকে বিক্ষোভের ঝড় ওঠে! কোথাও পার্টি অফিসে ঝোলানো হয় তালা, কোথাও তৃণমূল থেকে আসা নেতাকে দল প্রার্থী করায়, প্রতিবাদে পোস্টার দেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.