‘তিন কৃষি আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি’! বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

‘তিন কৃষি আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি’! বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর
‘তিন কৃষি আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি’! বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ গুরু নানকের জন্মদিন। আর আজকের দিনেই বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রের বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করল কেন্দ্র। কাজেই স্বাভাবিকভাবেই এতদিন ধরে কৃষকদের আন্দোলন সফল হল বলা যায়।

গুরু নানকের জন্মদিন গুরুপরবে এই ঘোষণা করেন মোদী। মোদী তাঁর ভাষণে বলেন, ‘হয়তো আমাদের তপস্যায় কিছুর অভাব ছিল, যে কারণে আমরা কৃষকদেরকে এই আইন সম্পর্কে বোঝাতে পারিনি। তবে আজ প্রকাশ পর্ব, কাউকে দোষারোপ করার সময় নয়। আজ আমি দেশকে বলতে চাই যে আমরা তিনটি কৃষি আইন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।

আজ প্রত্যাহারের ঘোষণার পরেই আন্দোলনরত কৃষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী অনুরোধের সুরে বলেন, ‘এবার আপনারা বাড়ি ফিরে যান।’ আজ প্রধানমন্ত্রী জানান যে, সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই এই তিন বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে মোদী বলেন, ‘আমাদের সরকার ছোট কৃষকদের কথা ভেবে, দেশের কথা ভেবে, গ্রাম এবং গরিবদের উন্নতির কথা ভেবে পূর্ণ সততার সঙ্গে এই আইন এনেছিল। কিন্তু এই সহজ কথা আমাদের হাজার চেষ্টার পরও আমরা কিছু কৃষককে বোঝাতে পারিনি। অল্প সংখ্যক কৃষক এর বিরোধিতা করলেও, সেটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতিবিদরা, বিশেষজ্ঞরা ওদের বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, আমরা ওদের কথা শুনেছি, বোঝার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। আজ দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছি, হয়তো আমাদের তপস্যায় কোনও ঘাটতি ছিল। তাই প্রদীপের আলোর মতো এই সত্য কৃষকদের বোঝাতে পারিনি।’

এদিন প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘কৃষকদেরআর্থিক পরিস্থিতির উন্নতিতে আমরা পূর্ণ সততার সঙ্গে কাজ করছি। ছোট কৃষকদের উন্নতির জন্য তিনটি কৃষি আইন আনা হয়েছিল। দেশের বহু কৃষক, কৃষি বিশেষজ্ঞ, কৃষি অর্থনীতিবিদ সবাই চাইছিলেন এই ধরনের আইন আনা হোক। এর আগেও একাধিক সরকার এই ধরনের বিল আনার চেষ্টা করেছিলেন। এবারেও সংসদে আলোচনা করে এই আইন আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কোটি কোটি কৃষক এই আইনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।’ বস্তুত প্রধানমন্ত্রী এদিন পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, তিনি দেশের কৃষকদের ভালর জন্যই এই তিন আইন এনেছিলেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক কিছু কৃষকের জন্য তাঁর সেই মহান উদ্দেশ্য বাস্তবে পূরণ হল না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই কৃষক বিক্ষোভ কেন্দ্রের মোদী সরকারের জন্য রীতিমতো অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে দফায় দফায় আলাপ-আলোচনা, বৈঠক হলেও, তার থেকে কোনও সমাধানের পথ বেরিয়ে আসেনি। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভ প্রত্যাহার করানোর চেষ্টা হলেও পিছু হটেননি কৃষকরা। কাজেই স্বাভাবিকভাবেই উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাবের আসন্ন ভোটের আগে এই আইন প্রত্যাহার না হলে, তার প্রভাব যে ভোটবাক্সে পড়বে, তা পরিষ্কার অনুধাবন করতে পেরেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সম্ভবত সেকারণেই অবশেষে এই আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রী এদিন কৃষকদের অনুরোধ করলেন, ‘দয়া করে বাড়ি ফিরে যান। মাঠে নামুন। আসুন সব নতুন করে শুরু করা যাক।’