ডিভিসির ছাড়া জলেই রাজ্যে বন্যা! ‘ম্যান মেড বন্যা’-এর ব্যাখ্যা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ডিভিসির ছাড়া জলেই রাজ্যে বন্যা! 'ম্যান মেড বন্যা'-এর ব্যাখ্যা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ডিভিসির ছাড়া জলেই রাজ্যে বন্যা! 'ম্যান মেড বন্যা'-এর ব্যাখ্যা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

অতিবৃষ্টির কারণে এমনিতেই জলমগ্ন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা৷ তার উপর ডিভিস জল ছেড়েছে। আর সেই ছাড়া জলে রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘ম্যান মেড ফ্লাড’ আখ্যা দিয়ে ফের কেন্দ্র ও ডিভিসি-কে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ম্যান মেড ফ্লাড’ আসলে কী, শনিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে তার ব্যাখ্যাও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন ‘ম্যান মেড ফ্লাড’-এর কথা উঠতেই ফিরে যান অতীতে। তিনি বলেন, ‘ম্যান মেড ফ্লাড’-এর কথা আগে আমিই বলতাম। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ফরাক্কা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেছিলাম একটা ট্রেন হঠাৎ জলে ভর্তি হয়ে গেল। তারপর সেই ট্রেনকে দড়ি বেঁধে আনতে হয়েছিল। তখন রেলের অফিসারদের জিজ্ঞেস করলাম, হঠাৎ এত জল কোথা থেকে আসছে? ওঁরা আমায় উত্তর দিয়েছিলেন, এটা ম্যান মেড বন্যা। বাঁধের জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই জলেই ট্রেন ডুবে গিয়েছে। তখন থেকেই এই শব্দটি জেনেছিলাম।”

একইসঙ্গে জল ছাড়া নিয়ে ডিভিসি ও কেন্দ্র সরকারকে এক হাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার যেভাবে জল ছাড়া হয়েছে তা বড় অপরাধ। এক সঙ্গে এত জল ছাড়া হয়েছে যা জীবনে কখনও হয়নি। আগে হয়েছে কিনা জানি না। আগে যখন বলেছিলাম, সেদিন অনেকে আমার সমালোচনা করেছিলেন। আজকে আবার বলছি, হ্যাঁ এটা ম্যান মেড বন্যা।” পাশাপাশি বাংলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে যে রাজ্য সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তাও জানান মমতা। ভারী বৃষ্টিতে কলকাতা ও আসানসোলে জল জমলেও তা একদিনে নেমে গিয়েছে। কিন্তু ডিভিসির ছাড়া জলে ফের বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “আমরা সাড়ে ৩ লক্ষের উপর পুকুর কেটেছি। সাড়ে পাঁচশো কোটি খরচ করে চেকড্যাম ক্লিন করেছি। দু’বছরে চার-পাঁচটি ঘূর্ণিঝড় সামলেছি। এদিকে ডিভিসি জল ছেড়ে এক বছরে চারবার বন্যা করে দিয়েছে। এটা অপরাধ ছাড়া আর কী! আগে থেকে কথা বলে কেন জল ছাড়ছে না? ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হলেই সব জল বাংলায় ছেড়ে দিচ্ছে। ঝাড়খণ্ড সরকারকে বলব বাঁধগুলি সংস্কার করুন। জল ছেড়ে আমাদের লোকেদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবেন না।”

এই পরিস্থিতিতে ডিভিসি-র কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার কথা ভেবেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ডিভিসি প্রতিবার জল ছেড়ে বাংলা ভাসাবে। কেন বাঁধ মেরামত করবে না? কেন ড্রেজিং করবে না? আসানসোল, কলকাতায় জল জমলেও তা নেমে গিয়েছে। তাই এবার আমরা ঠিক করেছি ক্ষতিপূরণ চাইব।” এমনকি ডিভিসি-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও পাঠাতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, “কেন্দ্রকে বলব ডিভিসির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। প্রধানমন্ত্রীকে অনেকবার চিঠি লিখেছি। এমনকি ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে সেচ দপ্তরের দল দেখা করে এসেছে। আবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখব। আবেদন জানাবো, দয়া করে বিষয়টাকে গুরুত্ব দিন।”