চলছিল পথ অবরোধ, দীর্ঘক্ষণ আটকে অ্যাম্বুলেন্স! মর্মান্তিক মৃত্যু শিশুর

চলছিল পথ অবরোধ, দীর্ঘক্ষণ আটকে অ্যাম্বুলেন্স! মর্মান্তিক মৃত্যু শিশুর
চলছিল পথ অবরোধ, দীর্ঘক্ষণ আটকে অ্যাম্বুলেন্স! মর্মান্তিক মৃত্যু শিশুর / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ পুরনো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে হবে। করোনাকাল হওয়া সত্ত্বেও দিতে হবে প্রতিমাকে বেয়ারার কাঁধে চড়িয়ে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি হয়ে জলঙ্গিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি। কিন্তু করোনার কথা মাথায় রেখে, এবছরও ঘট বিসর্জন ও বাহকের কাঁধে করে প্রতিমা বিসর্জনের এই রীতি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোর সমন্বয় সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল এ প্রসঙ্গে।

এদিকে, হাতে আর মাত্র ২ দিন সময়, তারপরেই জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু হয়ে যাচ্ছে। তাই প্রশাসনের নির্দেশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার থেকেই পুরসভার সামনে ধরনায় বসেছিল কৃষ্ণনগরের যুব সম্প্রদায়। ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড হাতে অসংখ্য মানুষ সামিল হয়েছিলেন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রশ্ন ছিল, নির্বাচনের বেলায় এত বিধিনিষেধ নেই, অথচ পুজোর বেলায় এত নিয়ম কেন। দাবিপূরণে প্রশাসনিক সায় না মেলায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরোধ। তার ফলে অ্যাম্বুল্যান্সে বেঘোরে প্রাণ গেল বছর সাতেকের শিশুর। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৫ জন।

জানা গিয়েছে, মালদহের মোথাবাড়ি থেকে বছর ৭-এর অসুস্থ শিশুটিকে কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অবরোধের জেরে রাস্তাতেই আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সটি। দীর্ঘক্ষণ গাড়ির ভিতরে আটকে থাকায় মৃত্যু হয় শিশুটির। নদিয়ার কোতয়ালি থানার আইসি রক্তিম চট্টোপাধ্যায় জানান, এথনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনাকালে, দুর্গাপুজোতেও প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। শোভাযাত্রার  অনুমতি দেওয়া হয়নি। এবার জগদ্ধাত্রী পুজোর ক্ষেত্রে একই নিয়ম জারি রয়েছে। আর তাতেই আপত্তি জানায় কৃষ্ণনগরের বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি ছিল, আগে যেমনভাবে জগদ্ধাত্রী পুজোয় প্রতিমা বিসর্জন হত, সেই নিয়মই জারি থাকুক। এই মর্মে পুলিশের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের বাসিন্দারা। তবে দাবিপূরণ হয়নি।

তারপরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধেয় প্রথমে কৃষ্ণনগর পুরসভার সামনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়দের একাংশ। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু কর। তার ফলে জাতীয় সড়কে তীব্র যানজট হয়। ওই যানজটেই আটকে যায় মালদহ থেকে কলকাতাগামী একটি অ্যাম্বুল্যান্স। তার মধ্যে ছিল অসুস্থ এক শিশু। এসএসকেএম হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসছিলেন শিশুটির বাবা-মা। তাঁদের দাবি, অবরোধ কারীদের বারবার রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও, তাতে কর্ণপাত করেননি অবরোধকারীরা।

এই অবস্থায় বেশ কিছুক্ষণ অ্যাম্বুল্যান্সে আটকে থাকার পর অচেতন হয়ে যায় শিশুটি। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। এরপর ভোরের দিকে জোর করে অবরোধকারীদের হঠিয়ে দেওয়া হয়। যানচলাচল আপাতত স্বাভাবিক হয়েছে।