রূপশ্রী, শিক্ষাশ্রী, স্বাস্থ্য সাথী দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, আর বিজেপি কী করেছে? আপনারা কাজ দেখে ভোট দিনঃ বলাগড়ে মমতা

রূপশ্রী, শিক্ষাশ্রী, স্বাস্থ্য সাথী দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, আর বিজেপি কী করেছে? আপনারা কাজ দেখে ভোট দিনঃ বলাগড়ে মমতা
রূপশ্রী, শিক্ষাশ্রী, স্বাস্থ্য সাথী দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, আর বিজেপি কী করেছে? আপনারা কাজ দেখে ভোট দিনঃ বলাগড়ে মমতা

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ শনিবার রাজ্যে চতুর্থ দফার ভোট বাংলার ৪৪ টি কেন্দ্রে। তাই চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণের আগে জোরকদমে চলছে তৃণমূল-বিজেপি ও সংযুক্ত মোর্চার নির্বাচনী প্রচার। বুধবার উত্তরবঙ্গ এবং কলকাতার পর, আজ বলাগড়ের সভায় ফের বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন প্রথমে হুগলির বলাগড় এবং পরে শ্রীরামপুরে জনসভা করেন মমতা। শুধুমাত্র বলাগড় নয়, অপর জনসভাতেও তিনি বিজেপির পাশাপাশি সংযুক্ত মোর্চাকেও আক্রমণ করেন।

আজ ভোটের আগে জনসভায় এলাকায় বহিরাগতদের ঢোকার ব্যাপারে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বলাগড়ের জনসভায় প্রথমেই তৃণমূল নেত্রী বলেন যে, ‘এবারের মিটিংগুলো কাছাকাছি করেছি। কারণ আমার পায়ে চোট রয়েছে। বারবার উঠতে হচ্ছে, নামতে হচ্ছে। এই গরমের মধ্যে যারা এসেছেন তাঁদের ধন্যবাদ।’

তিনি বলেন, ‘বলাগড়ের কাছেই গুপ্তিপাড়া। এই জায়গা রথের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এই মেলাতেই একসময় গুলি চলেছিল। একটি অন্ধ ছেলে সেই ঘটনায় মারা গিয়েছিল। ছেলেটির বাবা আমাকে অনুরোধ করেছিল, যেন তার হাতে ছেলের মৃতদেহ তুলে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। আমি পুলিশকে বলে গিয়েছিলাম। তারপরেও মৃতদেহ বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। আমি এখান থেকে বাঁকুড়া গিয়েছিলাম। সেখানে রাত ৯টা নাগাদ খবর পেলাম মৃতদেহ তখনও তার বাবার হাতে দেওয়া হয়নি। তা জেনেই বাঁকুড়া থেকে আমি আর আকবর বাঁকুড়া থেকে ফিরে এলাম। তপন দাসগুপ্তদের বললাম, আদালতে লড়ে বডি আদায় করব। আমি আদালতে দাঁড়িয়ে সেই বডি আদায় করেছিলাম। এই গুপ্তিপাড়াকে আমি চিনি।’

বলাগড়ের ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন যে, ‘বলাগড়ের ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা সকলেই জানেন, একটা নির্দেশিকা জারি করে ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমি আইন করে ইটভাটা খুলেছি। আগামিদিনে যাতে আপানাদের অসুবিধে না হয় তারও ব্যবস্থা করব। বলাগড়ের মৎসজীবীদের জন্য অনেক কিছু করব।’ পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী বলাগড়ে একটা ইকো টুরিজম পার্ক করার প্রতিশ্রুতিও দিলেন সভামঞ্চ থেকে।

এরপরেই তিনি বলাগড়ের তৃণমূলের প্রার্থী প্রসঙ্গে বলেন যে, ‘এবার এখানে একজন দলিত সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত মানুষ মনোরঞ্জন বেপারীকে প্রার্থী করা হয়েছে। উনি রান্নার কাজ করতেন, রিক্সা চালাতেন, ঠেলা চালাতেন। একসময় উনি আমাকে চিঠি লিখেছিলেন, তাঁকে রান্নার কাজের পরিবর্তে যেন অন্য কাজ দেওয়া হয়। তারপরেই রান্নার জায়গা থেকে ওঁকে লাইব্রেরিতে বদলি করেছিলাম। পরে ওঁকে দলিত সাহিত্য অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান করেছি।’

এদিনের সভায় সেই চেনা ভঙ্গিতে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন যে, ‘রূপশ্রী, শিক্ষাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আপনারা তো কাজ দেখেই ভোট দেবেন? আর বিজেপি কী করেছে? মদ খাওয়ানো ছাড়া, মস্তানি করা ছড়া, টাকা বিলানো ছাড়া আর কী করেছে ওরা? কেন বিজেপিকে ভোট দেবেন? গ্যাসের দাম কত! সাড়ে নশো টাকা গ্যাসের দাম। ওদের বলুন বিনা পয়সায় গ্যাস দাও। তারপর ভোট চাইবে। বলবেন, তোমরা, রেল, বিমা, ব্যাংক বন্ধ করে দিচ্ছ। গোটা ভারত ধুঁকছে। মানুষ এটা চায় না।’ তিনি সভামঞ্চ থেকে জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, বলেন, ‘আপনারা কি চান বলাগড় গুজরাটিরা দখল করে নিন? আপনারা কি চান বলাগড় গুজরাট হয়ে যাক?’

তিনি আজ এও বলেন যে, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবার বিনা পয়সায় রেশন দেব। বাড়িতে বাড়িতে রেশন পৌঁছে দেব। আমার মা, বোনেরা আপনাদের ৫০০-১০০০ টাকা হাত খরচও দেব। পাশাপাশি কৃষকরাও পাবেন ৫০০০ টাকা করে।’

তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘উন্নয়ন দিয়ে ভোট হোক। হিংসা দিয়ে নয়।’ তিনি এর আগে আধাসেনার সমালোচনা করলেও, এদিন বলেন যে, ‘সেন্ট্রাল ফোর্সকে দোষ দিচ্ছি না। তবে, ভোটের আগে এলাকায় লক্ষ্য রাখবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নির্দেশ দিচ্ছে, যাও গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভয় দেখাও। ভোটের ক্যাম্পেন শেষ হয়ে যাওয়ার পর, গ্রামে গ্রামে গিয়ে মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছে। বলছে, বিজেপিকে ভোট দাও। এরকম ঘটলে থানার এফআইআর করুন। কোনও থানা এফআইআর না নিলে আমাদের বলবেন, দেখব কোন থানা এফআইআর নিচ্ছে না। কারও কোনও কথা শুনবেন না। লাইন দিয়ে গিয়ে ভোট দিয়ে আসবেন। রটিয়ে দেবে সব জায়গায় ১৪৪ জারি রয়েছে। কিন্তু আসল কথা হল বুথের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ জারি থাকে। আমার ভাইরা মনে রাখবেন, ভোটের আগের দিন এলাকা পাহারা দিতে হবে। তা না হলে আগের দিন ভয় দেখিয়ে, মদ খাইয়ে ভোট নিয়ে নেবে। রাজ্য পুলিসের কাছে অনুরোধ, আপনারও আমাদের বাংলার পুলিশ ফোর্স। দয়া করে আপনারা নিজেদের মাথা নত করবেন না। আপনারা মানুষকে শান্তি দেবেন। মানুষ যাতে তাঁদের গণতান্ত্রিত রায় দিতে পারেন তা দেখবেন। কোটি কোটি টাকা দিয়ে কাউকে কাউকে কিনে নেওয়া হচ্ছে। আমাদের কাছে সব খবর আছে।’

এদিনের সভামঞ্চ থেকে তিনি এও অভিযোগ করেন যে, টাকা দিয়ে বিহার উত্তরপ্রদেশ থেকে গুন্ডা নিয়ে এসেছে বিজেপি। বলেন, ‘এতবড় সাহস, এখানে মা বোনেদের গায়ে হাত দেয়! আমরা চাই শান্তিতে থাকতে। সেই লক্ষ্যেই তৃণমূলকে ভোট দিন।’ উল্লেখ্য, শুধু বিজেপিকেই আক্রমণ নয়, এদিন বলাগড়ের সভায় তিনি বলেন যে, ‘আবদুল মান্নানকে জেতাবেন না। ও সিপিএমের সঙ্গে মিলে আমাকে খুব জ্বালায়।’

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.