স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, এই ঋণ পাওয়ার শর্ত কী? ঋণই বা কতো দিনের জন্য?

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, এই ঋণ পাওয়ার শর্ত কী? ঋণই বা কতো দিনের জন্য?
স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, এই ঋণ পাওয়ার শর্ত কী? ঋণই বা কতো দিনের জন্য?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নবান্ন থেকেই এই কার্ডের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের আগেই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী ইস্তাহারে। ভোটের পর, তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসে সেই কথাই রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চালু হল স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প। দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী অনলাইনে এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এদিন এই প্রকল্পের উদ্বোধন করে, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষার জন্য ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পাবেন ছাত্রছাত্রীরা৷ সর্বোচ্চ ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণের আবেদন করা যাবে৷

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কার্ডের উদ্বোধনে বলেন যে, ‘আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। আগেই সবুজসাথী, কন্যাশ্রী, ঐকশ্রী–সহ একাধিক প্রকল্প চালু হয়েছে। ভোটের আগে পড়ুয়াদের জন্য যে ক্রেডিট কার্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা চালু করা হল। টাকার অভাবে আর কারও লেখাপড়া বন্ধ হবে না।’

এদিন শুধু স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের উদ্বোধন করাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিশদে জানিয়েছেন, এই কার্ডের সুবিধে, কী শর্তে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে? সবই বিস্তারিতভাবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দশম থেকে শুরু করে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডিপ্লোমা, গবেষণা, ডাক্তারি পড়ার ক্ষেত্রে এই কার্ডের মাধ্যমে লোন পাওয়া যাবে। এখানেই শেষ নয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যাঁরা, সেক্ষেত্রে তাঁরা কোচিংয়ের ফি-ও মেটাতে পারবেন এই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। এর বাইরে লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ, কোর্স ফি, হস্টেল ফি, বই কেনা যাবে। কম্পিউটার ও ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রেও এই কার্ডের মাধ্যমে মিলবে ঋণ।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে, শুধু রাজ্য বা দেশেই নয়, বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও এই কার্ড থেকে মিলবে ঋণ। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা পাওয়া যাবে। ঋণ নিয়ে যাতে শোধ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পান আবেদনকারীরা, সেই কারণে ঋণ শোধের মেয়াদ ১৫ বছর রাখা হয়েছে৷ জানা গিয়েছে, এই কার্ডের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি সমস্ত ব্যাংক থেকেই মিলবে অর্থ।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী এই কার্ডের উদ্বোধন করে বলেন যে, ‘সরকার ক্ষমতায় এলে আমরা এটা করব বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সারা বিশ্বে এতো বড় প্রকল্প এই প্রথম। কথা রাখাটাই আমাদের কাজ। দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা ঋণ নিতে পারবে৷ এর জন্য কোনও গ্যারান্টার লাগবে না৷ রাজ্য সরকারই গ্যারান্টার থাকবে৷’

সর্বোচ্চ চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করা যাবে, এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইচ্ছে করেই চল্লিশ বছর পর্যন্ত বয়সসীমা রেখেছি। কারণ অর্থের অভাবে অনেকেই পড়াশোনা শেষ করতে পারেন না। অনেকে আবার চাকরি করতে করতেও উচ্চশিক্ষার জন্যও পড়াশোনা করেন। তাঁদেরকে সুযোগ করে দিতেই, এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাবা-মায়েদের আর কোনও চিন্তা থাকবে না, বাচ্চাদের মন খারাপ করে ঘুরে বেড়াতে হবে না৷ ঋণ পাওয়ার জন্য জুতোর শুকতলা খুইয়ে যাবে না৷ ছাত্রছাত্রীদের বলব টাকা পয়সার কথা না ভেবে, মন দিয়ে পড়াশোনা করো৷ বাবা মায়েদেরও বলব চিন্তা করবেন না৷ আপনাদের স্বপ্নপূরণ হবেই৷ আপনাদের ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে আপনাদের মুখ উজ্জ্বল করবে৷’

এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী এও জানিয়েছেন যে, কোনও আবেদনকারী চাইলেই একবারেই ১ লক্ষ টাকা ঋণ পেতে পারেন। আবার কেউ চাইলে, ধাপে ধাপেও প্রয়োজন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে, এদিন মুখ্যমন্ত্রী জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডের প্রসঙ্গের অবতারণা করে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষাসচিব সহ সরকারি আধিকারিক এবং ব্যাঙ্কগুলিকেও সতর্ক করেছেন। তিনি জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডের উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, এই স্টুডেন্ট কার্ডের মাধ্যমে যাতে কোনও প্রতারণা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে৷ পাশাপাশি ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদেরও সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কোনও জালিয়াতির খপ্পরে পড়বেন না।’

অন্যদিকে, এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, সবুজ সাথী প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ১ কোটি পড়ুয়া সাইকেল পেয়েছে। ভোটের জন্য কিছু দিন কাজ বন্ধ ছিল, তবে তা আবার শুরু হয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে আরও ১২ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে সবুজ সাথী প্রকল্পে সাইকেল দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পে দ্বাদশ শ্রেণির ৮ লক্ষ ৭৬ হাজার পড়ুয়াকে ট্যাব কিনতে দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে৷ এখন যারা একাদশ শ্রেণিতে পড়ছে, তারা দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠলে, আরও প্রায় ৯ লক্ষ পড়ুয়াকে ট্যাব কেনার জন্য টাকা দেওয়া হবে৷