বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

দ্রুত গতিতে বাড়ছে সংক্রমণ! গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে একধাক্কায় অনেকটাই বাড়ল দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা

১১:০৫ এএম, জানুয়ারি ১৬, ২০২২

দ্রুত গতিতে বাড়ছে সংক্রমণ! গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে একধাক্কায় অনেকটাই বাড়ল দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ নতুন বছর শুরু হয়েছে সেই করোনার আতঙ্ককে সঙ্গে নিয়েই। দেশে করোনা সংক্রমণ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা। ঊর্ধ্বমুখী অ্যাকটিভ কেসও। আবারও একবার তৃতীয় ঢেউয়ে বেসামাল দেশ। এদিকে, করোনার নতুন স্ট্রেনের দাপট রুখতে কেন্দ্রের পুরনো টেস্টিং এবং ট্রাকিং নীতিতেই আস্থা রাখছেন মোদী। পাশাপাশি জোর দিতে বলছেন টিকাকরণেও। এই মুহূর্তে দেশের একাধিক শহরে জারি রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ, নাইট কারফিউ। তবে, কড়া বিধিনিষেধ জারি এবং সতর্কতার পরেও কাজ হচ্ছে না। কিছুতেই বাগে আসছে না সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ফের একধাক্কায় অনেকটাই বাড়ল আক্রান্তের সংখ্যা। এই মুহূর্তে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই লক্ষের বেশি। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে ফের বেসামাল দেশ। দিল্লি, মুম্বই, কলকাতার মতো মেট্রো সিটিগুলিতে সংক্রমণের গতি লাগামছাড়া।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২ লক্ষ ৭১ হাজার ২০২ জন। যা আগের দিনের থেকে ২ হাজার ৩৬৯ জন বেশি। আক্রান্তের সংখ্যায় মহারাষ্ট্র, কেরল, কর্ণাটক, বাংলার পাশাপাশি চিন্তা বাড়াচ্ছে ভোটমুখী পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশও। দেশের পটিজিভিটি রেট রাতারাতি বেড়ে হয়েছে ১৬.২৮ শতাংশ। সেটাই সবথেকে বেশি চিন্তায় রাখছে চিকিৎসকদের। গতকাল দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন। পাশাপাশি প্রতিদিনই একটু একটু করে বাড়ছে নয়া স্ট্রেন ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত দেশে মোট ওমিক্রন আক্রান্ত ৭ হাজার ৭৪৩ জন।

এদিকে, বৃহস্পতিবারই করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। ওমিক্রন রুখতে স্থানীয় স্তরে কনটেনমেন্টে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্যগুলিকে অক্সিজেন মজুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১৪ জন। এই সংখ্যাটা আগের দিনের থেকে সামান্য কম। গতকাল দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছিল  ৪০২ জন। এখনও পর্যন্ত করোনায় দেশে মোট মৃতের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬৬ জন।

https://twitter.com/ANI/status/1482563209228087302

সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হল, ক্রমাগত বাড়ছে অ্যাকটিভ কেসও। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে করোনায় চিকিৎসাধীন রোগী ১৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৭৭ জন। যা আগের দিনের থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার বেশি। এই সংখ্যাটা বিশেষজ্ঞদের রীতিমতো চিন্তা বাড়াচ্ছে। যেভাবে ক্রমাগত চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে আগামী দিনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো সংকট তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত দেশে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭২১ জন করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন। যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩৩১ জন। দৈনিক আক্রান্তের তুলনায় দৈনিক সুস্থতার সংখ্যা অনেকটাই কম।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই তৃতীয় ঢেউ চলে এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের হাতিয়ার একমাত্র টিকা আর সচেতনতা। এদিকে, জানুয়ারির ৩ তারিখ থেকেই শুরু হয়েছে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের টিকাকরণ। পাশাপাশি ১০ জানুয়ারি শুরু হয়েছে ষাটোর্ধ্ব এবং ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের প্রিকশন ডোজও। কিন্তু তাতেও করোনার তৃতীয় ঢেউ কতটা ঠেকানো যাবে, তা নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্যমহলেরই একটা বড় অংশ। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৫৬ কোটি ৭৬ লক্ষের বেশি ডোজ করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকাকরণের পাশাপাশি আগের মতোই চলছে টেস্টিংও। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা পরীক্ষা হয়েছে ১৬ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪০৪ জনের। অন্যদিকে, ওমিক্রনের দাপট রুখতে দেশের একাধিক রাজ্যে জারি রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। বাংলা তার মধ্যে অন্যতম।