বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্তের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফে সামান্য পতন! একধাক্কায় অনেকটাই বাড়ল মৃত্যুর হার

১১:২১ এএম, জানুয়ারি ১৭, ২০২২

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্তের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফে সামান্য পতন! একধাক্কায় অনেকটাই বাড়ল মৃত্যুর হার

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ নতুন বছর শুরু হয়েছে সেই করোনার আতঙ্ককে সঙ্গে নিয়েই। দেশে করোনা সংক্রমণ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা। ঊর্ধ্বমুখী অ্যাকটিভ কেসও। আবারও একবার তৃতীয় ঢেউয়ে বেসামাল দেশ। এদিকে, করোনার নতুন স্ট্রেনের দাপট রুখতে কেন্দ্রের পুরনো টেস্টিং এবং ট্রাকিং নীতিতেই আস্থা রাখছেন মোদী। পাশাপাশি জোর দিতে বলছেন টিকাকরণেও। এই মুহূর্তে দেশের একাধিক শহরে জারি রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ, নাইট কারফিউ। লাগাতার দৈনিক সংক্রমণ বাড়ার পর, নতুন সপ্তাহে সামান্য কমল আক্রান্তের সংখ্যা। তবে, একধাক্কায় অনেকটাই বাড়ল মৃত্যুর হার। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে ফের বেসামাল দেশ। দিল্লি, মুম্বই, কলকাতার মতো মেট্রো সিটিগুলিতে সংক্রমণের গতি লাগামছাড়া।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৮৯ জন। গতকালের থেকে সংক্রমণ কম। গতকাল দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৭১ হাজার ২০২ জন। আক্রান্তের সংখ্যায় মহারাষ্ট্র, কেরল, কর্ণাটক, বাংলার পাশাপাশি চিন্তা বাড়াচ্ছে ভোটমুখী পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশও। সেটাই সবথেকে বেশি চিন্তায় রাখছে চিকিৎসকদের। মুম্বইয়ে সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তের জেরে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।  এছাড়া ভোটমুখী উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাবেও বাড়ছে সংক্রমণ। বাংলার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বিগ্ন কেন্দ্র। বিভিন্ন রাজ্যে কড় কোভিডবিধি জারি থাকলেও সংক্রমণে বাগে আনা রীতিমত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যদিও ভোটমুখী ৫ রাজ্যে করোনার বাড়বাড়ন্ত এড়াতে সমস্ত সভা, মিছিল আপাতত স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি প্রতিদিনই একটু একটু করে বাড়ছে নয়া স্ট্রেন ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা। দৈনিক সংক্রমণের প্রায় ৫০ শতাংশই ওমিক্রন বলে জানাচ্ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

গত বৃহস্পতিবারই করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। ওমিক্রন রুখতে স্থানীয় স্তরে কনটেনমেন্টে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্যগুলিকে অক্সিজেন মজুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে, উদ্বেগ বাড়িয়েছে মৃতের সংখ্যা। একদিনে দেশে করোনার বলি ৩৮৫ জন, রবিবারও যা ছিল ৩১৪। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় লাফিয়ে বেড়েছে মৃত্যুহার।

https://twitter.com/ANI/status/1482926484474175489

সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হল, ক্রমাগত বাড়ছে অ্যাকটিভ কেসও। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে করোনায় চিকিৎসাধীন রোগী ১৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৪১ জন। রবিবারও যা ছিল সাড়ে ১৫ লক্ষের সামান্য বেশি। এই সংখ্যাটা বিশেষজ্ঞদের রীতিমতো চিন্তা বাড়াচ্ছে। যেভাবে ক্রমাগত চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে আগামী দিনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো সংকট তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৪০ জন। দৈনিক আক্রান্তের তুলনায় দৈনিক সুস্থতার সংখ্যা অনেকটাই কম।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই তৃতীয় ঢেউ চলে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের হাতিয়ার একমাত্র টিকা আর সচেতনতা। এদিকে, জানুয়ারির ৩ তারিখ থেকেই শুরু হয়েছে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের টিকাকরণ। পাশাপাশি ১০ জানুয়ারি শুরু হয়েছে ষাটোর্ধ্ব এবং ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের প্রিকশন ডোজও। কিন্তু তাতেও করোনার তৃতীয় ঢেউ কতটা ঠেকানো যাবে, তা নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্যমহলেরই একটা বড় অংশ। তাও মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুঝতে পারে একমাত্র ভ্যাকসিন। কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকগুলিতে বারবার  এমনই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। টিকাকরণের পাশাপাশি আগের মতোই চলছে টেস্টিংও।