ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘জরুরি ব্যবস্থা’ নেওয়ার নির্দেশ রাজ্যের

ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে 'জরুরি ব্যবস্থা' নেওয়ার নির্দেশ রাজ্যের
ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে 'জরুরি ব্যবস্থা' নেওয়ার নির্দেশ রাজ্যের

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একদিকে রাজ্যে চলছে বিধানসভা নির্বাচন, আর সেই আবহে ফের একবার বেলাগাম রাজ্যে করোনা সংক্রমণ। এমনিতেই দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ নতুন করে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাজেহাল দেশ। এই পরিস্থিতিতে এ রাজ্যেও নির্বাচনী আবহে ক্রমশই বাড়ছে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা।

উল্লেখ্য, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই রাজ্যে চলছে বিধানসভা নির্বাচন। আর এই ভোট উৎসবকে কেন্দ্র করে সভা-সমাবেশ, মিটিং, মিছিল লেগেই রয়েছে। এসবে বহু মানুষের জমায়েত হচ্ছে। যথেচ্ছভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে করোনাবিধি। বেশিরভাগের মুখে থাকছে না মাস্ক, মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা। দৈনিক সংক্রামিতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ অবস্থায় রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালগুলোতে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল পরিস্থিতি মোকাবিলায়, তার থেকেও ২০ শতাংশ বেশি ব্যবস্থা তৈরি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই ব্যবস্থা তৈরি রাখার নির্দেশ দিল রাজ্য। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে করোনা। বাংলায় নির্বাচনী আবহে দৈনিক সংক্রমণে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে রাজ্য।

একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ। কলকাতায় ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রামিত এক হাজারেরও বেশি। আর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এর মধ্যে কলকাতায় মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। কাজেই পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই। কথা মতো সোমবার ভোট হয়ে যাওয়া ১০ টি জেলার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব। সেখানেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। এবার দেখে নেওয়া যাক, নির্দেশে কী কী বলা হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় আজকের বৈঠকে বলা হয়েছে যে, গত বছরের তুলনায় হাসপাতালগুলোতে ২০ শতাংশ বেশি ব্যবস্থা তৈরি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবিলায়। মাইক্রো কনটেইনমেন্ট জোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সংক্রমণ রুখতে আরটিপিসিআর পরীক্ষা বাড়াতে হবে। জনবহুল এলাকায় অকারণে ভিড় বা জমায়েত করা যাবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন মজুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে অক্সিজেনের ঘাটতি না পড়ে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ও ভেন্টিলেশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে নির্দেশে। অন্যদিকে, করোনা মোকাবিলায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে ওঠা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সচেতনতা বাড়াতে প্রচার বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনোভাবেই ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। যে যে জেলায় ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, সেই সব জেলায় করোনা সচেতনতায় আরও জোর দিতে হবে। বাড়াতে হবে সেফ হোমের সংখ্যাও। শুধু সেফ হোমের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, এর পাশাপাশি সেফ হোমগুলোর জন্য চিকিৎসক নির্দিষ্ট করে রাখতে হবে।

এছাড়াও ডিএম, জেলা প্রশাসনকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, রাজনৈতিক দলগুলো প্রচারের অনুমতি চাইতে এলে তাদেরকেও যেন নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.