ভয়ঙ্কর! বাংলার দৈনিক সংক্রমণ প্রায় ১১ হাজার ছুঁইছুঁই! শুধুমাত্র এই জেলাতেই আক্রান্ত ২,৫৬৮ জন

ভয়ঙ্কর! বাংলার দৈনিক সংক্রমণ প্রায় ১১ হাজার ছুঁইছুঁই! শুধুমাত্র এই জেলাতেই আক্রান্ত ২,৫৬৮ জন
ভয়ঙ্কর! বাংলার দৈনিক সংক্রমণ প্রায় ১১ হাজার ছুঁইছুঁই! শুধুমাত্র এই জেলাতেই আক্রান্ত ২,৫৬৮ জন / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে মারণ করোনা। দ্রুত গতিতে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা। দেশের অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি ভোটের আবহে বাংলাতেও বাড়ছে সংক্রমণ।

প্রতিদিন দৈনিক সংক্রমণের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। এবার ভয় এবং উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে রাজ্যে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা এবার প্রায় ১১ হাজার ছুঁইছুঁই। গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৭৮৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের। ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে বাংলার করোনা পরিস্থিতি।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে রাজ্য সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৪৯৬ জন। বাংলায় সংক্রমণের নিরিখে প্রথম স্থানে রয়েছে কলকাতা। শুধুমাত্র কলকাতাতেই গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৬৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। দ্বিতীয় স্থানে থাকা উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৪৯ জন, মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।

অন্যদিকে, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৯৫৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৭১০ জনের। আশঙ্কাজনকভাবে কমছে সুস্থতার হারও। এই মুহূর্তে রাজ্যে সুস্থতার হার ৮৯.২৩ শতাংশ।

রাজ্যে বাড়তে থাকা করোনা সংক্রমণের কারণে চিন্তা এবং উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের। একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে প্রায় হাজারের কাছাকাছি। মঙ্গলবার রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছিল ৯ হাজার ৮১৯ জন, মৃত্যু হয়েছিল ৪৬ জনের। রাজ্যে ক্রমশ বাড়ছে করোনা। উল্লেখ্য, রাজ্যে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করেছে প্রশাসন। এমনকী, প্রয়োজনের ছুটির দিনেও কাজ করতে হতে পারে তাঁদের, সম্প্রতি স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় এমনটাই জানানো হয়েছে।

রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই করোনা চিকিৎসায় ২৫ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতাল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে ৩৪০০। জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষে ৮০০০ বেড করোনার জন্য বরাদ্দ করা হবে।

১০ টা ইএসআই হাসপাতালে ৫০ টি করে মোট ৫০০ টি বেড কোভিডের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে এই সপ্তাহের শেষে আরও ৯০০ টি বেডের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে রাজ্যের সব জেলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সিরিয়াস নয়, এমন রোগীকে কলকাতায় রেফার করা যাবে না।

এছাড়াও কয়েকটি জেলার হাসপাতালকে নিয়ে একটি জোন তৈরি করা হয়েছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান নিয়ে গঠিত একটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন মনিশ জৈন। পূর্ব পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম নিয়ে গঠিত জোনের দায়িত্বে এমভি রাও। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলাকে নিয়ে গঠিত জোনের দায়িত্বে থাকছেন সুরেন্দ্র গুপ্তা।

উল্লেখ্য, এই প্রথমবার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে কোভিড বেডের ব্যবস্থা করা হল। এই হাসপাতালে ২২০ টি বেডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রোগীর রাশ সামাল দিতে, ১২ টি পুলিশ হাসপাতালে ৩৪০ টি কোভিড বেডের ব্যবস্থা করা হছে। ২৮ টি হোটেলে ৬৫৮ টি রুম কোভিড আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে।

এদিকে, করোনার মোকাবিলায় টিকাকরণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিনের পর ক’দিন আগে রাশিয়ার ভ্যাকসিন স্পুটনিক ভি-কে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এবার আরও এক ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ভ্যাকসিন পেতে চলেছে ভারত। এবার আরও এক ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ভ্যাকসিন পেতে চলেছে ভারত। চলতি বছরের অগাস্টের মধ্যেই দেশের হাতে মিলতে পারে হায়দরাবাদের বায়োলজিক্যাল ই ভ্যাকসিন। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় ট্রায়ালের জন্য তৈরি হায়দরাবাদের বায়োলজিক্যাল ই ভ্যাকসিন।

এই প্রসঙ্গে নীতি আয়োগের সদস্য ডা. ভি কে পাল বলেছেন, ‘ভারতে তৈরি ভ্যাকসিন বায়োলজিক্যাল ই-র প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ট্রায়াল শেষ হয়েছে। শীঘ্রই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হবে।’