শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

পাশবিক হত্যাকাণ্ড! স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে খুন করে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ, ২ মাস পরে গ্রেফতার স্বামী

আত্রেয়ী সেন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৩, ০১:২৩ পিএম | আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২৩, ০১:২৭ পিএম

পাশবিক হত্যাকাণ্ড! স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে খুন করে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ, ২ মাস পরে গ্রেফতার স্বামী
পাশবিক হত্যাকাণ্ড! স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে খুন করে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ, ২ মাস পরে গ্রেফতার স্বামী / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ শিউরে ওঠার মতো এক ঘটনা প্রকাশ্যে এল। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের। যদিও ঘটনা ঘটার ২ মাস পরে তা সামনে এসেছে। স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকে নিজের হাতে খুন করে পুঁতে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিজের হাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে কুড়ুল দিয়ে খুপিয়ে খুন করার পর, দেহ লোপাটের উদ্দেশ্যে তিনটি দেহই বাড়ির মেঝের তলায় পুঁতে দেন অভিযুক্ত।

শিউরে ওঠার মতো এই হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে মধ্যপ্রদেশের রতলামে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত গৃহকর্তা এবং তাঁর সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে প্রায় মাস ২ আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী, ৭ বছরের পুত্র এবং ৪ বছরের কন্যাকে খুন করে বাড়ির মেঝেতে পুঁতে দেন। এরপর তাঁর প্রতি কারও যাতে কোনও সন্দেহ না হয়, তাই ওই বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন মৃতা মহিলা। পারিবারিক অশান্তির জেরেই নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে খুন করেন অভিযুক্ত স্বামী। অভিযুক্ত ব্যক্তিড় নাম সোনু, তিনি রেলের গ্যাংম্যান ছিলেন। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, নিহত গৃহবধূর পরিবারের তরফে মৃতার সঙ্গে বিগত কয়েকদিন ধরে যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তেই রবিবার অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির মেঝে খুঁড়ে তিনটি শবদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনা প্রসঙ্গে রতলামের এসপি অভিষেক তিওয়ারি জানিয়েছেন যে, নিহত গৃহবধূর কয়েক জন আত্মীয় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এদিকে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী-পুত্র-কন্যার নিখোঁজের ব্যাপারে পুলিশে কোনও অভিযোগ জানাননি। পরে তদন্তে নেমে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তিনি জেরার মুখে ভেঙে পড়েন এবং খুনের কথা স্বীকার করে নেন। এরপরই বাড়ির মেঝে খুঁড়ে দেহগুলি বার করা হয়। অভিযুক্তই জানিয়েছিলেন যে, দেহগুলি মেঝেতে পোঁতা রয়েছে। এরপর চিকিৎসক এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে মেঝে খুঁড়ে দেহগুলি উদ্ধার করা হয়।

রতলামের এসপি অভিষেক তিওয়ারি আরও বলেছেন যে, ‘অভিযুক্ত জানিয়েছেন যে দাম্পত্য কলহের জেরে রাগের বশেই তিনি কুড়াল দিয়ে স্ত্রী, পুত্র এবং কন্যাকে খুন করেছেন। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। দেহগুলি অভিযুক্তের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের কি না, তা নিশ্চিত করতে আমরা ডিএনএ টেস্টের সাহায্যও নেব।’