চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় যশ! গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৬৫ কিমি, জারি সতর্কতা

চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় যশ! গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৬৫ কিমি, জারি সতর্কতা
চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় যশ! গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৬৫ কিমি, জারি সতর্কতা / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আবারও চোখ রাঙাচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। নাম ‘যশ’। উল্লেখ্য, গত বছর ২০ মে বাংলার উপর আছড়ে পড়েছিল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফান। তছনছ করে দিয়েছিল দক্ষিণবঙ্গকে। আর এবার ধেয়ে আসছে যশ। মনে করা হচ্ছে এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৬৫ কিমি, এবারও প্রবল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় যশ। তাই গত বছরের আমফান থেকে শিক্ষা নিয়ে, এবারে ‘যশ’-এর মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, উপকূলবর্তী এলাকায় নজরদারি ও মাইকিং বাড়ানো হয়েছে। হলদিয়ায় ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর তৎপরতাও তুঙ্গে এই মুহূর্তে। আগেই সবরকম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে মোকাবিলায় সবরকমের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আজ এই ঘূর্ণিঝড়কে নিয়ে ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি মিটিং করে। সেখানে ক্যাবিনেটের সেক্রেটারি রাজীব গওবা গোটা বিষয় খতিয়ে দেখতে রাজ্য এবং দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মিটিং করেন। কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এই সাইক্লোনের, তা নিয়ে সর্তকবার্তা দেওয়া হয়। IMD-র ডিরেক্টর জেনারেল জানান, সাইক্লোনের বর্তমান অবস্থান। জানানো হয়েছে, ২৬ তারিখ সন্ধে নাগাদ যশ আছড়ে পড়বে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায়।

জানা গিয়েছে যে, এই ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিমি। এর সঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাতও হওয়ার কথা। উপকূলবর্তী এলাকায় ক্ষতির সম্ভবনা বেশি। এদিকে আজ সকালেই পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। আগামীকালের মধ্যেই তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। এরপর উত্তর ও পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে ২৪ তারিখ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। এমনটাই আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অতি শক্তিশালি ঘূর্ণিঝড়ে তা পরিণত হবে। এরপরই এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিমুখ আরও উত্তর এবং উত্তর পশ্চিম দিকে ক্রমশ সরতে সরতে ধীরে ধীরে তা শক্তি বাড়িয়ে ২৬ তারিখ সকালে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের কাছে পৌঁছবে যশ৷

২৬ তারিখ বিকেলের দিকেই পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর ওড়িশা ও বাংলাদেশ উপুকূল পেরিয়ে যাবে এই অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় যশ৷ আবহবিদরা জানাচ্ছেন যে, ক্রমশ ওড়িশা উপকূল থেকে এই ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ সরে যাচ্ছে৷ ফলে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিঘা থেকে সুন্দরবনের মধ্যেই এই ঘূর্ণিঝড়ের আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি৷

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সব রাজ্যের পাশাপাশি ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গকে সবদিক থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, উদ্ধার কার্য চালানোর জন্য ৬৫ সেনাবাহিনীর দল ও ২০ অন্য দলকে ওই সময়ের জন্য রাখতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই সময়ে খাবার, জল, এবং প্রয়োজনীয় জিনিস যেন অবশ্যই মজুত রাখা হয় মানুষের জন্য। যাতে কোনও অসুবিধা না হয়। পাশাপাশি বলা হয়েছে যে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, আগে থেকে সবরকম ব্যবস্থা নিতে হবে। বলা হয়েছে যে, এই দুর্যোগের কারণে যেন কোনোভাবেই করোনার রোগীদের জন্য অক্সিজেন সাপ্লাইয়ে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। করোনা রোগীরা যাতে বিপদে না পড়েন দুর্যোগের কারণে, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। করোনা আক্রান্তরা ভর্তি আছেন এমন হাসপাতাল ছাড়াও, জরুরিভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরি রাখতে বলা হয়েছে।

আগেই মৎস্যজীবিদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা আগে থেকেই সমুদ্রে গিয়েছেন, তাঁদের ফিরেও আসতে বলা হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এদিন বৈঠকে বলা হয়েছে যে, সমুদ্র থেকে সব মৎস্যজীবিদের যেন সরিয়ে নিয়ে আসা হয়। যদিও জানা গিয়েছে যে, সবাইকেই সরিয়ে আনা হয়েছে ইতিমধ্যে। আরও বলা হয়েছে যে, কোনও নৌকা, বোর্ড কিছুই যেন না থাকে সমুদ্রে। উপকূলবর্তী এলাকার মানুষদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। যাতে ক্ষতি কম হয়, সেটা মাথায় রেখেই সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আজকের এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, আন্দামান নিকোবর ও পুদুচেরির দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা ছিলেন। এই সময় বিদ্যুৎ না থাকা এবং টেলিকম ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। রেল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে ওই সময়। যশের মোকাবিলার জন্য সবরকমভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয় বারবার।

পশ্চিমবঙ্গকে বেশি সতর্ক করা হয়েছে। গত বছর এই সময় নাগাদ আমফান এসে প্রবল ক্ষতি করেছিল মানুষের। আমফানের গতিবেগও কম ছিল না। সেই দিক থেকে যশের গতিবেগ যদি ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিমি হয়, তবে বড়সড় ঝড় হতে চলেছে। তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে সবরকমভাবে এই ঝড়ের মোকাবিলায়।