পুলিশের আত্মবিশ্বাস কমে গেছে, ছট পুজোয় বাধা দেওয়া নিয়ে প্রশাসনকে এক হাত দিলীপ ঘোষের

পুলিশের আত্মবিশ্বাস কমে গেছে, ছট পুজোয় বাধা দেওয়া নিয়ে প্রশাসনকে এক হাত দিলীপ ঘোষের
পুলিশের আত্মবিশ্বাস কমে গেছে, ছট পুজোয় বাধা দেওয়া নিয়ে প্রশাসনকে এক হাত দিলীপ ঘোষের

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ সামাজিক উৎসবকে রাজনীতির রঙ দেওয়া হয়েছে। ছটপুজোয় বাধার অভিযোগ এনে, পুলিশ-প্রাশাসনকে শনিবার একহাত নিলেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

ভিআইপি নগরের বিবেকানন্দ পার্কে ছট পুজোর এক অনুষ্ঠানে তিনি এদিন অভিযোগ করেন, “পুজো, বিয়ে অন্নপ্রাসন— সব কিছুতেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি হয়। তারা চায় একটা দলই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করুক। এ জন্য আমরা যখন অনুষ্ঠান করছিলাম, খুব চেঁচাচ্ছিল। মঞ্চ রাত ১২টায় পুলিশ খুলে দিয়েছে। যে ঘাটে প্রত্যেক বছর পুজো হয়, সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমন একটা সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, সবাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা চলতে পারে না”।

তিনি অভিযোগ করেন, “ছটপুজোর শুভেচ্ছার জন্য যে মাইক লাগানো হয়েছিল, তা খুলে দেওয়া হয়েছে। মঞ্চ খুলে দেওয়া হয়েছে। কাল থেকেই চেষ্টা হয়েছে অনুষ্ঠান করতে না দেওয়ার। আমি আসব বলে ওদের উত্তেজনা হয়েছে। কিন্তু আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান করি। চা পানও করেছি। জনসংযোগও হয়েছে। এভাবে কাউকে আটকে রাখা যায় না। আদালতের একটা নির্দেশিকা আছে। কিন্তু তার মানে এই নয়, যে পুরো এলাকা বাঁশ দিয়ে ঘিরে দিতে হবে। পুলিশ-প্রশাসনের আত্মবিশ্বাস কমে গেলে যা হয়! গতবার রবীন্দ্র সরোবরে যে ঘটনা ঘটেছিল, ভয় পেয়ে এবার এ রকম করেছে”।

দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমার মনে হয়, বিকল্প ব্যবস্থা করে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস আনা যায়। সেটা অসম্ভব নয়। এই সরকার মানুষের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। ছটপুজোর একটা বিধিবিধান আছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা করতে হয়। সুভাষ সরোবরে চারটে ইঁট পেতে ওপরে প্লাস্টিক দিয়ে দেওয়া হয়েছে”।

হাতমাইকে এ দিন দিলীপবাবু বলেন,“গঙ্গা মাইয়া কী জয়, ভারত মাতা কী জয়! পুণ্যপ্রভাতে সবাইকে অভিন্দন। যাঁরা উপবাস করে আছেন, ভগবান তাঁদের সকলের মনস্কামনা পূর্ণ করুন। আগামী বছর যাতে আরও আনন্দ-অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই পুজো করতে পারি, ভগবানের কাছে সেই প্রার্থনা করি। ছট এবং জগদ্ধাত্রী পুজো দিয়ে এই পুজোর মরশুম শেষ হবে। সারা বছর ভয়ের পরিবেশের মধ্যে থেকেছি”।

দিলীপবাবু বলেন, “ছটপুজোর বিকল্প ব্যবস্থা হয়নি। যে ঘাটে পুজো হত, সেটাও বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের তৈরি মঞ্চ পুলিশ ভেঙে দিয়েছে। জানিনা, আমরা আনন্দ করলে অন্য লোকের এত কষ্ট হয় কেন”।

দিলীপবাবু বলেন, “যাঁরা অন্যের আনন্দ সহ্য করতে পারেন না, তাঁদের জন্য কষ্ট হয়। আগামী বছর থেকে এটা আর হবে না। সবাই আনন্দ করবে। পুজো ধুমধাম করে হবে”।

দিলীপবাবু বলেন, “যাদের মনে সুখ নেই, তারা অন্যের সুখ দেখতে পারে না। সাধারণ মানুষ ঠিক করেছে পরিবর্তন করতে হবে। সমস্ত পুজো-পার্বন একটা দল দায়িত্ব নিয়েছে। ওই দলের সভাপতি হলে আপনি পুজো করতে পারবেন। ওই দলের নেতা আপনার পুজোর উদ্বোধন করবেন। সামাজিক উৎসবকে রাজনীতির রঙ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে হত্যা করার এটা প্রমাণ। আমরা লড়াই করতে করতে এগোচ্ছি। বাংলার পরির্তন হবেই”।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.