ভবানীপুরে বড় হারের পর, বাকি ৪ কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কী হবে বিজেপির ফল? কী বলছেন দিলীপ ঘোষ?

ভবানীপুরে বড় হারের পর, বাকি ৪ কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কী হবে বিজেপির ফল? কী বলছেন দিলীপ ঘোষ?
ভবানীপুরে বড় হারের পর, বাকি ৪ কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কী হবে বিজেপির ফল? কী বলছেন দিলীপ ঘোষ?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে। ২০০ আসন নিয়ে জেতার দাবি করলেও, ৭৭-র এই থামতে হয় রাজ্য বিজেপিকে। এরপর আবার বিজেপি বিধায়কদের দল ছাড়ার ও দুই বিধায়কের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কারণে, সেই সংখ্যাও কমে এসেছে। এরপর আবার উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য বিজেপি।

ভবানীপুর, সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুর এই তিন কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে ফের জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই উপনির্বাচনে নজর ছিল ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে বেশি। এই কেন্দ্রে প্রার্থী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উপনির্বাচনেও বিজেপি তাঁদের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি হবে বলেও দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ অক্টোবর রাজ্যের আরও চার কেন্দ্রে রয়েছে উপনির্বাচন। কিন্তু একের পর এক ধাক্কা খেতে থাকা বিজেপি কি আদৌ এই ৪ কেন্দ্রে রাজ্যের শাসকদলকে হারাতে পেরবে? নাকি আবারও ভবানীপুর-জঙ্গিপুরের মত এখানেও তাঁদের হার হবে? এই প্রশ্নের উত্তর তো সময়েই জানা যাবে। কিন্তু বিজেপির সর্বভারতীয় সহ- সভাপতি দিলীপ ঘোষ অবশ্য অন্য কথা বলছেন। তিনি বলছেন বাকি ৪ কেন্দ্রেও ‘লড়াই’ হবে। রবিবার ভবানীপুরের ফল প্রকাশের পর মুখ খোলেননি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু সোমবারই সকালে তাঁর কাছে এই প্রশ্ন করে সংবাদমাধ্যম। ভবানীপুর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, বিজেপি নেতা বলেন, ‘ভবানীপুরে আমাদের সংগঠনের দুর্বলতা রয়েছে সেটা ঠিক। কারণ গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে বিরোধীদের প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। রীতিমত ভয় দেখানো হয়েছে, অনেকে ভয়েই বের হননি ভোট দিতে।’

ফলাফল প্রকাশের পর, সাংবাদিকদের সামনে গতকাল প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল বলেছিলেন, ‘কাল একজন সাংবাদিকের খবর দেখছিলাম, সেখানে তাঁর একটা কথা খুব ভালো ভালো লাগল। তিনি বলছিলেন, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ হয়, তখন যে কোনও একটি দল জেতে। তবে, সবসময় এটা জরুরি নয়, যে দল জিতছে, সেই দল থেকেই ম্যান অফ দ্য ম্যাচ (ম্যাচের সেরা) হবেন। ম্যাচটা হয়তো আমি হেরে গিয়েছি। কিন্তু ম্যান অফ দ্য ম্যাচ আমিই আছি। সেটা আপনারাই বলেছেন।’ মমতাকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, ‘সব ওয়ার্ডে রিগিং হয়েছে।’

এই পরিস্থিতিতে দিনহাটা, খড়দহ, গোসাবা এবং শান্তিপুরের উপনির্বাচনে আদৌ কি সংগঠনকে মজবুত করে তৃণমূলকে টক্কর দেওয়া সম্ভব? দিলীপ ঘোষ সাফ জানাচ্ছেন, ‘আগামী চারটে উপনির্বাচনে আমাদের সঙ্গে ভালো ফাইট হবে। কারণ ওখানে আমাদের সংগঠন মজবুত রয়েছে।’

একইসঙ্গে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘ভবানীপুরে যে রেজাল্ট আশা করা হয়েছিল, তাই হয়েছে। লিড একটু বেশি হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, আরেকটু কম হবে। কিন্তু লোকে ভয়ে বেরোয়নি ভোট দিতে। বিরোধী ভোটার ছিল তাঁরা। সেই জন্য লিডটা বেশি হয়েছে। টিএমসি-র সব মন্ত্রী সভায় নেমে গিয়েছিল। নাচ গান সবই হয়েছে। আমরাও তার সামনে সমানে টক্কর দিয়ে প্রচার করেছি। কারণ আমরা বিরোধী দল হয়ে লড়াই করছি।’

পুজো মিটলেই ফেরে রাজ্যে উপনির্বাচন। ৩০ অক্টোবর ভোট হবে রাজ্যের আরও চারটি কেন্দ্রে। এই চারটি কেন্দ্র হল, শান্তিপুর, দিনহাটা, খড়দহ এবং গোসাবা। রবিবার ভবানীপুরের ফল ঘোষণার পরই এই চারটি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, আলোচনা চলছে গোসাবার প্রার্থীকে নিয়ে। এককথায় এই প্রার্থী তালিকায় কোনও চমক নেই।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে শান্তিপুর আসনে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ব্রজকিশোর গোস্বামী। রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যোগ না থাকলেও, তাঁর উপরই ভরসা করছে জোড়াফুল শিবির। জগন্নাথ সরকার বিধায়ক পদ গ্রহণ না করায় এবার সেই আসনেই হবে উপনির্বাচন। দিনহাটায় উপনির্বাচনে দলের দীর্ঘদিনের সৈনিক উদয়ন গুহর উপরই ভরসা রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও এই কেন্দ্রে তিনিই প্রার্থী ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের। মাত্র একশোরও কম ভোটে বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের কাছে পরাজিত হন তিনি। কিন্তু নিশীথ প্রামাণিক বিধায়ক পদ ছাড়ায়, এই কেন্দ্রে ফের উপনির্বাচন হতে চলেছে।

অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনে গোসাবা থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জয়ন্ত নস্কর। জয়ীও হয়েছিলেন। কিন্তু এর পরেই কয়েকমাস আগে মৃত্যু হয় তাঁর। সেই কারণেই ওই আসনে হবে উপনির্বাচনে। ওই আসনের প্রার্থীর নাম এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি তৃণমূল। এদিন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন দু’জনের নাম। তাঁদের মধ্যে একজন প্রয়াত বিধায়ক জয়ন্ত নস্করের ছেলে বাপ্পাদিত্য নস্কর। অন্যজন পঞ্চায়েত প্রধান সুব্রত মণ্ডল। এই দু’জনের মধ্যেই একজনকেই উপনির্বাচনে গোসাবা থেকে প্রার্থী করবে তৃণমূল।