‘পরিবারতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল উদ্বেগের কারণ’! সংবিধান দিবসে পরোক্ষে কংগ্রেসকে খোঁচা মোদীর

‘পরিবারতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল উদ্বেগের কারণ’! সংবিধান দিবসে পরোক্ষে কংগ্রেসকে খোঁচা মোদীর
‘পরিবারতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল উদ্বেগের কারণ’! সংবিধান দিবসে পরোক্ষে কংগ্রেসকে খোঁচা মোদীর

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ সংবিধান দিবস হিসেবে দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গণতান্ত্রিক দেশে সংবিধানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এদিন সংসদের সেন্ট্রাল হলে দাঁড়িয়ে, আবারও রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র নিয়ে পরোক্ষে কংগ্রেসকে খোঁচা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান আমাদের দেশকে বেঁধে রাখে। আজ এই কক্ষকে সম্মান জানানোর দিন। যেখানে দেশের বহু নেতৃত্ব সংবিধান তৈরি করেছেন। মহাত্মা গান্ধী এবং আর যাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন, তাঁদের আজ শ্রদ্ধা জানাই।’ মোদী আরও বলেন যে, ‘কত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে দেশের এই সংবিধান তৈরি হয়েছে, তা বোঝাতেই ১৯৫০-এর পর থেকে এই বিশেষ দিনটি পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এখনও কিছু মানুষ তা বোঝেননি।’

অন্যদিকে, এদিন মোদী তাঁর ভাষণে বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেন, ‘বংশ পরম্পরায় যদি একটি রাজনৈতিক দল একটা পরিবার দ্বারা চালিত হয়, তবে তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত পরিবারতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকান। এটা গণতন্ত্রের বিরোধী। যাঁরা সংবিধানে বিশ্বাস করেন, তাঁদের জন্য এটা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চে পরিবারতান্ত্রিক দলের  কোনও অভাব নেই। তবে, এদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ইঙ্গিতে কংগ্রেসকেই নিশানা করেছেন। তবে, এটাই প্রথমবার নয়, অতীতে বারবার রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘ঐতিহ্য ভাঙিয়ে’ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অভিযোগ করেছেন মোদী। এহেন আক্রমণের কারণের ব্যাখ্যায় বলা যেতে পারে, আগামী বছরই পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। আর আঞ্চলিক দলগুলি যতই নিজেদের জয়ঢাক পেটাক না কেন, জাতীয় স্তরে বিজেপিকে সমানে সমানে টেক্কা দেওয়া ক্ষমতা নেই তাঁদের কারোও। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে গেরুয়া শিবিরে প্রধান এবং একমাত্র প্রতিপক্ষ কংগ্রেস। তাই ওই সব রাজ্যের নির্বাচনের আগে আবারও কংগ্রেসকে বুর্জোয়া দল তকমা দিয়েছে দুর্বল করতে চাইছেন মোদি।

এদিন যখন প্রধানমন্ত্রী সংসদের সেন্ট্রাল হলে এই ভাষণ দিচ্ছেন, তখন সেখানে বিরোধীদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। কারণ একযোগে ওই অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। তাঁদের কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘সংবিধান দিবস’ সরকার দ্বারা পরিচালিত নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২৬ নভেম্বর অর্থাৎ আজ ভারতীয় সংবিধান দিবস।‌ গোটা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দিনটি। ২৬শে নভেম্বর ভারতের সংবিধান গ্রহণের দিনটিকে স্মরণে রেখেই এই দিনটি পালন করে দেশবাসী। ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর কেন্দ্র সরকার সরকারী বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২৬ নভেম্বর দিনটিকে ভারতের সংবিধান দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।