চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ বিজ্ঞানীদের! বাড়ছে পৃথিবীর গতি, ২৪ ঘণ্টার আগেই শেষ হচ্ছে একটা দিন!

চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ বিজ্ঞানীদের! বাড়ছে পৃথিবীর গতি, ২৪ ঘণ্টার আগেই শেষ হচ্ছে একটা দিন!
চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ বিজ্ঞানীদের! বাড়ছে পৃথিবীর গতি, ২৪ ঘণ্টার আগেই শেষ হচ্ছে একটা দিন!

বংনিউজ২৪x৭ ডেস্কঃ কোথা থেকে যে একটা গোটা দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে, বোঝাই যাচ্ছে না। দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই যেন নেমে আসছে অন্ধকার। তারপর রাত, আর রাতের শেষেই আবার সকাল। যেন মানুষের মতো সময়ও জেট গতিতে ছুটে চলেছে। আজকাল আরও বেশি করে এমনটা অনুভূত হচ্ছে।

এমনটা মনে হওয়া যে অবাস্তব, বা মনের কোনও খেয়াল তা কিন্তু নয়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করেছেন। যা জানলে আপনি বুঝতে পারবেন যে, এই ধারণা মিথ্যে নয়। তাঁদের দাবি, ধীরে ধীরে কমছে দিনের মেয়াদ। ছোট থেকেই আমরা সকলে জেনে বা পড়ে এসেছি যে, ১ দিন মানে ২৪ ঘণ্টা। এবার বইয়ের পাতায় পড়া এই তথ্যকে মুছে ফেলার সময় আগত। কারণ আজকাল আর ২৪ ঘণ্টার সম্পূর্ণ সময় অতিক্রম করছে না। তার আগেই শেষ হচ্ছে একটা দিন। এখন প্রশ্ন কেন এই পরিবর্তন?

আসলে এর পিছনে রয়েছে পৃথিবীর আবর্তন গতি। যা গত পাঁচ দশকে ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আগের থেকে বিগত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি বেড়ে গেছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই কমছে দিনের আয়ু। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৯ জুলাই, দিন সম্পূর্ণ হয়েছিল ২৪ ঘণ্টার কাঁটা স্পর্শ করার ১.৪৬০২ মিলিসেকেন্ড আগে। এদিকে ১৯৬০ সাল থেকে হিসেবে করলে বিগত ২০২০ বছরে স্বল্পতম দিনের সংখ্যা ছিল ২৮টি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই সংখ্যা চলতি বছরে আরও বাড়বে। চলতি বছরে গড়ে প্রতিদিনের মেয়াদ ২৪ ঘণ্টা থেকে ০.০৫ মিলিসেকেন্ড করে কম হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রতি ৮৬,৪০০ সেকেন্ডে পৃথিবী নিজের কক্ষপথে একবার ঘুরে আসে। ইন্টারন্যাশনাল আর্থ রোটেশন অ্যান্ড রেফারেন্স সিস্টেম সার্ভিস বা আইইআরএস জানাচ্ছে, ২০২০ ডিসেম্বরে, সরকারি সময়ের হিসাবে কোনও ‘লিপ সেকেন্ড’ যোগ হয়নি। এই ‘লিপ সেকেন্ড’ হল অনেকটা ‘লিপ ইয়ার’-এর মতোই। আইইআরএস অনুসারে, ১৯৭০ সাল থেকে প্রতি ২৭ দিনের ব্যবধানে ‘লিপ সেকেন্ড’ যোগ করা হচ্ছে। যা শেষবার যোগ করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

কিন্তু কমে যাওয়া সময়ের হিসাব মেলাতে ‘লিপ সেকেন্ড’ ২০২০ সালে যোগ না করার কারণ, ‘লিপ সেকেন্ড’ যোগ করা হয় জুন অথবা ডিসেম্বরের একেবারে শেষ দিনে। আর এই হিসাবে পরবর্তী ‘লিপ সেকেন্ড’ পড়ছে ২০২১ সালের ২০ জুন।

এবার আসা যাক কেন এই পরিবর্তন সে প্রসঙ্গে? কেনই বা বাড়ছে পৃথিবীর আবর্তনের গতি তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এর অন্যতম কারণ হতে পারে বিশ্ব উষ্ণায়ন, হিমবাহের গলন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, গ্রিন হাউস গ্যাসের জেরে দূষণ, মানুষের কারণে তৈরি হওয়া গ্লোবাল ওয়ার্মিং–এসব কিছুর জেরে পৃথিবীর সব জায়গায় হিমবাহগুলি খুব তাড়াতাড়ি গলছে। আর এই কারণেই পৃথিবীর গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তাঁরা মনে করছেন। আর তাঁদের এই মনে করার কারণ, হিমবাহের দ্রুত গলনে পৃথিবীর পরিধি তথা উপরিভাগের কিছুটা হলেও ওজন হ্রাস পায়।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.