এক কেজি সবজির দাম এক লাখ টাকা! আদৌ কি ফলিয়েছেন বিহারের সেই কৃষক? জানুন আসল সত্য

এক কেজি সবজির দাম এক লাখ টাকা! আদৌ কি ফলিয়েছেন বিহারের সেই কৃষক? জানুন আসল সত্য
এক কেজি সবজির দাম এক লাখ টাকা! আদৌ কি ফলিয়েছেন বিহারের সেই কৃষক? জানুন আসল সত্য

এক কেজি সবজির দামই নাকি প্রায় লাখ টাকা! আর এক লাখী দামী এই সবজি ফলিয়ে নাকি রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন বিহারের প্রত্যন্ত এক গ্রামের কৃষক অমরেশ সিং। সম্প্রতি সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সে খবর। তবে শেষ পর্যন্ত জানা গেল বিহারের ওই চাষি আসলে মিথ্যেবাদী। মানুষকে ঠকিয়ে সবজি চাষের মিথ্যে খবর ছড়িয়ে বিখ্যাত হতে চেয়েছিলেন তিনি। অবশেষে ধরা পড়ে গিয়েছেন৷

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই আইএএস অফিসার সুপ্রিয়া সাহু একটি টুইটের মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, বিহারের করমডিহ গ্রামের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী অমরেশ সিং এক লাখী সেই সবজি চাষ করছেন৷ হিপ শুটস’ নামের সেই সবজির আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কেজি প্রতি প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। চাহিদাও বিপুল। সেই চাহিদার কথা ভেবেই এই সবজি চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অমরেশ। টুইটের সঙ্গে অপরেশের একটি ছবিও দেওয়া হয়, যেখানে সবজির সঙ্গে তার ছবি এর বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে তোলে।

এক কেজি সবজির দাম এক লাখ টাকা! আদৌ কি ফলিয়েছেন বিহারের সেই কৃষক? জানুন আসল সত্য
এক কেজি সবজির দাম এক লাখ টাকা! আদৌ কি ফলিয়েছেন বিহারের সেই কৃষক? জানুন আসল সত্য

এই খবর জানার পরই, সর্বভারতীয় এক দৈনিকের সাংবাদিকরা সেই চাষির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা ওই দামি ফসলের ক্ষেত দেখতে চান। ওই চাষি তাঁদের জানান, তাঁর বাড়ি থেকে ১৭২ কিলোমিটার দূরে নালন্দা জেলায় ওই ফসল চাষ করছেন তিনি। যদিও এতদিন পর্যন্ত জানা গিয়েছিল, নিজের জেলার করমডিহ গ্রামেই ওই দামি ফসলের চাষ করেছেন তিনি। তবে নালন্দা গিয়েও সাংবাদিকরা ওই ক্ষেতের কোনও খোঁজ পাননি। এরপর অমরেশের সঙ্গে ফের যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চাষ হচ্ছে ঔরঙ্গাবাদে। তবে সেখানে গিয়েও চাষের জমি ও ফসলের কোনও খোঁজ পাননি সাংবাদিকরা।

এদিকে আইএএস অফিসারটিরও কোনও দোষ নেই। তিনিও অমরেশের কথা এবং ছবিতে বিশ্বাস করেই জনসমক্ষে নিয়ে এসেছিলেন সেই খবর৷ যদিও পরে প্রমাণিত হল, ওই চাষি আসলে ঠকবাজ। অমরেশের গ্রামের বাসিন্দাদের থেকে জানা গিয়েছে, পাটনা থেকেও কয়েকজন আধিকারিক এসেছিলেন। এক লাখী সেই ফসলের খোঁজ করে তাঁরাও ঔরঙ্গাবাদ ও নালন্দা জেলায় যান। কিন্তু ফসলের কোনও হদিশ পাননি। গ্রামবাসীরা আরও জানান, অমরেশ আসলে কালো চাল ও গম চাষ করে। এই ঘটনার পর যদিও গ্রাম ছেড়ে বেপাত্তা বিহারের ওই চাষি।