‘দেশের কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে’, লখিমপুর কাণ্ডে মোদী সরকারকে নিশানা রাহুলের

‘দেশের কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে’, লখিমপুর কাণ্ডে মোদী সরকারকে নিশানা রাহুলের
‘দেশের কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে’, লখিমপুর কাণ্ডে মোদী সরকারকে নিশানা রাহুলের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর-খেরিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর ছেলের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ জন কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা লখিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন কৃষক মৃত্যুর ঘটনার পর। কিন্তু প্রায় সকলকেই আটকে দেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এর মধ্যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে প্রায় ৩০ ঘন্টার বেশি সময় সীতাপুরে আটক করে রাখার পর ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে, তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। কংগ্রেস নেতা বাঘেলকে বিমানবন্দরেই আটকে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় সপা নেতা অখিলেশ যাদবকেও। এবার রাহুল গান্ধীকেও লখিমপুরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল না।

আজ সাংবাদিক বৈঠক করেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি লখিমপুর কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেন। তিনি বলেন ‘পরিকল্পিতভাবে’ দেশের কৃষকদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে কেন্দ্রের মোদী সরকার। সেই সঙ্গে দেশে ‘একনায়কতন্ত্র’ চলছে।

এদিন রাহুল গান্ধী-সহ ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের খেরিতে যাওয়ার কথা ছিল। যদিও যোগী আদিত্যনাথের সরকার যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। উত্তরপ্রদেশ সরকার কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে লখনউতে জারি হওয়া ১৪৪ ধারার পরিপ্রেক্ষিতে লখিমপুর খেরি জেলায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা যায় যে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি দিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লখিমপুরে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়। মৃত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার জন্যই লখিমপুর যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে, উত্তরপ্রদেশ সরকার অনুমতি দেয়নি। যোগী সরকারের বক্তব্য, শান্তি বজায় রাখতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, কৃষকদের শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং তাঁর ছেলের নাম উঠে আসলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না তাঁদের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, যোগী সরকারের অনুমতি না মিললেও, লখিমপুরের দিকে রওনা দিচ্ছেন কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বেই তাঁরা সেখানে যাবেন বলে জানা গিয়েছে। এদিন রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ‘দেশের কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। আগে গণতন্ত্র ছিল, ভারতে এখন একনায়কত্ব আছে। রাজনীতিবিদরা উত্তর প্রদেশে যেতে পারেন না। গতকাল থেকে আমাদের বলা হচ্ছে যে আমরা উত্তরপ্রদেশে যেতে পারব না।’

আজকের সাংবাদিক সম্মেলনেই কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী জানান যে, তিনি-সহ দুজন কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী-ছত্তিশগড়ের ভূপেশ বাঘেল এবং পাঞ্জাবের চরণজিৎ সিং চান্নি লখিমপুরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে খেরিতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

রবিবারের ঘটনার পর থেকেই লখিমপুর খেরিতে কোনও রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বিরোধী পক্ষের কোনও নেতাকেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না৷ অবশ্য গতকাল তৃণমূল সাংসদরাও দু’টি দলে ভাগ হয়ে কোনওক্রমে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন৷