পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের

পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের
পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ পুর প্রশাসকের পদে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বর থাকা চলবে না। শনিবারই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। এই নির্দেশের পরেই এবং পদ থেকে সরানোর আগেই কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। শনিবার বেশি রাতে পুরসচিব খলিল আহমেদের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন ফিরহাদ হাকিম।

এদিকে আজ, রবিবার সকালে অতিন ঘোষ, দেবাশিস কুমাররাও পদত্যাগ করেছেন। আজ ছুটির দিন হলেও, অন্যান্য প্রশাসকরাও ইস্তফা দেবেন বলে জানা গিয়েছে। বিরোধী দল বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দেয় যে, ২ মে পর্যন্ত রাজ্যের কোনও পুরসভায় কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রশাসক হিসেবে থাকতে পারবেন না। সেখানে সরকারি আধিকারিকদের নিয়োগ করতে হবে। সোমবার সকাল ১১ তাঁর মধ্যে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, তার আগেই পুর প্রশাসকরা নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, করোনার জেরে রাজ্যের অনেক পুরসভা এবং পুরনিগমের নির্বাচন সময়মতো করানো যায়নি। ফলে মেয়াদ সেস হয়ে গিয়েছে প্রাক্তন পুরবোর্ডের সদস্যদের। তবে, যাতে কোনোভাবেই নাগরিক পরিষেবায় ব্যাঘাত না ঘটে, তাই অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে পুরসভার দায়িত্ব সামলানোর জন্যই প্রশাসকমণ্ডলী তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার।

সেই জন্য মেয়াদ শেষ হওয়া মেয়র বা পুরপ্রধানদেরই ফের একবার সেই প্রশাসকমণ্ডলীর মাথায় বসানো হয়। পাশাপাশি বিদায়ী কাউন্সিলরদের ওই প্রশাসক বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তাই কলকাতা পুরনিগমের পুরপ্রশাসক পদে এতদিন অস্থায়ীভাবে নিযুক্ত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। আবার শিলিগুড়িতে পুরনিগমের পুরপ্রশাসক পদে বসানো হয়েছিল অশোক ভট্টাচার্যকে।

কিন্তু বাংলায় ভোটের মুখে এই অস্থায়ী ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে হবে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছিল যে, নির্বাচনী আচরণ বিধি চালু হওয়ার পরেও পুরসভার প্রশাসকরা বিভিন্নভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। পুরসভাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে রাজ্যের ভোটের কাজে।

এরপরই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। জানিয়ে দেওয়া হয় যে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এই পদ থেকে সরিয়ে ওই পদ্গুলিতে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বসাতে হবে। এই নির্দেশে সম্পর্কে ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্ব করছে। বিজেপির কথা অনুযায়ী কাজ করছে। যা ভয়ঙ্কর। তবে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পরেই পুর প্রশাসকরা নিজেরাই পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এক এক করে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.