মাঝ সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে উদ্ধার হল এই বহুমূল্যের ‘ধন’, বদলে গেল একদল মৎসজীবীর ভাগ্য!

মাঝ সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে উদ্ধার হল এই বহুমূল্যের 'ধন', বদলে গেল একদল মৎসজীবীর ভাগ্য!
মাঝ সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে উদ্ধার হল এই বহুমূল্যের 'ধন', বদলে গেল একদল মৎসজীবীর ভাগ্য!

মাঝ সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন একদল মৎসজীবী। সেখানে মাছের বদলে যা হাতে পেলেন, তাতেই কোটিপতি হয়ে গেলেন মৎসজীবীর দল। মূহুর্তেই বদলে গেল তাঁদের ভাগ্য! মাছ ধরতে গিয়ে অমূল্য এক ‘ধন’-এর খোঁজ পেলেন তাঁরা৷ আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য নাকি ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার! ভারতীয় মূল্যে তা প্রায় ১০ কোটি। একেই হয়তো বলে ‘ভগবানের দান’!

তবে সেই অমূল্য বস্তুটি কী? তার পোশাকি নাম অ্যাম্বার গ্রিজ। চলতি কথায় বলা হয় ‘তিমির বমি’। সামান্য মাছের বমির দামই নাকি কয়েক কোটি টাকা। হ্যাঁ এ যেন ঠিক গল্প হলেও সত্যি! অ্যাম্বারগ্রিজ বস্তুটি আসলে তিমির অন্ত্রে জমে থাকা মোমজাতীয় এক পদার্থ। যা কালো বা ছাই রঙের দেখতে হয়। এই বস্তু বমির আকারে শরীরের বাইরে বের করে দেয় মাছগুলি৷ এই বস্তু প্রসাধনী সামগ্রী তৈরিতে কাজে আসে। সুগন্ধিও তৈরি করা হয় তা দিয়ে। এছাড়াও প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতেও এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্য আকাশছোঁয়া। চাহিদাও তুঙ্গে।

কিন্তু কীভাবে সেই বস্তু হাতে এল মৎসজীবীদের? আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ইয়েমেনের ৩৫ জন মৎসজীবীর একটি দল দক্ষিণ ইয়েমেনের সেরিয়াহ উপকূলের কাছে এডেন উপসাগরে মাছ ধরতে যান। সেসময় একটি বিরাট স্পার্ম হোয়েলের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। মৃহদেহটির কাছে যেতেই তীব্র এক গন্ধ নাকে আসে মৎসজীবীদের। পরীক্ষা করার জন্য এরপর তিমির দেহটি সমুদ্রতীরে নিয়ে আসেন তাঁরা। এরপর মাছটির পেট কাটতেই খোঁজ মেলে অ্যাম্বারগ্রিজের। মৎসজীবীদের হাতে আসে অমূল্য সেই ‘ধন’! যার ওজন প্রায় ১২৭ কেজি!

অ্যাম্বারগ্রিজটিকে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছেন মৎসজীবীর দলটি৷ আপাতত ঠিক করা হয়েছে বিক্রির টাকার পুরোটাই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবেন তাঁরা। তবে একসঙ্গে এতগুলো টাকা হাতে পেলে তাঁরা ঠিক কী করবেন, তা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেননি৷ ঘটনার আকস্মিকতায় অনেকেই বেশ হতভম্ব হয়ে গিয়েছেন। তবে তাঁদের ভাগ্য যে এদিনের পর বেশ বদলে গেল তা ঠাহর করতে পারছেন প্রত্যেকেই৷ বেশ বুঝেছেন হঠাৎ করেই ঘুরে গিয়েছে তাঁদের ভাগ্যের চাকা!