মুর্শিদাবাদকাণ্ডে এনআইএ তদন্তের দাবি রাজ্যপালের

মুর্শিদাবাদকাণ্ডে এনআইএ তদন্তের দাবি রাজ্যপালের
মুর্শিদাবাদকাণ্ডে এনআইএ তদন্তের দাবি রাজ্যপালের/ ফাইল ছবি

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ এবার মুর্শিদাবাদ বিস্ফোরণকাণ্ডে এবং রাজ্যের মন্ত্রী জাকির হোসেনের গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনায় এনআইএ (NIA) তদন্তের দাবি জানালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এই একই দাবি এর আগে তুলেছিলেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গী।

এদিন সন্ধ্যায় মন্ত্রী জাকির হোসেনকে (Zakir Hussain) দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালে যান রাজ্যপাল। প্রায় মিনিট ১৫ ট্রমা কেয়ারে থাকেন তিনি। এরপর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে, বিশেষজ্ঞদের দিয়ে এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানান রাজ্যপাল।

তিনি বলেন, অনেকেই এই ঘটনায় জখম হয়েছেন। এই মুহূর্তে মন্ত্রী জাকির হোসেন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে আছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য লজ্জার। এটা সকলের জন্যই একটা সতর্কবার্তা। তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন যে, এই ঘটনা এটা মনে করিয়ে দেয় যে, হিংসার মধ্যে দিয়ে কোনও মীমাংসা সম্ভব নয়। এরপরই তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, এই ঘটনার যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। রাজ্য সরকারের সিট গঠনের কথা উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তের জন্য সিট গঠন করেছেন, তবু যেহেতু এটা বিস্ফোরণের ঘটনা, তাই এই ঘটনার তদন্তে যাঁদের বিশেষ দক্ষতা আছে, তাঁদের দিয়েই তদন্ত করানো প্রয়োজন।’ তিনি তদন্তে সকলের একসঙ্গে কাজ করার কথাও বলেন।

উল্লেখ্য, মন্ত্রী জাকির হোসেনের উপর হামলার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই এডিজি সিআইডি অনুজ শর্মার নেতৃত্বে সিট গঠন করা হয়েছে। বিশেষ তদন্তকারী দলে রয়েছে এসটিএফ, আইবি, সিআইএফ এবং স্থানীয় পুলিশ।

এদিকে বুধবার রাতেই কলকাতায় আনা হয়, গুরুতর জখম মন্ত্রীকে। বর্তমানে দুর্ঘটনায় জখম মন্ত্রী-সহ বেশ কয়েকজন এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, জাকির হোসেনের চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। মন্ত্রীর পায়ে এবং হাতে গুরুতর আঘাত রয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁর অস্ত্রোপচারও হয়েছে।

এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে রাজ্যের মন্ত্রীর উপর হামলায় উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। দল নির্বিশেষে প্রত্যেকেই এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন অধীর চৌধুরী, আবু তাহের থেকে কৈলাস বিজয়বর্গীয়। প্রত্যেকেই সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। রাজ্যপালও এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বুধবার রাতে কলকাতা যাচ্ছিলেন জাকির হোসেন। রাতে নিমতিতা স্টেশন থেকে তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস ধরার জন্য ২ নম্বর প্লাটফর্মে যাচ্ছিলেন তিনি। সঙ্গে দলীয় কর্মীরাও ছিলেন। তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হন মন্ত্রীর সঙ্গে থাকা অনেকেই। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ঘটনায় আহত এবং জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তির কথায়, বুধবার রাতে নিমতিতা স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন দলীয় কিছু কর্মী। জাকির হোসেন তাঁর কারখানা থেকে নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশনে পৌঁছান। স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি ব্যাগ রাখা ছিল। সেই ব্যাগ সরাতে গিয়েই বিস্ফোরণ ঘটে। জাকির ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, তাঁর মতো সৎ, পরিশ্রমী এবং ভালো মানুষের সঙ্গে এটা ঘটতে পারে, তা তাঁরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না। এদিকে এই ঘটনায় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে তদন্ত শুরু করেছে রেলও। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের মন্ত্রীর উপর এই হামলার পর, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.