‘আমি প্রতিদিন গোমূত্র পান করি, তাই আমার করোনা হয়নি’, দাবি বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুরের

‘আমি প্রতিদিন গোমূত্র পান করি, তাই আমার করোনা হয়নি’, দাবি বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুরের
‘আমি প্রতিদিন গোমূত্র পান করি, তাই আমার করোনা হয়নি’, দাবি বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুরের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিতর্কে জড়ানো বা বিতর্কিত মন্তব্য করা তাঁর স্বভাবজাত। এবারও তেমনই এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন বিজেপির সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর। দেশ করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত। এর মধ্যে করোনা প্রসঙ্গে আজব দাবি করে বিতর্ক উসকে দিলেন প্রজ্ঞা ঠাকুর।

বিজেপির এই সাংসদের দাবি, গোমূত্র পান করলে, করোনার জেরে হওয়া ফুসফুসের সংক্রমণ সম্পূর্ণরূপে সেরে যায়। এখানেই শেষ নয়, তিনি এক দলীয় সমাবেশে এই বক্তব্যের পাশাপাশি এও দাবি করেছেন যে, ‘আমি রোজ গোমূত্র পান করি। তাই করোনা প্রতিরোধে আমাকে কোনও ওষুধ খেতে হয় না। আমার করোনাও হয়নি। তাঁর মতে, গোমূত্রে জীবনদায়ী। গত বছর করোনার প্রথম ঢেউ যখন দেশে আছড়ে পড়েছিল, সেই সময় করোনার উপসর্গ নিয়ে দিল্লির এইমস-এ ভর্তি হয়েছিলেন সাধ্বী প্রজ্ঞা। যদিও তাঁর কোভিড রিপোর্ট সেসময় নেগেটিভ আসে৷

উল্লেখ্য, এর আগেও একবার গোমূত্র পান করা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন প্রজ্ঞা ঠাকুর। বছর দুই আগে, নিজেকে সাধ্বী বলে দাবি করা বিজেপির এই সাংসদ জানিয়েছিলেন যে, দুটি গোজাত দ্রব্যের সঙ্গে গোমূত্র মিশিয়ে পান করে তাঁর ক্যানসার নিরাময় হয়েছে৷ পরে যদিও তাঁর চিকিৎসক এই দাবি উড়িয়ে চিকিৎসাপদ্ধতির নথি প্রকাশ করেন সংবাদমাধ্যমে। শুধু প্রজ্ঞা ঠাকুরই নয়, বিজেপির অনেক সাংসদ, বিধায়কই করোনা তাড়াতে গোমূত্র পানের নিদান দিয়েছেন। কিছুদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সুরেন্দ্র সিংও দাবি করেছিলেন, গোমূ্ত্র পান করার ফলে তিনি করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত আছেন৷ অতিমারিতে সুস্থ থাকার জন্য তিনি সকলকে এক গ্লাস ঠান্ডা জলের সঙ্গে গোমূত্র পান করার পরামর্শও দেন৷

এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যেই দাবি করেছে, কোভিড নিরাময়ের ক্ষেত্রে গোবর বা গোমূত্রের কার্যকারিতার কোনও প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই৷ কোভিড প্রতিরোধে শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতেও এই দুইয়ের কোনও ভূমিকার কোনও বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ নেই বলে চিকিৎসকদের এই সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে৷ উল্লেখ্য, রাজ্যের বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষও নিজের গোমূত্র পানের কথা জানিয়েছিলেন। করোনা থেকে দূরে থাকতে তিনিও নিয়মিত গোমূত্র পান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।