করোনা কাড়ল ৫ মাসের একরত্তির প্রাণ! ‘সব হারালাম’ বলে কেঁদে উঠলেন বাবা

করোনা কাড়ল ৫ মাসের একরত্তির প্রাণ! 'সব হারালাম' বলে কেঁদে উঠলেন বাবা / প্রতীকী ছবি
করোনা কাড়ল ৫ মাসের একরত্তির প্রাণ! 'সব হারালাম' বলে কেঁদে উঠলেন বাবা / প্রতীকী ছবি

বয়স মাত্র মাস পাঁচেক! একরত্তি সেই শরীরে বাসা বেঁধেছিল মারণ ভাইরাস। মাত্র ৬ দিনের লড়াই! তারপরই সব শেষ! করোনা কেড়ে নিল ছোট্ট ‘পরী’র জীবন। তা দেখে বিহ্বল হয়ে পড়লেন বাবা। ডুকরে কেঁদে উঠতে উঠতে তাঁর মুখে শোনা যাচ্ছিল একটাই কথা, ‘সব হারালাম।’

পরীর বাড়ি দিল্লিতে। বাবা প্রহ্লাদ কাজ করতেন এলাকারই একটি কারখানায়। মাইনে ৯ হাজার টাকা। তবে গত বছর লকডাউনের পর থেকেই কাজ হারিয়ে ঘরে বসে তিনি। পরীর পাশাপাশি বছর দুয়েকের একটি ছেলেও রয়েছে তাঁর। প্রহ্লাদের কথায়, এ মাসের শুরু থেকেই জ্বরে পুড়ে যেতে থাকে পরীর গা। উপায়ন্তর না দেখে দিলশান গার্ডেনে শিশু হাসপাতালে মেয়েকে নিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে চাচা নেহরু বাল চিকিৎসালয়ে নিয়ে যাওয়া হলে কোভিড-১৯ ধরা পড়ে। এরপর জিটিবি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় পরীকে।

এরপর সেখানেই শুরু হয় পরীর চিকিৎসা। ৬ মে থেকে ভেন্টিলেটরেও রাখা হয়েছিল তাকে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ১২ মে করোনা কেড়ে নিল পরীকে। এরপর সেখান থেকেই ভেন্টিলেটর থেকে বের করে পরীকে নিয়ে যাওয়া হয় পূর্ব দিল্লির সীমাপুরী শ্মশানে। প্লাস্টিকে মোড়া ছোট্ট শরীরটি তুলে দেওয়া হয় শেষকৃত্যের দায়িত্বে থাকা জিতেন্দ্র সিংয়ে হাতে। পরীকে ধরে গত এক মাসে কোভিডে মৃত তৃতীয় শিশুর শেষকৃত্য হয় সীমাপুরী শ্মশানে। তবে তাদের মধ্যে পরীই ছিল সব থেকে কম বয়সী।

এদিকে বাড়িতে থাকা পরীর দু বছরের দাদা যেন কিছুতেই মানতে পারছে না বোনের মৃত্যু। অবশ্য এত বোঝার বয়সও হয়নি তার। বারবার জিজ্ঞেস করে চলেছে বোন কোথায়? কিন্তু কী উত্তর দেবেন বাবা! তাঁর চোখের জলও যে বাধ মানছে না। সমানে কাঁদতে কাঁদতে তিনি যে বলে চলেছেন ‘টাকা, মেয়ে… আমি যে সব হারিয়ে ফেললাম।’ সত্যিই যে পরী হারিয়ে গিয়েছে না ফেরার দেশে…