মায়ের শেষকৃত্য সেরে মুহূর্তেই অন্য রোগীর প্রাণ বাঁচাতে ছুটে গেলেন ২ চিকিৎসক!

মায়ের শেষকৃত্য সেরে মুহূর্তেই অন্য রোগীর প্রাণ বাঁচাতে ছুটে গেলেন ২ চিকিৎসক! / প্রতীকী ছবি
মায়ের শেষকৃত্য সেরে মুহূর্তেই অন্য রোগীর প্রাণ বাঁচাতে ছুটে গেলেন ২ চিকিৎসক! / প্রতীকী ছবি

দিনের পর দিন চড়ছে করোনার গ্রাফ। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের হারও। তবে দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতেও কিন্তু নিজেদের কাজ বন্ধ রাখেননি কোভিড-যোদ্ধারা। নিজেদের কাজ নিষ্ঠা ভরে ঠান্ডা মাথায় সামলে যাচ্ছেন তাঁরা। বিশেষ করে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের এখন বিন্দুমাত্রও সময় নেই অন্য কোনও দিকে তাকাবার। নিজেদের শত অসুবিধাকে তুচ্ছ করেই মানুষের সেবায় প্রতিনিয়ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন তাঁরা। সম্প্রতি সেরকমই দুই আত্মত্যাগের ঘটনা প্রকাশ্যে এল। যেখানে মায়ের শেষকৃত্য সেরে উঠেই মুহূর্তের মধ্যে অন্য রোগী দেখতে ছুটে গেলেন ২ চিকিৎসক।

নজিরবিহীন এই ঘটনা দুটির সাক্ষী দেশের অন্যতম রাজ্য, গুজরাট। সেখানে শারিরীক অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় চিকিৎসক রাহুল পারমারের মায়ের। ডাঃ রাহুল তখন কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় ব্যস্ত। কারণ কোভিড ব্যবস্থাপনায় নোডাল অফিসার তিনি। সেই সঙ্গে মৃতদেহ দাহ করার ব্যবস্থার দায়িত্বও তাঁর হাতে৷ তাই সেসব ফেলে বেশিক্ষণ মায়ের কাছে থাকা চলবে না। একটু ক্ষণের জন্য মাকে শেষ দেখা দেখে, মায়ের শেষকৃত্য করেই এক ঘন্টার মধ্যে তাঁকে ফিরে যেতে হয় তাঁর ডিউটিতে। যেখানে অন্যান্য কোভিড রোগীরা তাঁর চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। মায়ের জন্য এতটুকু চোখের জল ফেলারও সময় থাকে না ডাঃ রাহুলের।

অন্যদিকে, আরেক জায়গায় গত বৃহস্পতিবার মারা যান ডাক্তার শিল্পা প্যাটেলের মা। করোনা আক্রান্ত হয়ে সপ্তাহ খানেক ধরে ICU-তে ভর্তি ছিলেন তিনি। সেদিন রাতে তিনি মারা যাওয়ার পর মাকে শেষ দেখা টুকু দেখতেও প্রায় ৬ ঘন্টা সময় লেগে যায় মেয়ে শিল্পার৷ কারণ, এতক্ষণ তিনি অন্য রোগীদের চিকিৎসায় ব্যস্ত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সব সেরে এসেই মায়ের কাছে ফিরতে পারেন তিনি। তবে, শিল্পার কোনও আত্মগ্লানি নেই। কারণ, তাঁর মা-ই তাঁকে শিখিয়েছিলেন সব কিছুর আগে নিজের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। সেই কর্তব্যটুকুই মন দিয়ে পালন করছিলেন তিনি।

এই মুহূর্তে দেশের যা পরিস্থিতি, তাতে নিজেদের প্রতি খেয়াল রাখার সময়টুকুও পাচ্ছেন না চিকিৎসকরা। না দিতে পারছেন নিজের পরিবারকে একটু সময়। শত আঘাতেও আবেগে না ভেসে ঠান্ডা মাথায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যেতে হচ্ছে তাঁদের। আমাদের যে কোনও বিপদে ঝুঁকি নিয়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন তাঁরাই। তাঁদের সুরক্ষার কথাও আমাদের অবশ্যই ভাবা উচিৎ। তাই তাঁদের কষ্ট লাঘব করতে সামান্য কয়েকটি করোনা বিধি কি মেনে চলতে পারি না আমরা? পারি না কি এই করোনার হাত থেকে নিজেদেরই নিজেকে বাঁচাতে? আর একটু সাবধানে থাকতে? দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এগুলো যে আমাদেরও কর্তব্য!

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.