‘কার নির্দেশে কাজ বন্ধ? কারা এত বড় নেতা!’ হাওড়ায় ভূমি-দপ্তরের কাজে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর ধমক

'কার নির্দেশে কাজ বন্ধ? কারা এত বড় নেতা!' হাওড়ায় ভূমি-দপ্তরের কাজে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর ধমক
'কার নির্দেশে কাজ বন্ধ? কারা এত বড় নেতা!' হাওড়ায় ভূমি-দপ্তরের কাজে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর ধমক

হাওড়ায় ভূমি দপ্তরের কাজে বেশ ক্ষুব্ধ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে ভূমি দপ্তরের আধিকারিককে কড়া ধমকও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার অভিযোগ, ভূমি সংস্কারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার জন্য কিছু অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের রাখা হলেও, তাঁরা ২ বছর ধরে কাজ করেননি। কর্তারা কাজে দেরি করছেন। ফলে কাজ আটকে রয়েছে।

পুরভোটের আগেই এদিন হাওড়া জেলায় প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠক থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “হাওড়া জেলায় জমি নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। জেলা ভূমি দফতরের কর্তারা কাজ দেরিতে করছেন। খবর আছে, বিনিয়োগকারীদের জমি পেতে দেরি হচ্ছে। এসব বরদাস্ত করা হবে না।” পাশাপাশি, “কার নির্দেশে কাজ বন্ধ। কারা এত বড় বড় নেতা দেখি!” বলে ভূমি দপ্তরের আধিকারিককে ধমকও দেন। আধিকারিককে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, “আমার টার্গেট কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি। রাজ্যে দ্রুত শিল্পায়নই লক্ষ্য।” তাই দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

একইসঙ্গে এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা, হাওড়া জেলায় আগামী দু’বছরে প্রায় ৮০০-র বেশি সংস্থা তাদের ব্যবসা খুলবে। ১০ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এর ফলে ১ লক্ষ ১৬ হাজার কর্মসংস্থানের সু্যোগও হবে। এছাড়াও আগামী ১৪ ডিসেম্বর হাওড়ায় শিল্প বিষয়ক সিনার্জি হবে। হাওড়া শিল্পাঞ্চলে নতুন ফায়ার স্টেশন হবে বলেও ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

এরপর বৈঠকে Animal Resources Development-এর সচিব বিবেক কুমার জানান, বাংলার তরফে রাজ্যে ডেয়ারি শিল্প করা হচ্ছে। মাদার ডেয়ারি, মেট্রো ডেয়ারির পর এবার রাজ্য সরকার নিজের উদ্যোগে দুগ্ধজাত পণ্যের নতুন সংস্থা চালু করবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৫১২ আউটলেটের মাধ্যমে রাজ্যে ‘বাংলা ডেয়ারি’ প্রকল্প চালু করা হবে।

পাশাপাশি, কাশফুল দিয়ে কোনও শিল্প বানানো যায় কি না সে বিষয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বালাপোষ এবং বালিশ তৈরির কাজে কাশফুল ব্যবহার করা যাবে কি না, আধিকারিকদের তা দেখার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই কাশফুল উড়ে চলে যায়। কোনও কাজে লাগে না। কেমিক্যাল দিয়ে রিসার্চের ব্যাপার আছে কিনা জানি না। তবে কাজে লাগতে পারে। এগুলো সময়ে হয়, সময়ে ঝরে যায়। কিন্তু বালাপোশ, বালিশ হতে পারে এগুলো দিয়ে। যাঁদের সামর্থ্য আছে প্রচুর টাকা দিয়ে কিনবেন। সুতরাং ওই কাশফুলটাকে কেমন ভাবে ব্যবহার করা যায় তা দেখো।”