দেশে করোনার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য কম, কমল দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও

দেশে করোনার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য কম, কমল দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও
দেশে করোনার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য কম, কমল দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কাবু গোটা দেশ। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সমস্যার মুখে। এই মুহূর্তে দেশে ওঠানামা করছে করোনার গ্রাফ। কখনও কম তো পর মুহূর্তেই আবারও বেশি। প্রতিদিন নয়া রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যাতে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত দেশের বিভিন্ন রাজ্য। বিশ্বের মধ্যে করোনা সংক্রমণের নিরিখে একদম প্রথমে চলে এসেছে দেশ। যা নিয়ে সরকারের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। তবে এর মধ্যেই স্বস্তির খবর, দেশে সামান্য কমল দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ১৪৭ জন। রবিবার এই সংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ ৭২ হাজারেরও বেশি। এই বৃদ্ধির জেরে করোনায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৯ লক্ষ ২৫ হাজার ৬০৪ জন।

উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় এ বছর করোনা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, তা বলাই বাহুল্য। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে দ্রুত গতিতে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩,৪১৭ জনের। রবিবার এই সংখ্যাও ছিল বেশি। এ থেকেই স্পষ্ট যে, সোমবার সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা সামান্য কমেছে। দেশে এখনও পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৯৫৯ জনের।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাজয়ীর সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭৩২। তবে বাড়ল অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যা। এই মুহূর্তে দেশের সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৩৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৬৪২ জন। দেশে সুস্থতার হার ৮১.৮ শতাংশ। আর এখনও পর্যন্ত টিকাকারণ হয়েছে ১৫ কোটি ৭১ লক্ষ ৯৮ হাজার ২০৭ জনের।

উল্লেখ্য, দেশের মধ্যে করোনায় সবথেকে খারাপ অবস্থা মহারাষ্ট্র, কেরল, দিল্লি এবং কর্ণাটকের। সরকারি হিসেবে মহারাষ্ট্রে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ লক্ষ ২২ হাজার ৪০১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৭০,২৮৪ জনের৷ গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬,৬৪৭ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৬৬৯ জনের। কেরলে আক্রান্ত ১৬ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫,৪০৫ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৩১,৯৫৯ জন। কর্ণাটকে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ লক্ষ ১ হাজার ৮৮৬ জন আর মৃত্যু হয়েছে ১৬,০১১ জনের।

দেশের অন্যান্য রাজ্যের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। সব রাজ্যেই উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সংক্রমণ রুখতে কেন্দ্র সরকার গণটিকাকরণের ঘোষণা করেছে ইতিমধ্যেই। দেশিয় পদ্ধতিতে তৈরি কোভ্যাক্সিন এবং কোভিশিল্ড দিয়ে টিকাকরণের কাজ চলছিল এতদিন। তবে টিকাকরণের প্রক্রিয়ায় গতি বাড়াতে, এ মাসের শুরুতেই ভারতের হাতে এসেছে তৃতীয় ভ্যাকসিন–রাশিয়ার স্পুটনিক ভি। এবার এটিরও প্রয়োগ শুরু হবে। তবে, ১ মে থেকে দেশে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বদের টিকাদানের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, আপাতত ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত যোগান সব রাজ্যে না থাকায়, সেই কাজ স্থগিত রয়েছে।