ক্রমশ সুস্থতার পথে দেশ! গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ সামান্য বাড়লেও, নিম্নমুখী সক্রিয় রোগীর সংখ্যা

ক্রমশ সুস্থতার পথে দেশ! গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ সামান্য বাড়লেও, নিম্নমুখী সক্রিয় রোগীর সংখ্যা
ক্রমশ সুস্থতার পথে দেশ! গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ সামান্য বাড়লেও, নিম্নমুখী সক্রিয় রোগীর সংখ্যা / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ উৎসবের মরশুমে করোনা নিয়ে শুরু থেকেই বিশেষ সতর্ক ছিল কেন্দ্রের মোদী সরকার। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে জোর দেওয়া হয় করোনাবিধিতে। পাশাপাশি গতি বাড়ানো হয় টিকাকরণের উপরেও। যার সুফল মিলেছে হাতেনাতে। উৎসবের মরশুমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে দেশের করোনা সংক্রমণ। পাশাপাশি করোনার টিকাকরণে ১০০ কোটির লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে আর বেশি দূরে নেই দেশ। উৎসবের মুখে দেশের করোনা গ্রাফে স্বস্তি মিলেছে। এদিন করোনার দৈনিক সংক্রমণ সামান্য বাড়লেও স্বস্তি দিয়ে অনেকটাই কমেছে করোনার অ্যাকটিভ কেসও। যা স্বাস্থ্যমন্ত্রককে স্বস্তি দিচ্ছে।

বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৬২৩ জন। গতকালের থেকে সংক্রমণ সামান্য বেশি। গতকাল দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৫৮ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দেশের মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৪১ লক্ষ ৮ হাজার ৯৯৬ জন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের নয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯৭ জনে। গতকালের থেকে মৃত্যুর সংখ্যা সামান্য বেশি। গতকাল দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছিল ১৬৪ জন। এখনও পর্যন্ত দেশে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৫১ জন।

অন্যদিকে, দৈনিক সংক্রমণের পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় স্বস্তি দিয়েছে করোনার অ্যাকটিভ কেসও। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকার পাশাপাশি স্বস্তি দিচ্ছে করোনার নিম্নমুখী অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে দেশে করোনায় চিকিৎসাধীন রোগী ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯৮ জন। গত ২২৯ দিনে সর্বনিম্ন। এই সংখ্যা কোভিড গ্রাফে বড়সড় স্বস্তি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, করোনার বিরুদ্ধে আশার আলো দেখাচ্ছেন করোনাজয়ীরাই। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৪৪৬ জন। দৈনিক আক্রান্তের থেকে দৈনিক সুস্থতার সংখ্যা অনেকটাই বেশি। এনিয়ে দেশে মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা ৩ কোটি ৩৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ২৪৭ জন। সুস্থতার এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফেই স্পষ্ট, ভারত করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্রমশই এগোচ্ছে। বর্তমানে সুস্থতার হার ৯৮.১৫ শতাংশ।

টিকাকরণের গতি বাড়িয়ে সংক্রমণ ঠেকানোর প্রয়াস জারি রয়েছে দেশজুড়ে। তৃতীয় ঢেউ রুখতে পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে করোনা রোগীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি টিককরণেও জোর দিয়েছে কেন্দ্র। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত দেশে মোট এখনও পর্যন্ত দেশে মোট ৯৯ কোটি ১২ লক্ষ ৮২ হাজার ২৮৩ জন করোনার টিকা পেয়েছেন। এর মধ্যে গতকালই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে ৪১ লক্ষ ৩৬ হাজারের বেশি নাগরিককে। টিকাকরণের পাশাপাশি আগের মতোই চলছে টেস্টিংও।

উল্লেখ্য, করোনার টিকাকরণে ভারত ১০০ কোটির লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে খুব বেশি দূরে নেই। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের ১০০ কোটি জনগণকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রের মোদী সরকারের। এর পাশাপাশি তৃতীয় ঢেউ নিয়েও স্বস্তির খবর শুনিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ ফের শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের। কিন্তু সেই আশঙ্কা ক্রমশই কমছে। তৃতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা ভারতের নাও আসতে পারে।

উল্লেখ্য, ভাইরোলজিস্টদের একাংশের মতে, আর তত প্রভাব নেই কোভিড ১৯-এর। কড়া করোনাবিধি জারিই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, এই মুহূর্তে জোর দেওয়া হচ্ছে অ্য়ান্টিজেন টেস্টে। ফলে চলতি বছরের মধ্যে দেশের করোনা পরিস্থিতি আরও অনেকটাই ভাল বলে আশা সবমহলের। এদিকে, করোনার তৃতীয় ঢেউ আসুক বা না আসুক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ভারতের মতো দেশগুলির জন্য বুস্টার ডোজের সুপারিশ করেছে। বলা হয়েছে, যাঁদের কোমর্বিডিটি রয়েছে, তাঁদের ডবল ডোজের পরও বুস্টার ডোজ প্রয়োজন। যদিও এই সুপারিশ কার্যকর করতে হলে কেন্দ্রীয় নীতির পরিবর্তন দরকার। তাই আগে দুটি ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করতে চায় কেন্দ্র।