গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে দৈনিক সংক্রমণ সামান্য বাড়লেও, ১৮৬ দিনে সর্বনিম্ন অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে দৈনিক সংক্রমণ সামান্য বাড়লেও, ১৮৬ দিনে সর্বনিম্ন অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে দৈনিক সংক্রমণ সামান্য বাড়লেও, ১৮৬ দিনে সর্বনিম্ন অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আগে, দেশে করোনা গ্রাফে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ছে সংক্রমণ, আবার কখনও তা কমছে। এরই মধ্যে আবার সামনেই করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আবার কেরল, মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তবে, তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আগে, ফের একবার স্বস্তির খবর শোনাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। বুধবারের রিপোর্টে একধাক্কায় অনেকটা কমল সক্রিয় রোগীর সংখ্যা, তেমনই কমল আর ভ্যালু। এদিকে, তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় আশার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ৯৬৪ জন। গতকালের থেকে সংক্রমণ সামান্য বেশি। গতকাল দেশে করোনার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ১১৫ জন। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮৩ জন। এই সংখ্যাও গতকালের থেকে কিছু বেশি। গতকাল দেশে করোনায় দৈনিক মৃতের সংখ্যা ছিল ২৫২ জন। দেশে এখনও পর্যন্ত করোনার বলি ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭৬৮ জন।

শুধু দৈনিক সংক্রমণই নয়, দেশের কোভিড গ্রাফ ভালভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে, বুধবার অনেকটা কমেছে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা। ১৮৬ দিন পর এতখানি কমল সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে দেশে করোনায় চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৩ লক্ষ ১ হাজার ৯৮৯ জন।

করোনার বিরুদ্ধে আশার আলো দেখাচ্ছেন করোনাজয়ীরাই স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাকে পরাস্ত করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৪ হাজার ১৬৭ জন। এই হার ক্রমশই ঊর্ধ্বমুখী। দৈনিক আক্রান্তের থেকে দৈনিক সুস্থতার সংখ্যা অনেকটাই বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত দেশে করোনাকে পরাস্ত করে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৩ কোটি ২৭ লক্ষ ৮৩ হাজার ৭৪১ জন। তবে, কেরল চিন্তা চিন্তা এখনও জারি আছে। দেশের নতুন করোনা আক্রান্তের মধ্যে অর্ধেকর বেশিই কেরলের। কেরলের এই করোনা গ্রাফ তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা জাগাচ্ছে। তবে, সংক্রমণের লাগাম পরানো না গেলেও, করোনার ছোবল থেকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হচ্ছে অনেককেই।

সবথেকে বেশি স্বস্তি দিচ্ছে আর ভ্যালু বা রিপ্রোডাকটিভ নম্বর কমায়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগস্টের শেষে যেখানে আর ভ্যালু ছিল ১.১৭, সেখানে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সেই পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ০.৯২। এবার জেনে নেওয়া যাক কী এই আর ভ্যালু? একজন করোনা আক্রান্তের সংক্রমিত করার হার। যা একের উপরে থাকা মানে বেশ বিপজ্জনক। এবার তা অনেকটাই কমল। তবে মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুতে এখনও আর ভ্যালু একের থেকে বেশি বলেই জানা গিয়েছে। দিল্লি ও পুণেতে অবশ্য তা একের নিচে নেমেছে।

এদিকে, টিকাকরণের গতি বাড়িয়ে সংক্রমণ ঠেকানোর প্রয়াস জারি রয়েছে দেশজুড়ে। এখনও পর্যন্ত ৮২ কোটি ৬৫ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৫৪ জন মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়েছে। যার মধ্যে গতকালই টিকা পেয়েছেন প্রায় সাড়ে ৭৫ লক্ষের বেশি নাগরিক। তবে টিকাকরণের পাশাপাশি রোগী চিহ্নিত করতে অব্যাহত টেস্টিং প্রক্রিয়াও। ICMR-এর রিপোর্ট বলছে, গতকাল ১৫ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৯৫ টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।