ভোটের মুখে পদ্ম শিবিরে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ, ৪ আসনে প্রার্থী দেবে বিক্ষুব্ধরা

ভোটের মুখে পদ্ম শিবিরে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ, ৪ আসনে প্রার্থী দেবে বিক্ষুব্ধরা
ভোটের মুখে পদ্ম শিবিরে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ, ৪ আসনে প্রার্থী দেবে বিক্ষুব্ধরা / ফাইল ছবি

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূলের পর এবার রাজ্য বিজেপি শিবিরেও প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শনিবারই প্রথম দু’দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। আর সেই তালিকায় প্রার্থীদের অধিকাংশই দলীয় নেতা। ময়না থেকে ক্রিকেটার অশোক দিন্দা ছাড়া আপাতত বিজেপি শিবিরে তেমন কোনও তারকা প্রার্থী নেই।

তবে, এবার বিজেপির প্রকাশ করা প্রথম দু’দফার প্রার্থী তালিকা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে, পশ্চিম মেদিনীপুরের চারটি আসনে বিজেপির স্থানীয় নেতারা পৃথক মঞ্চ তৈরি করে, নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এর জন্য ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে সমন্বয় মঞ্চ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারই দিল্লিতে দলের সদর দফতরে নির্বাচনী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের রাজ্য স্তরের নেতারা। সেখানেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দুদফার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ার মতো একাধিক জেলায় জেলা সভাপতি, জেলা কমিটি, মণ্ডল কমিটিতে থাকা একাধিকজনকে নির্বাচনের প্রার্থী করা হয়েছে। আবার পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা একাধিক নেতাকেও প্রার্থী করা হয়েছে। আর এখানেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বিজেপির প্রার্থী তালিকা অনুসারে, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন রাজীব কুণ্ডু, গড়বেতায় মদন রুইদাস, খড়গপুর গ্রামীণে তপন ভুঁইয়া ও মেদিনীপুরে টাউনে খোদ জেলা সভাপতি শমিত দাস। এখানে অভিযোগ উঠছে যে, জেলা সভাপতি নিজে প্রার্থী হওয়া ছাড়াও আরও তিনটি কেন্দ্রে নিজের পছন্দের মানুষদের টিকিট পাইয়ে দিয়েছেন। সেই কারণেই স্থানীয় নেতৃত্বের একটা বড় অংশ দল ছেড়ে আলাদাভাবে নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গিয়েছে যে, নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশের দিনই এ বিষয়কে কেন্দ্র করে বৈঠকে বসেছিলেন ওই নেতারা। শালবনির জয়পুরে এই বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পরেই প্রায় ৫০০ জন বিজেপি নেতা-কর্মী দল ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে হাজির ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন জেলা সহ-সভাপতি প্রদীপ লোধা, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতা ঋজু কারক ও কুড়মি সমন্বয় মঞ্চের বেশ কয়েকজন নেতা। এদের মূল অভিযোগ, দল যাঁদের প্রার্থী করেছে, তাঁদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনও সংযোগ নেই। তাই দল ছেড়ে আলাদা করে পার্থি দিতে চান তাঁরা।

এদিকে রবিবারই রাজ্যে এসে সোনার বাংলা গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্রিগেডের সমাবেশ থেকেই দাবি তুলেছেন, এবার হবে আসল পরিবর্তন, আর কোনও অন্যায় নয়। দিদির খেলা এবার শেষ হবে। আবার এই সমাবেশে মিঠুন চক্রবর্তীকে দলে এনে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও ইঙ্গির আগেই ছিল।

এসবের মধ্যে জেলাস্তরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে যেভাবে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে, তাতে ক্রমশ বিড়ম্বনা বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর, যখন ক্ষোভ, বিক্ষোভ দেখা দেয়, তখন তা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি রাজ্য বিজেপি। এবার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বিজেপি শিবিরেও। যার জেরে আলাদা দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া অবধি গড়িয়েছে জল।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.