৪ কিলোমিটারের দূরত্বে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া অস্বাভাবিক! অতিমারিতে অসহায়কে লুটছে দিল্লির কালোবাজারি

৪ কিলোমিটারের দূরত্বে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া অস্বাভাবিক! অতিমারিতে অসহায়কে লুটছে দিল্লির কালোবাজারি
৪ কিলোমিটারের দূরত্বে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া অস্বাভাবিক! অতিমারিতে অসহায়কে লুটছে দিল্লির কালোবাজারি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনা কতো কিছুই দেখাচ্ছে। পরিস্থিতি কতো খারাপ হতে পারে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে করোনা অতিমারি। এই চিত্রটা কম-বেশি সর্বত্র একই। হাসপাতালে বেডের অভাব, অক্সিজেনের অভাব, ওষুধের আকাল, অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যু এসব এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি এই কোথাও মাঝপথেই রোগীকে ফেলে রেখে পালাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সের গাড়ির চালক কোথাও আবার রোগীকে হাসপাতাল পৌঁছাতে অস্বাভাবিক ভাড়া দাবি করছেন চালকরা। এর পাশাপাশি কালোবাজারিও শুরু হয়ে গেছে কিছু কিছু জায়গায় এই অতিমারি পরিস্থিতিতেও। যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক এবং লজ্জার।

তা এই একটা অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া কত হতে পারে? এই প্রশ্নটা করলে অবশ্যই উত্তর এক আসবে না। রাজ্যভেদে ভাড়া এক না হওয়াটাই স্বাভাবিক। একেক রাজ্যে এক এক রকম ভাড়া হয়ে থাকে অ্যাম্বুলেন্সের। তবে, তা বলে, ৪ কিলোমিটার দুরত্বের ভাড়া ১০,০০০? এটা সত্যি অস্বাভাবিক! তবে, এমন ঘটনাই ঘটেছে বর্তমান অতিমারি পরিস্থিতিতে। আর এই ঘটনা খোদ রাজধানী দিল্লিতেই ঘটেছে।

এমনিতেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কার্যত বেহাল অবস্থা দিল্লির। ব্যাপকহারে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। রাজধানীতে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৪,২৩৫ জন। এই পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। ঠিক অক্সিজেনের মতোই। ইতিমধ্যেই অক্সিজেনের অভাবে রাজধানী দিল্লিতে বহু করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, রাজধানী দিল্লির বুকে শুরু হয়ে গেছে কালোবাজারি। সম্প্রতি IAS অফিসার অরুণ বোথরা নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে তেমনই একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন, উদাহরণ স্বরূপ।

তিনি জানিয়েছেন, যে প্রীতমপুরা থেকে ফর্টিস হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার, কিন্তু ওইটুকু পথ যেতেই ডিকে অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস বিল করেছে ১০ হাজার টাকার! সেই অস্বাভাবিক বিলের ছবি তিনি আপলোড করেছেন নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে। তিনি লিখেছেন যে, ‘সারা বিশ্ব এখন আমাদের দেখছে, শুধুমাত্র ধ্বংসযজ্ঞই নয়, দেখছে আমাদের নৈতিক মূল্যবোধগুলিও।’

বোথরার এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছে মুহূর্তের মধ্যেই। এই পোস্টে ১৯ হাজারের মতো কমেন্ট এসেছে, লাইক হয়েছে ৬১ হাজার! কমেন্টে অনেকেই জানিয়েছেন যে, তাঁরাও কালোবাজারির শিকার হয়েছেন। অনেকে লিখেছেন যে, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর যেখানে খুব বেশি হলে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে যায়, সেটাই তাঁদের কিনতে হয়েছে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে!

এই প্রসঙ্গে আপাতত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছে একটাই আবেদন জনতার- তাঁর সরকার যেন এই সব ভাড়া এবং জিনিসপত্রের দাম বেঁধে দেয়! এখন এটাই দেখার যে, দিল্লির সরকার তাঁদের সেই আবেদন মেনে, দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন কিনা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.