বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! বর্ধমানের জামালপুরে আজও ১ টাকায় মিলছে মুখরোচক চপ-সিঙারা

০৩:৫১ পিএম, জুলাই ২৪, ২০২১

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! বর্ধমানের জামালপুরে আজও ১ টাকায় মিলছে মুখরোচক চপ-সিঙারা

দিনের পর দিন ক্রমশই চড়ছে মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ। পেট্রোপণ্যের দামের সঙ্গেই বাড়ছে ভোজ্যতেল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বা আনাজের মূল্য৷ বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে ১ টাকায় এখন আর প্রায় কিছুই জোটে না। কিন্তু এই সময়ে দাঁড়িয়েও মাত্র ১ টাকাতেই যদি পাওয়া যায় মুখরোচক চপ-সিঙারা? হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! জামালপুরের পাঁচড়ার চপ ব্যবসায়ী হিমাংশু সেন এই বাজারেও মাত্র একটাকায় বিক্রি করছেন মুখরোচক সব তেলেভাজা!

প্রায় ৩০ বছর ধরে তেলেভাজা বিক্রি করছেন জামালপুরের পাঁচড়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা হিমাংশুবাবু। বাড়ির কাছে তাঁর ছোট্ট তেলেভাজার দোকান। আর সেই দোকানে মাত্র ১ টাকা ফেললেই মিলবে গরম গরম চপ, সিঙারা, ফুলুরি, বেগুনি বা ভেজিটেবল চপ। প্রতিদিন দুপুর তিনটেয় খোলে সে দোকান। ঝাঁপ বন্ধ হয় ন'টার পর। সারাদিন দোকানে খরেদ্দের আনাগোনা লেগেই থাকে। তাই দোকান সামলাতে হিমাংশুবাবুর স্ত্রী বন্দনাদেবী, ছেলে কাশীনাথ ও পুত্রবধূ শম্পাও চপ ভাজার কাজে হাত লাগান।

শুধু তেলেভাজাই নয়, হিমাংশুবাবুর সেই দোকানে বিক্রি হয় ঘুগনি, রসগোল্লা, পান্তুয়া, ল্যাংচা ও মাখা সন্দেশও। চপের দাম ১ টাকা হলেও ঘুগনির মূল্য প্লেটপ্রতি ২ টাকা। দোকানে প্রতিদিন প্রায় ১০ কেজি বেসনের চপ বিক্রি হয়। সঙ্গে এক বস্তা আলু, পাঁচ কেজি মটর, হাজার টাকার সরষের তেলও লাগে। সবমিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০০ টাকার মতো খরচ করতে হয়। চপ ও ঘুগনি বিক্রি করে গড়ে প্রতিদিন ৫০০-৭০০ টাকা লাভ থাকে৷ সেই টাকাতেই চলে সংসার।

[caption id="attachment_23579" align="alignnone" width="1000"]অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! বর্ধমানের জামালপুরে আজও ১ টাকায় মিলছে মুখরোচক চপ-সিঙারা অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! বর্ধমানের জামালপুরে আজও ১ টাকায় মিলছে মুখরোচক চপ-সিঙারা[/caption]

চপ বিক্রি করেই হিমাংশুবাবুর আর্থক স্বচ্ছলতা অনেকের কাছেই ঈর্ষার কারণ। মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করে তিন বছর আগে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও দোকানের লাভের টাকা জমিয়েই ঝাঁ চকচকে বাড়ি বানিয়েছেন। সম্প্রতি চপের দোকানের লাগোয়া একটি নতুন দোতলা বাড়িও তৈরি করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর এই কর্মকাণ্ড এলাকার বেকারদেরও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।

কিন্তু এই অগ্নিমূল্যের বাজারে দাঁড়িয়েও এত সস্তায় কীভাবে চপ বিক্রি করতে পারেন তিনি? এই প্রশ্নের উত্তরে হিমাংশুবাবুর জবাব, ন্যূনতম মূল্যে অধিক বিক্রিই তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এলাকার গরিব, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরাই নিয়মিত তাঁর দোকান থেকে চপ ও ঘুগনি কেনেন। দোকানটি শুরু করেছিলেন তাঁর বাবা। সে সময় এলাকার আর্থিক পরিস্থিতির কথা ভেবে মাত্র ৮০ পয়সায় চপ বিক্রি করা শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর হিমাংশুবাবু এখন ১ টাকায় চপ এবং ২ টাকায় ঘুগনি বিক্রি করেন। দাম কম তাই বিক্রিবাটাও বেশ ভালোই হয়৷ লাভের পরিমাণও ভালো উঠে আসে। এভাবেই স্বল্পমূল্যে ক্রেতাদের মন ভরিয়ে নিজের দোকান চালিয়ে যেতে চান বলেও জানিয়েছেন হিমাংশুবাবু।