দেশের সুরক্ষার স্বার্থে এবার ধৃত ৩ জামাত জঙ্গিকে জেরা করতে চায় NIA

দেশের সুরক্ষার স্বার্থে এবার ধৃত ৩ জামাত জঙ্গিকে জেরা করতে চায় NIA
দেশের সুরক্ষার স্বার্থে এবার ধৃত ৩ জামাত জঙ্গিকে জেরা করতে চায় NIA / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ শনিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজন জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স বা STF। এরা সকলেই নব্য জেএমবি সদস্য বলে প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের। জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এরা ডেরা বেঁধেছিল কলকাতায়। ভুয়ো পরিচয়পত্র দাখিল করায়, বাড়িভাড়া পেতেও খুব একটা সমস্যা হয়নি। এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশের STF। গ্রেফতার হয় তিন জেএমবি জঙ্গি।

এবার এই তিন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ সংগঠনের জঙ্গিকে দেশের সুরক্ষার স্বার্থে জেরা করতে চায় এনআইএ। আজ অথবা আগামিকাল লালবাজারে গিয়ে ধৃতদের জেরা করতে চান জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। আর তাই এ ব্যাপারে সম্ভবত কলকাতা পুলিশের STF এর সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে ইতিমধ্যেই তদন্তে জানা গিয়েছে যে, মালদহ ও বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে এরাজ্যে প্রবেশ করেছে জেএমবি জঙ্গিরা। উল্লেখ্য, প্রায় আড়াই বছর আগে এই শহরে ঘাঁটি গাড়ে নাজিউর রহমান ওরফে জোসেফ ওরফে জয়রাম ব্যাপারী। অন্যদিকে, ২ মাস নয়, ধৃত অপর জঙ্গি মিকাইল খান ওরফে শেখ সাবির প্রায় তিন বছর ধরে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে এই শহরে।

তবে, দেড় মাস আগে বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে এ রাজ্যে অনুপ্রবেশ করে জঙ্গি রবিউল ইসলাম। অর্থাৎ যখন বিধি-নিষেধের কড়া নিয়মে কার্যত ঘরবন্দি ছিল জনজীবন, সেই সময় সীমান্ত পার করে এ রাজ্যে ঢুকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে, কলকাতায় আসে রবিউল। এছাড়াও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, ভারতে প্রবেশ করেছে জামাতের ১৫ জনের একটি দল। সীমান্ত টপকে এ রাজ্যে অনুপ্রবেশের পর ওড়িশা এবং কাশ্মীরে চলে গিয়েছে বেশ কয়েকজন জঙ্গি। এই গোটা ঘটনার সঙ্গে যেহেতু দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থার বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, তাই এবার স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ধৃত জঙ্গিদের জেরা করতে চাইছেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা।

এদিকে তিন জামাত জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হলেও, এখনও পলাতক এ রাজ্যে JMB অন্যতম শীর্ষ হ্যান্ডলার সেলিম মুন্সী। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা একপ্রকার নিশ্চিত, সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পালিয়েছে সেলিম। এখন তাঁর নাগাল পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশের STF। জানা গিয়েছে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে হরিদেবপুরের এলাকায় বাস করছিল এই সেলিম মুন্সী। এ রাজ্যে আসা জামাতের স্লিপার সেলের সদস্যদের আশ্রয় দেওয়া, তাদের ভুয়ো পরিচয় পত্র তৈরি করে দেওয়ার মতো কাজ করত সে। কলকাতা পুলিশের STF-এর গোয়েন্দাদের মত, সেলিম মুন্সীকে ধরতে পারলে, সেটা বড় সাফল্য হবে। পাশাপাশি আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ধৃতদের কাছ থেকে জেহাদি বই, মোবাইল, রহস্যজনক ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। এই ধৃতদের কাছে যে ডায়েরি পাওয়া গিয়েছে, তাতে এক জেএমবি নেতার নম্বরও পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। এই তিন অভিযুক্তর কাছে কাছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সহ নানা নথিপত্র পাওয়া গিয়েছে। যদিও সেগুলি আসল না নকল তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আবার ধৃত তিন জঙ্গির মোবাইল থেকেও প্রচুর তথ্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে বেশ কয়েকজন জেএমবি শীর্ষ নেতার ফোন নম্বর। তাঁরা এও জানতে পেরেছেন যে, ধৃত জোসেফ ওরফে নাজিউর রহমানের নামে আগেও বহু কেস ছিল। এর আগে সে তিন বছর জেল খেটেছে। এখানেই শেষ নয়, জেএমবি শীর্ষ নেতা আল আমিনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। বাংলাদেশের জেল থেকে জোসেফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত ওই জঙ্গি নেতা। গোয়েন্দাদের মুল মাথাব্যথার কারণ এখন একটাই, তাঁদের প্রশ্ন আবার জেএমবি স্লিপার সেলের সদস্যদের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার পেছনে কি নতুন কোনও অ্যাসাইনমেন্ট ছিল? যার দায়িত্ব এদের দেওয়া হয়েছিল! এরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।