বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

৮৩ তেই চলে গেলেন রবিশঙ্করের ‘লয়ের পুতুল’ পণ্ডিত বিরজু মহারাজ! শোকাহত সংস্কৃতি জগত

১০:০৭ এএম, জানুয়ারি ১৭, ২০২২

৮৩ তেই চলে গেলেন রবিশঙ্করের ‘লয়ের পুতুল’ পণ্ডিত বিরজু মহারাজ! শোকাহত সংস্কৃতি জগত

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ চলে গেলেন কত্থকের ‘মহারাজ’! পণ্ডিত রবিশঙ্কর তাঁর নাচ দেখে বলেছিলেন, ‘তুমি তো লয়ের পুতুল’! সেই ‘লয়ের পুতুল’-এর জীবন থেমে গেল ৮৩ তেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী পণ্ডিত বিরজু মহারাজ। রবিবার রাতে নাতির সঙ্গে খেলতে খেলতেই আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে হাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা করা যায়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। শিল্পীর প্রয়াণে শোকাহত নৃত্য জগৎ। সম্প্রতি তাঁর কিডনির অসুখ ধরা পড়েছিল। ডায়ালিসিসও চলছিল বলে জানা গিয়েছে।

পণ্ডিত বিরজু মহারাজের জন্ম ১৯৩৮ সালে লখনউয়ের বিখ্যাত কত্থকের ‘মহারাজা’ পরিবারে। তাঁর আসল নাম পণ্ডিত বৃজমোহন মিশ্র। সাত পুরুষ ধরে তাঁদের পরিবারে কত্থক নাচের চর্চা। কত্থক নৃত্যের জগতে তাঁর পরিবারের সুনাম বহু দিনের। বাবা অচ্চন মহারাজের কাছেই প্রথম নাচের তালিম শুরু বিরজু মহারাজের। পরে কাকা লচ্ছু মহারাজ ও শম্ভু মহারাজের কাছেও নাচ শেখেন। তবে, শুধু নাচ নয়, পণ্ডিত বিরজু মহারাজ তবলা এবং কণ্ঠসঙ্গীতেও সমান পারদর্শী ছিলেন। ভাল ছবিও আঁকতেন।

https://twitter.com/mygovindia/status/1482914830550183937

ভাগ্যের পরিহাসে কিশোর বয়সেই বাবাকে হারান বিরজু মহারাজ। এরপর তিনি নাচকেই জীবনের লক্ষ্য করে নেন। শহর কলকাতার সঙ্গে ছিল তাঁর নিবিড় যোগ। তাঁর। এই শহরেই নাকি প্রথম দর্শকদের সামনে পারফর্ম করেছিলেন। ১৯৫২ সালে এই শহরেই জীবনে প্রথম মঞ্চে পারফর্ম করেন। মন্মথ নাথ ঘোষের বাড়িতে। ১৪ বছর বয়স থেকেই নাচের তালিম দিতে শুরু করেন বিরজু মহারাজ। সেই বয়সেই দিল্লির সংগীত ভারতীতে শেখাতেন তিনি। পরে দিল্লির ভারতীয় কলা কেন্দ্র এবং কত্থক কেন্দ্রতেও শেখাতে শুরু করেন। পরে, নিজের নাচের স্কুল ‘কলাশ্রম’ খুলেছিলেন তিনি।

শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একাধিক ধারার সঙ্গে যেমন যুক্ত ছিলেন, তেমনই বহু ছবিতে কোরিওগ্রাফারের কাজও করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সত্তর দশকের মাঝামাঝি সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’-র কোরিওগ্রাফি। ছবিতে দুটো গানের কোরিওগ্রাফি করেন। তার মধ্যে একটা ছিল ‘কানহা মে তোসে হারি’। গানটার সঙ্গে ছিল আমজাদ খানের অভিনয়। অন্যদিকে, ২০০২ সালে সঞ্জয় লীলা বনশালি পরিচালিত ‘দেবদাস’ ছবিতে ‘কাহে ছেড়ে মোহে’ গানে মাধুরী দীক্ষিতকে নাচ শিখিয়েছিলেন। পেয়েছিলেন সংগীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার। পদ্ম বিভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। ২০১২ সালে বিশ্বরূপম ছবিতে কোরিওগ্রাফির জন্য তাঁকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।

প্রিয় ‘পণ্ডিতজি’কে হারিয়ে শোকাহত তাঁর অনুরাগীরা। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কত্থক কিংবদন্তিকে। দেশ-বিদেশে বহু অনুষ্ঠান করেছেন পণ্ডিত বিরজু মহারাজ। দেশ এবং দেশের বাইরেও রয়েছে প্রচুর ছাত্রছাত্রী। নিজের শিল্পকর্ম এবং শিক্ষার মধ্যে দিয়েই অমরত্ব লাভ করবেন ‘লয়ের পুতুল’ পণ্ডিত বিরজু মহারাজ।