কুসংস্কারের বলি ৬ বছরের শিশু! আল্লাহকে খুশি করতে, নিজের ছেলের গলা কেটে খুন করল মা!

কুসংস্কারের বলি ৬ বছরের শিশু! আল্লাহকে খুশি করতে, নিজের ছেলের গলা কেটে খুন করল মা!
কুসংস্কারের বলি ৬ বছরের শিশু! আল্লাহকে খুশি করতে, নিজের ছেলের গলা কেটে খুন করল মা!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিজ্ঞানের যতোই অগ্রগতি হোক, মানুষের জীবনযাত্রার মানে যতোই আধুনিকতার ছোঁয়া লাগুক না কেন, আজও সমাজের একটা বৃহৎ অংশ কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাসের বেড়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে পারেনি। কখনও কখনও তো এমনও দেখা গেছে যে, শিক্ষিত হয়েও মানুষ অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কারের জালে জড়িয়ে গেছে। কুসংস্কার কোনও ধর্ম, বর্ণ, জাত-পাত মানে না।

কুসংস্কার যে কী সাংঘাতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তারই প্রমাণ দেখা গেল ফের একবার। এবার স্থান কেরল। আল্লাহকে খুশি করতে হবে। শুধুমাত্র এই অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে, নিজের ৬ বছরের ফুটফুটে সন্তানের গলা কেটে খুন করল খোদ মা। যে ‘মা’-এর আঁচলের তলায় সন্তান সবথেকে নিরাপদ বোধ করে। যে মা সন্তানকে এই পৃথিবীর আলো দেখান, হাজারো কষ্ট সহ্য করে। সেই মাই সন্তানকে শুধুমাত্র ভিত্তিহীন অন্ধবিশ্বাসের কারণে খুন করে বসল।

নিজের সন্তানকে খুন করার পর, সেই মা নিজেই আবার এমারজেন্সি নম্বর ১২২ নম্বরে ফোন করে, সবটা জানায় পুলিশকে। নির্মম এবং ভয়ঙ্কর এই ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার কেরলের পালাক্কড়ে। জানা গিয়েছে যে, অভিযুক্ত মহিলার নাম শাহিদা। সে নিজে একটি মাদ্রাসার শিক্ষিকা। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অনেক দিন আগেই সুলেমান নামে এক যুবকের সঙ্গে শাহিদার বিয়ে হয়। সুলেমান এবং শাহিদার তিন সন্তানও রয়েছে। এমনকি শাহিদা চতুর্থ বারের জন্য সন্তানসম্ভবাও হন।

অন্যদিকে শাহিদার স্বামী আগে উপসাগরিয় এলাকায় কাজ করলেও, বর্তমানে তিনি অটো চালান। ঘটনার দিন তিনিও বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু তা স্বত্ত্বেও কিছুই টের পাননি।

পুলিশ সূত্রের খবর, রবিবার ভোর ৩ টে থেকে ৪ টের মধ্যে ওই খুনের ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় শাহিদার স্বামী এবং অন্য দুই সন্তান ঘরে ঘুমোচ্ছিল। যে ৬ বছরের ছেলেটি খুন হয়েছে, সে তার মা শাহিদার সঙ্গেই শুয়ে ছিল। প্রথমে শাহিদা ঘুমন্ত ছেলেকে তুলে বাথরুমে নিয়ে যায়। তারপর তার পা বেঁধে গলার নলি কেটে খুন করে।
এরপর নিজেই সে পুলিশকে ফোন করে সবটা খুলে বলে।

খবর পেয়েই, সাততাড়াতাড়ি ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান পুলিশ আধিকারিকরা। তাঁরা দেখেন, শিশুটির দেহ বাথরুমে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই ঘটনার পর, শাহিদার দাবি, আল্লাহকে খুশি করতেই সে এই ভয়ঙ্কর কাজ করেছে। শাহিদার বক্তব্য রীতিমতো অবাক করেছে পুলিশ আধিকারিকদেরও। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, একজন মা কীভাবে নিজের সন্তানকে এভাবে অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে প্রাণে মেরে ফেলতে পারে?